আল-মুমতাহিনা · 4/13
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মুমতাহিনা
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ ۖ رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ۝٤
Qad kaanat lakum uswatun basanatun feee Ibraaheema wallazeena ma`ahoo iz qaaloo liqawmihim innaa bura`aaa`u minkum wa mimmaa ta`budoona min doonil laahi kafarnaa bikum wa badaa bainanaa wa bainakumul `adaawatu wal baghdaaa`u abadan hattaa tu`minoo billaahi wahdahooo illaa qawla Ibraheema li abeehi la astaghfiranna laka wa maaa amliku laka minal laahi min shai; rabbanaa `alaika tawakkalnaa wa ilaika anabnaa wa ilaikal maseer
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। কিন্তু ইব্রাহীমের উক্তি তাঁর পিতার উদ্দেশে এই আদর্শের ব্যতিক্রম। তিনি বলেছিলেনঃ আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • উসওয়াতুন হাসানাহ: উত্তম আদর্শ বা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।
  • বুরাআ: সম্পর্কমুক্ত, দায়মুক্ত, বিচ্ছিন্ন।
  • কাফার্না বিকুম: আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করলাম, তোমাদের ধর্মবিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করলাম।
  • বাগযা: বিদ্বেষ, ঘৃণা।
  • আনাবনা: আমরা ফিরে এসেছি, তাওবাহ করে তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি।
  • মাসীর: প্রত্যাবর্তনের স্থান, চূড়ান্ত গন্তব্য।

তাফসীর:

হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য ইবরাহীম (আঃ)-এর মধ্যে এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের কাফির সম্প্রদায়কে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল: “আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের উপাসনা করো তাদের থেকে সম্পূর্ণ সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করছি। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ প্রকাশ্য হয়ে গেল—যতক্ষণ না তোমরা একমাত্র আল্লাহর উপর ঈমান আনো।”

তবে এই আদর্শের একটি ব্যতিক্রম আছে—তা হলো ইবরাহীম (আঃ)-এর নিজ পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা। এটি ছিল ইবরাহীম (আঃ)-এর পক্ষ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি, যা তিনি পিতার ঈমান আনার আশায় করেছিলেন। কিন্তু যখন তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তার পিতা আল্লাহর শত্রু এবং মৃত্যুর পূর্বে ঈমান আনবে না, তখন তিনি তা থেকে বিরত হন এবং তার থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। সুতরাং মুমিনদের জন্য ইবরাহীম (আঃ)-এর এই কাজটি অনুসরণীয় নয়; বরং মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ। ইবরাহীম (আঃ) বলেছিলেন: “আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই করতে পারি না; আল্লাহর শাস্তি থেকে তোমাকে রক্ষা করার ক্ষমতা আমার নেই।” অতঃপর তারা দোয়া করেছিল: “হে আমাদের রব! আমরা আপনার উপরই ভরসা করেছি, আপনারই দিকে আমরা তাওবাহসহ ফিরে এসেছি এবং আপনারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন হবে।”

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. মুমিনের জীবনে আদর্শ হলো নবী-রাসূলগণ, বিশেষত ইবরাহীম (আঃ)-এর জীবন। কাফির ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ এবং আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও ঘৃণা—এটিই ঈমানের দাবি।
  2. আত্মীয়-স্বজন হলেও কুফরি ও শিরকের উপর থাকলে তাদের থেকে সম্পর্ক আলাদা করা জরুরি; ঈমানের সম্পর্ক আত্মীয়তার সম্পর্কের চেয়ে শক্তিশালী।
  3. মুশরিকদের জন্য ইস্তিগফার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়।
  4. প্রতিটি কাজে আল্লাহর উপর ভরসা করা, তাঁর দিকে ফিরে আসা এবং জানা যে, সকলের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে—এটিই মুমিনের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য।
  5. এই আয়াত মুমিনদের সাহস ও দৃঢ়তা শেখায় যে, সত্যের পথে থাকলে শত্রুতা ও বিদ্বেষ আসবেই, কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে তিনি কখনো বান্দাকে একা ছাড়েন না।


📜 আয়াত 2-6 — সূরা আল-মুমতাহিনা

2إِن يَثْقَفُوكُمْ يَكُونُوا لَكُمْ أَعْدَاءً وَيَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَأَلْسِنَتَهُم بِالسُّوءِ وَوَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ
তোমাদেরকে করতলগত করতে পারলে তারা তোমাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং মন্দ উদ্দেশ্যে তোমাদের প্রতি বাহু ও রসনা প্রসারিত করবে এবং চাইবে যে, কোনরূপে তোমরা ও কাফের হয়ে যাও।
3لَن تَنفَعَكُمْ أَرْحَامُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ ۚ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَفْصِلُ بَيْنَكُمْ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
তোমাদের স্বজন-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি কিয়ামতের দিন কোন উপকারে আসবে না। তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।
4قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ ۖ رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। কিন্তু ইব্রাহীমের উক্তি তাঁর পিতার উদ্দেশে এই আদর্শের ব্যতিক্রম। তিনি বলেছিলেনঃ আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন।
5رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদেরকে কাফেরদের জন্য পরীক্ষার পাত্র করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
6لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيهِمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ ۚ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ
তোমরা যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা কর, তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ বেপরওয়া, প্রশংসার মালিক।
আল-মুমতাহিনাকুরআন সূচী
13আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
4আয়াত

অনুবাদ — আল-মুমতাহিনা 4

সূরা আল-মুমতাহিনা আয়াত 4 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে।…

সূরা আয়াত 4/13 — সূরা আল-মুমতাহিনা الممتحنة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মুমতাহিনা শুনুন, সূরা আল-মুমতাহিনা অনুবাদ, সূরা আল-মুমতাহিনা mp3, সূরা আল-মুমতাহিনা pdf. আয়াত 2–6. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না