Was saabiqoonal awwa loona minal Muhaajireena wal Ansaari wallazeenat taba`oo hum bi ihsaanir radiyal laahu `anhum wa radoo `anhu wa a`adda lahum jannnaatin tajree tahtahal anhaaru khaalideena feehaaa abadaa; zaalikal fawzul `azeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और मुहाजिरीन व अन्सार में से (ईमान की तरफ) सबक़त (पहल) करने वाले और वह लोग जिन्होंने नेक नीयती से (कुबूले ईमान में उनका साथ दिया ख़ुदा उनसे राज़ी और वह ख़ुदा से ख़ुश और उनके वास्ते ख़ुदा ने (वह हरे भरे) बाग़ जिन के नीचे नहरें जारी हैं तैयार कर रखे हैं वह हमेशा अब्दआलाबाद (हमेशा) तक उनमें रहेगें यही तो बड़ी कामयाबी हैं
আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
السَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ – যারা সবার আগে অগ্রগামী হয়েছেন।
الْمُهَاجِرِينَ – যারা নিজেদের ঘর-বাড়ি ও স্বজন ত্যাগ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছেন।
الأَنصَارِ – যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুহাজিরদেরকে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেছেন।
اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ – যারা তাদের অনুসরণ করেছেন উত্তম পদ্ধতিতে, অর্থাৎ বিশ্বাস, কথা ও কাজে।
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ – আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন।
وَرَضُوا عَنْهُ – তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।
الْفَوْزُ الْعَظِيمُ – মহান সাফল্য ও সৌভাগ্য।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে সেই সৌভাগ্যবানদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা ইসলামের শুরুতে সবার আগে ঈমান এনেছিল। তাঁরা দুই শ্রেণির: মুহাজির – যারা মক্কা থেকে নিজেদের ঘর-বাড়ি, সম্পদ ও স্বজন ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেছিলেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; এবং আনসার – মদিনার সেই মুমিনগণ যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুহাজিরদেরকে নিজেদের ঘরে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাদেরকে সর্বপ্রকার সাহায্য করেছিলেন এবং ইসলামের বিজয়ের জন্য নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছিলেন। এরপর আল্লাহ তাদের অনুসরণকারীদের কথাও উল্লেখ করেছেন – যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের পথ অনুসরণ করবে ঈমান, আমল, চরিত্র ও আখলাকে – অর্থাৎ বিশ্বাস, কথা ও কাজে তাদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরবে।
আল্লাহ তাআলা এই সকলের ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন তাদের আনুগত্য ও ঈমানের কারণে, আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে তাঁর অসীম অনুগ্রহ ও পুরস্কারের কারণে। তাদের জন্য তিনি জান্নাত প্রস্তুত করেছেন, যার নিচ দিয়ে ঝরনা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে – কখনো মৃত্যু বা বের হওয়া নেই। এটিই হলো মহান সাফল্য, যার চেয়ে বড় কোনো সাফল্য নেই।
এই আয়াতে সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা ও তাদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির ঘোষণা রয়েছে, যা তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান পোষণ করা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানের অংশ।
শিক্ষা ও উপদেশ:
সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ: এই আয়াত প্রমাণ করে যে, সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত। তাই তাদেরকে ভালোবাসা ও সম্মান করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য, আর তাদের সম্পর্কে খারাপ কথা বলা বা তাদেরকে গালি দেওয়া মারাত্মক গুনাহ।
সৎকর্মে অগ্রগামী হওয়ার পুরস্কার: যারা ভালো কাজে সবার আগে এগিয়ে আসে, আল্লাহ তাদের বিশেষ মর্যাদা দেন। আমাদের উচিত ভালো কাজে পিছিয়ে না থেকে সবার আগে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করা।
নেক কাজের ধারাবাহিকতা: যারা পূর্ববর্তী নেককারদের পথ অনুসরণ করে – ঈমান, আমল ও চরিত্রে – তারাও সেই একই পুরস্কারের অধিকারী হবে। এটি আমাদের জন্য বিরাট সুসংবাদ যে, আমরা যদি সাহাবীদের আদর্শ অনুসরণ করি, তবে আমরাও তাদের সাথে জান্নাতে যেতে পারব ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর সন্তুষ্টিই আসল লক্ষ্য: জীবনের প্রতিটি কাজে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যখন আল্লাহ বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন, তখন বান্দার জন্যই সবচেয়ে বড় সাফল্য নিশ্চিত হয়ে যায়।
ত্যাগের বিনিময়ে অনন্ত পুরস্কার: মুহাজির ও আনসাররা দুনিয়ার সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে এমন কিছু দিয়েছেন যা কখনো শেষ হবে না – চিরস্থায়ী জান্নাত। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহর পথে ছোট ছোট ত্যাগের বিনিময়েও আল্লাহ অনন্তকালের পুরস্কার দেন।
আবার কোন কোন বেদুইন এমন ও রয়েছে যারা নিজেদের ব্যয় করাকে জরিমানা। বলে গন্য করে এবং তোমার উপর কোন দুর্দিন আসে কিনা সে অপেক্ষায় থাকে। তাদেরই উপর দুর্দিন আসুক। আর আল্লাহ হচ্ছেন শ্রবণকারী, পরিজ্ঞাত।
আর কোন কোন বেদুইন হল তারা, যারা ঈমান আনে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিনের উপর এবং নিজেদের ব্যয়কে আল্লাহর নৈকট্য এবং রসূলের দোয়া লাভের উপায় বলে গণ্য করে। জেনো! তাই হল তাদের ক্ষেত্রে নৈকট্য। আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।
আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।
আর কিছু কিছু তোমার আশ-পাশের মুনাফেক এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনঢ়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে আযাব দান করব দু’বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে মহান আযাবের দিকে।
আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।