আত-তওবা · 11/129
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আত-তওবা
فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ۗ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ۝١١
Fa in taaboo wa aqaamus Salaata wa aatawuz Zakaata fa ikhwaanukum fid deen; wa nufassilul Aayaati liqawminy ya`lamoon
📖 বাংলা অর্থ
অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • তাবূ (তওবা করা): শিরক ও কুফরি থেকে ফিরে আসা, তাওহিদের ঘোষণা দেওয়া।
  • আকামুস সালাত (সালাত কায়েম করা): নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা।
  • আতাউজ যাকাত (যাকাত দেওয়া): সম্পদের নির্ধারিত অংশ প্রদান করা।
  • ইখওয়ান (ভাই): ধর্মীয় ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক।
  • নুফাসসিলুল আয়াত (আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করা): স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করছেন যে, যারা পূর্বে শিরক ও কুফরিতে লিপ্ত ছিল, কিন্তু পরে তারা যদি তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনে এবং কালিমা শাহাদাত উচ্চারণ করে, আর নামাজ কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে—তাহলে তারা আর শত্রু নয়; বরং তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই। ইসলামের বন্ধনে তাদের সাথে তোমাদের যে সম্পর্ক স্থাপিত হবে, তা রক্তের সম্পর্কের চেয়েও মজবুত। তাদের জন্য যা তোমাদের জন্য বৈধ, তা তাদের জন্যও বৈধ; আর যা তোমাদের জন্য অবৈধ, তা তাদের জন্যও অবৈধ। তাদের জান-মাল ও ইজ্জত-আবরু তোমাদের জন্য যেমন নিরাপদ, তোমাদের জান-মালও তাদের জন্য তেমন নিরাপদ। সুতরাং তাদের সাথে যুদ্ধ করা বৈধ নয়, কারণ ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমেই তাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্ভ্রম রক্ষিত হয়েছে।

এরপর আল্লাহ বলেন, "আমি আমার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃত করি সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা জ্ঞান রাখে এবং উপদেশ গ্রহণ করে।" কারণ জ্ঞানী ব্যক্তিরাই এই বিধানগুলোর মর্ম উপলব্ধি করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে। তারা জানে যে, ইসলামের শত্রুদের সাথে কঠোর আচরণ করা উচিত, কিন্তু যে তওবা করে ইসলামে প্রবেশ করে, তার সাথে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করাই আল্লাহর বিধান।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলামের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত—যে ব্যক্তি যত বড় গুনাহগার বা পথভ্রষ্টই হোক না কেন, আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং তাকে মুসলিম ভাইয়ের মর্যাদা দেন।
  2. নামাজ ও যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এ দুটি আমলই ঈমানের প্রমাণ এবং মুসলিম সমাজের বন্ধন সুদৃঢ় করে।
  3. প্রকৃত ঈমানদাররা পরস্পর ভাই; তাদের সম্পর্ক ভালোবাসা, সহানুভূতি ও পারস্পরিক অধিকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
  4. জ্ঞানই মানুষকে সঠিক পথ দেখায় এবং আল্লাহর বিধান বুঝতে সাহায্য করে। তাই জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, মানুষের অতীত ভুল-ত্রুটি বিচার করার বিষয় নয়; বরং বর্তমান অবস্থা ও ইসলামের প্রতি তাদের আনুগত্যই মূল বিবেচ্য।


📜 আয়াত 9-13 — সূরা আত-তওবা

9اشْتَرَوْا بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَصَدُّوا عَن سَبِيلِهِ ۚ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তারা আল্লাহর আয়াত সমূহ নগন্য মুল্যে বিক্রয় করে, অতঃপর লোকদের নিবৃত রাখে তাঁর পথ থেকে, তারা যা করে চলছে, তা অতি নিকৃষ্ট।
10لَا يَرْقُبُونَ فِي مُؤْمِنٍ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُعْتَدُونَ
তারা মর্যাদা দেয় না কোন মুসলমানের ক্ষেত্রে আত্নীয়তার, আর না অঙ্গীকারের। আর তারাই সীমালংঘনকারী।
11فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ۗ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি।
12وَإِن نَّكَثُوا أَيْمَانَهُم مِّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ ۙ إِنَّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنتَهُونَ
আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে।
13أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ أَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
11আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 11

সূরা আত-তওবা আয়াত 11 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত…

সূরা আয়াত 11/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 9–13. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না