Wa `uridoo `alaa Rabbika saffaa, laqad ji`tumoonaa kamaa khalaqnaakum awala marrah; bal za`amtum allannaj`ala lakum maw`idaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
सबके सब तुम्हारे परवरदिगार के सामने कतार पे क़तार पेश किए जाएँगें और (उस वक्त हम याद दिलाएँगे कि जिस तरह हमने तुमको पहली बार पैदा किया था (उसी तरह) तुम लोगों को (आख़िर) हमारे पास आना पड़ा मगर तुम तो ये ख्याल करते थे कि हम तुम्हारे (दोबारा पैदा करने के) लिए कोई वक्त ही न ठहराएँगें
তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
وَعُرِضُوا — তাদের উপস্থিত করা হবে, পেশ করা হবে।
صَفًّا — সারিবদ্ধভাবে, কাতারবদ্ধ হয়ে।
زَعَمْتُمْ — তোমরা ধারণা করেছিলে, মনে করেছিলে।
مَوْعِدًا — প্রতিশ্রুত সময়, পুনরুত্থানের নির্ধারিত স্থান ও কাল।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষকে তাদের রবের সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত করা হবে—কেউ কারো আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারবে না, কোনো প্রকার সুপারিশ বা বাহানা সেদিন কাজে আসবে না। তখন তাদের বলা হবে: “তোমরা আমার কাছে এমনিভাবে ফিরে এসেছ, যেমনটি আমি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম—একাকী, খালি হাতে, কোনো সম্পদ বা সন্তান-সন্ততি সঙ্গে না নিয়ে। তোমাদের দেহ-পোশাক, ধন-সম্পদ, ক্ষমতা—সবকিছু পেছনে ফেলে এসেছ। অথচ তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদের জন্য কোনো নির্ধারিত সময় রাখিনি, যেখানে তোমাদের পুনরুত্থিত করে হিসাব নেওয়া হবে। আজ সেই মিথ্যা ধারণার পরিণতি তোমরা চোখে দেখছ।”
আয়াতটি পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের প্রতি তিরস্কারস্বরূপ, যারা ভাবত মৃত্যুর পর আর কোনো জীবন নেই, কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। তাদের সে ভ্রান্ত ধারণা সেদিন সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হবে এবং তারা নিজ চোখে দেখবে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য ছিল।
শিক্ষা ও উপদেশ:
এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং মৃত্যুর পর আমাদের সকলকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। তাই দুনিয়ার মোহে বিভ্রান্ত না হয়ে আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মানুষ যখন একাকী, খালি হাতে আল্লাহর দরবারে হাজির হবে, তখন তার কোনো বাহ্যিক সম্পদ বা আত্মীয়-স্বজন কাজে আসবে না। একমাত্র ঈমান ও নেক আমলই সেদিনের পাথেয়।
পুনরুত্থানকে অস্বীকার করা একটি মারাত্মক ভুল, যা মানুষকে আল্লাহর বিধান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যারা একে বিশ্বাস করে, তারা জীবনের প্রতিটি কাজে সতর্ক থাকে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে।
আল্লাহর রহমত ও ন্যায়বিচার উভয়ই এই আয়াতে প্রকাশ পায়। তিনি যেমন দয়ালু, তেমনি তিনি ন্যায়বিচারকও। প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান এবং প্রতিটি মন্দ কাজের হিসাব অবশ্যই হবে—এটিই প্রকৃত সুবিচার।
এই আয়াত আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনে বিনয়ী ও সতর্ক থাকতে শেখায়। মনে রাখতে হবে, আমরা এখানে চিরস্থায়ী নই; আমাদের আসল ঠিকানা আখিরাত। তাই এমন জীবন গড়তে হবে, যেন আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় আমরা লজ্জিত না হই।
তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।
আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।
যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।