আশ-শুরা · 13/53
অনুবাদ উচ্চারণ — আশ-শুরা
۞ شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ۚ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ ۚ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ ۝١٣
Shara`a lakum minad deeni maa wassaa bihee Noohanw wallazeee awhainaaa ilaika wa maa wassainaa biheee Ibraaheema wa Moosa wa `Eesaaa an aqeemud adeena wa laa tatafarraqoo feeh; kabura `alal mushrikeena maa tad`oohum ilaih; Allaahu yajtabee ilaihi many yashaaa`u wa yahdeee ilaihi mai yuneeb
📖 বাংলা অর্থ
তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মূশরেকদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আমন্ত্রণ জানান, তা তাদের কাছে দুঃসাধ্য বলে মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে পথ প্রদর্শন করেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شَرَعَ — বিধান দিয়েছেন, নির্ধারণ করেছেন, পথ দেখিয়েছেন।
  • وَصَّى — আদেশ করেছেন, অসিয়ত করেছেন।
  • أَقِيمُوا الدِّينَ — দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করো, অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁরই ইবাদতের উপর অবিচল থাকো।
  • لَا تَتَفَرَّقُوا — বিভেদ সৃষ্টি করো না, মতভেদে লিপ্ত হয়ো না।
  • كَبُرَ — কঠিন মনে হলো, ভারী হলো।
  • يَجْتَبِي — মনোনীত করেন, বেছে নেন।
  • يُنِيبُ — প্রত্যাবর্তন করে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

তাফসীর:

হে মানবজাতি! আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সেই দ্বীনই নির্ধারণ করেছেন, যা তিনি নূহ (আঃ)-কে অসিয়ত করেছিলেন এবং যা তিনি তোমাদের (হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) প্রতি ওহী হিসেবে নাজিল করেছেন। আর একই দ্বীনের অসিয়ত করা হয়েছিল ইবরাহীম (আঃ), মূসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ)-কে। এই পাঁচজন মহান রাসূল হলেন ‘উলুল আযম’ বা দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী নবীগণ। তাঁদের সবার কাছে মূল বাণী একটিই ছিল—তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করো, অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করো, শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই আনুগত্যের উপর অটল থাকো। আর এই দ্বীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করো না। অর্থাৎ মূল বিশ্বাস ও ইবাদতের ক্ষেত্রে একই পথে অবিচল থাকো, মতানৈক্য ও ফেরকাবন্দিতে লিপ্ত হয়ো না।

কিন্তু হে নবী! আপনি মুশরিকদেরকে যে তাওহীদের পথে ডাকছেন—যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্যকে বাদ দিয়ে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে বলা হচ্ছে—এই ডাক তাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন ও ভারী মনে হচ্ছে। কারণ তারা তাদের পূর্বপুরুষদের শিরকী রীতিনীতি ছাড়তে প্রস্তুত নয়। তবে হে রাসূল! আপনি তাদের এই প্রতিক্রিয়ায় হতাশ হবেন না। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের ইচ্ছানুযায়ী যাকে চান তাকে এই তাওহীদের পথে মনোনীত করেন এবং যারা আন্তরিকভাবে তাঁর দিকে ফিরে আসে, তাওবা করে, তাদেরকে তিনি হিদায়াত দান করেন। হিদায়াত আল্লাহর হাতেই, মানুষের ইচ্ছা বা চেষ্টার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নয়।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. ইসলাম কোনো নতুন ধর্ম নয়; বরং এটি সেই একই দ্বীন, যা আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সকল নবী-রাসূলের মাধ্যমে প্রচারিত হয়ে এসেছে। তাই ইসলামের প্রতি অনুসরণ করা মানে সকল নবীর পথকে অনুসরণ করা।
  2. সকল নবী-রাসূলের মূল বাণী একটিই ছিল—তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে মেনে চলা আবশ্যক।
  3. দ্বীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মূল বিষয়গুলোতে ঐক্য বজায় রাখা এবং গৌণ বিষয়ে মতপার্থক্যকে সহনশীলতার সাথে মোকাবিলা করা আমাদের কর্তব্য।
  4. সত্যের পথে আহ্বান করলে অনেক সময় মানুষের পক্ষ থেকে বিরোধিতা ও কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, যেমনটি মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি করেছিল। কিন্তু এতে হতাশ না হয়ে আমাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।
  5. হিদায়াত পাওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর অনুগ্রহ। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে হিদায়াত প্রার্থনা করা এবং নিজেদেরকে তাঁর দিকে ফিরিয়ে আনা—তাওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে। আল্লাহ যাকে চান তাকে মনোনীত করেন, কিন্তু তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, যারা তাঁর দিকে আন্তরিকভাবে ফিরে আসে, তাদেরকে তিনি পথ দেখান।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 11-15 — আশ-শুরা

11فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا ۖ يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ ۚ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।
12لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আকাশ ও পৃথিবীর চাবি তাঁর কাছে। তিনি যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।
13۞ شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ۚ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ ۚ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ
তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মূশরেকদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আমন্ত্রণ জানান, তা তাদের কাছে দুঃসাধ্য বলে মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে পথ প্রদর্শন করেন।
14وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى لَّقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِن بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা পারস্পরিক বিভেদের কারণে মতভেদ করেছে। যদি আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ফয়সালা হয়ে যেত। তাদের পর যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তারা অস্বস্তিকর সন্দেহে পতিত রয়েছে।
15فَلِذَٰلِكَ فَادْعُ ۖ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ ۖ وَقُلْ آمَنتُ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِن كِتَابٍ ۖ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ ۖ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ ۖ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ
সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীRevelation
13আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 13

সূরা আশ-শুরা আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার…

সূরা আয়াত 13/53 — আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আশ-শুরা শুনুন, আশ-শুরা অনুবাদ, আশ-শুরা mp3, আশ-শুরা pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না