হুদ · 17/123
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা হুদ
أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ وَيَتْلُوهُ شَاهِدٌ مِّنْهُ وَمِن قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَىٰ إِمَامًا وَرَحْمَةً ۚ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ ۚ فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِّنْهُ ۚ إِنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ۝١٧
Afaman kaana `alas baiyinatim mir Rabbihee wa yatloohu shaahidum minhu wa min qablihee Kitaabu Moosaaa imaamanw wa rahmah; ulaaa `ika yu`minoona bih; wa mai yakfur bihee minal Ahzaabi fan Naaru maw`iduh; falaa taku fee miryatim minh; innahul haqqu mir Rabbika wa laakinna aksaran naasi laa yu`minoon
📖 বাংলা অর্থ
আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান) অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে না।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • بَيِّنَةٍ (বাইয়্যিনাহ): সুস্পষ্ট প্রমাণ, দলিল, বা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন জ্ঞান।
  • يَتْلُوهُ (ইয়াতলূহু): তার অনুসরণ করে, তার পিছে পিছে আসে।
  • شَاهِدٌ (শাহিদ): সাক্ষী, প্রমাণকারী।
  • إِمَامًا (ইমামান): পথপ্রদর্শক, অনুসরণীয় আদর্শ।
  • مِرْيَةٍ (মিরয়াহ): সন্দেহ, সংশয়।
  • الأَحْزَابِ (আহযাব): দলগুলো, সম্প্রদায়গুলো (যারা নবী ও সত্যের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছিল)।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

প্রিয় পাঠক! আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে একটি চিরন্তন সত্য তুলে ধরেছেন—সত্যের পথে যারা রয়েছে এবং মিথ্যার অন্ধকারে যারা ডুবে আছে, তারা কি কখনো সমান হতে পারে?

যে ব্যক্তি তার রবের কাছ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত—যার অন্তর জ্ঞানের আলোয় আলোকিত, যার সামনে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত স্পষ্ট নির্দেশনা—সে কি সেই ব্যক্তির মতো হতে পারে যে কেবল পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসে মগ্ন?

আল্লাহ তাআলা এখানে তিনটি স্তরের সাক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা সত্যের পক্ষে এক অনবদ্য প্রমাণ:

প্রথমত: নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই রয়েছেন তার রবের পক্ষ থেকে আগত সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর। তার আনীত দ্বীন, তার চরিত্র, তার আমানতদারিতা—সবকিছুই ছিল সত্যের জীবন্ত প্রমাণ।

দ্বিতীয়ত: তার সাথে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত একজন সাক্ষী—যিনি তার উপর ওহী নিয়ে অবতরণ করেছেন, অর্থাৎ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অথবা স্বয়ং কুরআন মাজিদ, যা তার সত্যতার সাক্ষ্য বহন করে।

তৃতীয়ত: তার পূর্বে অবতীর্ণ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর কিতাব তাওরাত, যা ছিল মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমত। এই কিতাবেই তার আগমনের সুসংবাদ ও স্পষ্ট পরিচয় ছিল। সুতরাং পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহও তার সত্যতার সাক্ষ্য দেয়।

যারা এই প্রমাণাদি দেখে ঈমান আনে এবং কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, তারাই সত্যিকারের সফলকাম। আর যারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করে, তাদের চূড়ান্ত পরিণতি হলো জাহান্নামের আগুন। সেখানে তাদের যাওয়া অবধারিত।

আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবীকে (এবং তার মাধ্যমে সমগ্র উম্মতকে) সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন: হে নবী! তুমি এই বিষয়ে কোনো সন্দেহে থেকো না। এই কুরআন, এই দ্বীন—সবকিছুই তোমার রবের পক্ষ থেকে আগত চূড়ান্ত সত্য। কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তাদের সীমিত বুদ্ধি, অজ্ঞতা এবং চিন্তা-গবেষণার অভাবের কারণে এই সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে না এবং ঈমান আনে না।

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন! এই আয়াত আমাদের জন্য এক বিশাল শিক্ষা বহন করে। আমাদের ঈমান কোনো অন্ধবিশ্বাস নয়; বরং তা যুক্তি, প্রমাণ ও দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কুরআন, সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহ—সবকিছু মিলে একই সত্যের সাক্ষ্য দেয়। তাই আমাদের উচিত এই সত্যকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং আল্লাহর রহমত ও জান্নাতের পথে অগ্রসর হওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য বুঝার ও সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



📜 আয়াত 15-19 — সূরা হুদ

15مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ
যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি করা হয় না।
16أُولَٰئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ ۖ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
এরাই হল সেসব লোক আখেরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া নেই। তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ করেছে; আর যা কিছু উপার্জন করেছিল, সবই বিনষ্ট হল।
17أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ وَيَتْلُوهُ شَاهِدٌ مِّنْهُ وَمِن قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَىٰ إِمَامًا وَرَحْمَةً ۚ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ ۚ فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِّنْهُ ۚ إِنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ
আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান) অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে না।
18وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ۚ أُولَٰئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَىٰ رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَٰؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَىٰ رَبِّهِمْ ۚ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।
19الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ
যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুজে বেড়ায়, এরাই আখরাতকে অস্বীকার করে।
হুদকুরআন সূচী
123আয়াত
মাক্কীRevelation
17আয়াত

অনুবাদ — হুদ 17

সূরা হুদ আয়াত 17 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে,…

সূরা আয়াত 17/123 — সূরা হুদ هود (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা হুদ শুনুন, সূরা হুদ অনুবাদ, সূরা হুদ mp3, সূরা হুদ pdf. আয়াত 15–19. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 8, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না