আশ-শুরা · 14/53
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আশ-শুরা
وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى لَّقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِن بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ ۝١٤
Wa maa tafarraqooo illaa mim ba`di maa jaaa`ahumul `ilmu baghyam bainahum; wa law laa Kalimatun sabaqat mir Rabbika ilaaa ajalim musammal laqudiya bainahum; wa innal lazeena oorisul Kitaaba mim ba`dihim lafee shakkim minhu mureeb
📖 বাংলা অর্থ
তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা পারস্পরিক বিভেদের কারণে মতভেদ করেছে। যদি আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ফয়সালা হয়ে যেত। তাদের পর যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তারা অস্বস্তিকর সন্দেহে পতিত রয়েছে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • বাগইয়ান (بَغْيًا): অত্যাচার, বিদ্বেষ ও হঠকারিতা।
  • কালিমাতুন সাবাকাত (كَلِمَةٌ سَبَقَتْ): পূর্ব নির্ধারিত ফয়সালা বা আল্লাহর পূর্ব সিদ্ধান্ত।
  • আজালিম মুসাম্মা (أَجَلٍ مُسَمًّى): নির্দিষ্ট সময়সীমা, অর্থাৎ কিয়ামতের দিন।
  • উরিছুল কিতাব (أُورِثُوا الْكِتَابَ): যাদেরকে কিতাবের উত্তরাধিকারী বানানো হয়েছে, অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্মের ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা।
  • মুরীব (مُرِيبٍ): সন্দেহজনক, যা মনে উদ্বেগ ও সংশয় সৃষ্টি করে।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা উম্মতদের বিভক্তি ও মতভেদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান) যখন তাদের নবীদের মাধ্যমে সত্য জ্ঞান ও স্পষ্ট প্রমাণ লাভ করেছিল, তখনও তারা সত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকেনি। বরং জ্ঞান আসার পরই তারা নিজেদের মধ্যে বিদ্বেষ, হিংসা ও অত্যাচারের কারণে দলবদ্ধ হয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের এই বিভক্তি অজ্ঞতার কারণে ছিল না, বরং সত্য জানার পরও হঠকারিতা ও জিদের কারণে তারা সত্যকে গ্রহণ করেনি।

এরপর আল্লাহ বলেন, যদি আপনার রবের পক্ষ থেকে পূর্বেই একটি সিদ্ধান্ত না হয়ে যেত যে, তাদের শাস্তি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (কিয়ামত পর্যন্ত) বিলম্বিত থাকবে, তাহলে দুনিয়াতেই তাদের মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত এবং সত্যের উপর যারা ছিল তারা বিজয়ী হতো, আর মিথ্যাবাদীদের শাস্তি দুনিয়াতেই নেমে আসত। কিন্তু আল্লাহর হিকমত এই যে, তিনি মানুষকে পরীক্ষার জন্য সময় দিয়েছেন এবং কিয়ামতের দিন চূড়ান্ত বিচার করবেন।

অতঃপর আল্লাহ বলেন, যারা তাদের পরে কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে—অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগের ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা—তারাও সেই কুরআন সম্পর্কে গভীর সন্দেহে নিমজ্জিত, যা তাদের কাছে সত্য হিসেবে এসেছে। তাদের এই সন্দেহ তাদের পূর্বসূরিদের বিভক্তি ও পথভ্রষ্টতার ফল, যা তাদের অন্তরে সংশয় ও দ্বিধা সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. জ্ঞান অর্জনের পরও যদি অন্তর থেকে অহংকার ও বিদ্বেষ দূর না হয়, তবে জ্ঞান মানুষকে হিদায়াতের পরিবর্তে বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যায়। তাই জ্ঞানের সাথে সাথে নম্রতা ও আন্তরিকতা অপরিহার্য।
  2. বিভক্তি ও মতভেদ তখনই সৃষ্টি হয় যখন মানুষ সত্যকে মানতে না চেয়ে নিজের প্রবৃত্তি ও স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। ইসলাম আমাদেরকে ঐক্যের আদেশ দেয় এবং বিভক্তি থেকে সতর্ক করে।
  3. আল্লাহর বিচার বিলম্বিত হওয়া তাঁর রহমত ও হিকমতের অংশ। তিনি মানুষকে তাওবা ও সংশোধনের সুযোগ দেন। তাই কোনো অন্যায় দেখে হতাশ না হয়ে আল্লাহর বিচারের প্রতি আস্থা রাখা উচিত।
  4. পূর্ববর্তী উম্মতদের বিভক্তি আমাদের জন্য শিক্ষা। আমাদের উচিত তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকা, যাতে আমরা সত্যের উপর অটল থাকতে পারি।
  5. সন্দেহ ও সংশয় থেকে দূরে থাকা জরুরি। কুরআন ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্ভরযোগ্য জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই অন্তর থেকে সন্দেহ দূর হয় এবং ঈমান মজবুত হয়।


📜 আয়াত 12-16 — সূরা আশ-শুরা

12لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
আকাশ ও পৃথিবীর চাবি তাঁর কাছে। তিনি যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী।
13۞ شَرَعَ لَكُم مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ ۖ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ۚ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ ۚ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ
তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মূশরেকদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আমন্ত্রণ জানান, তা তাদের কাছে দুঃসাধ্য বলে মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে পথ প্রদর্শন করেন।
14وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۚ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى لَّقُضِيَ بَيْنَهُمْ ۚ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِن بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مُرِيبٍ
তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা পারস্পরিক বিভেদের কারণে মতভেদ করেছে। যদি আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ফয়সালা হয়ে যেত। তাদের পর যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তারা অস্বস্তিকর সন্দেহে পতিত রয়েছে।
15فَلِذَٰلِكَ فَادْعُ ۖ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ ۖ وَقُلْ آمَنتُ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ مِن كِتَابٍ ۖ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ ۖ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ ۖ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ ۖ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ
সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে।
16وَالَّذِينَ يُحَاجُّونَ فِي اللَّهِ مِن بَعْدِ مَا اسْتُجِيبَ لَهُ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ
আল্লাহর দ্বীন মেনে নেয়ার পর যারা সে সম্পর্কে বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়, তাদের বিতর্ক তাদের পালনকর্তার কাছে বাতিল, তাদের প্রতি আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব।
আশ-শুরাকুরআন সূচী
53আয়াত
মাক্কীRevelation
14আয়াত

অনুবাদ — আশ-শুরা 14

সূরা আশ-শুরা আয়াত 14 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা পারস্পরিক বিভেদের কারণে মতভেদ…

সূরা আয়াত 14/53 — সূরা আশ-শুরা الشورى (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আশ-শুরা শুনুন, সূরা আশ-শুরা অনুবাদ, সূরা আশ-শুরা mp3, সূরা আশ-শুরা pdf. আয়াত 12–16. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 8, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না