Wa man azlamu mimmanif taraa `alal laahi kazibaa; ulaaa`ika yu`radoona `alaa Rabbihim wa yaqoolul ashhaa duhaaa`ulaaa`il lazeena kazaboo `alaa Rabbihim; alaa la`natul laahi alaz zaalimeen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और ये जो शख़्श ख़ुदा पर झूठ मूठ बोहतान बॉधे उससे ज्यादा ज़ालिम कौन होगा ऐसे लोग अपने परवरदिगार के हुज़ूर में पेश किए जाएंगें और गवाह इज़हार करेगें कि यही वह लोग हैं जिन्होंने अपने परवरदिगार पर झूट (बोहतान) बाँधा था सुन रखो कि ज़ालिमों पर ख़ुदा की फिटकार है
আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আফতারাহ (افترى) — মিথ্যা রটনা করা, মনগড়া কথা চালিয়ে দেওয়া।
আশহাদ (الأشهاد) — সাক্ষীগণ, যারা উপস্থিত থেকে সাক্ষ্য দেবে। এখানে ফেরেশতা, নবী এবং অন্যান্য নেককার বান্দাদের বোঝানো হয়েছে।
লানাত (لعنة) — আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকা এবং তাঁর অভিশাপ।
তাফসীর:
যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটনা করে, যেমন—তাঁর কোনো শরিক বা সন্তান আছে বলে দাবি করে, অথবা আল্লাহর নামে মনগড়া বিধান চালিয়ে দেয়, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই কেউ নেই। এমন জালেমদেরকে কিয়ামতের দিন তাদের রবের সামনে পেশ করা হবে, যাতে তিনি তাদের কাজের হিসাব নেন। তখন সাক্ষীরা—ফেরেশতা, নবী ও অন্যান্য সৎকর্মশীল বান্দারা—সাক্ষ্য দেবে যে, এরাই সেই লোক, যারা দুনিয়ায় তাদের রবের ওপর মিথ্যা বলেছে এবং তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে। সেদিন ঘোষণা করা হবে: “জেনে রাখো, আল্লাহর অভিশাপ এবং তাঁর রহমত থেকে দূরত্ব সেই জালেমদের ওপর, যারা নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে এবং ইবাদতকে সঠিক স্থানে না রেখে অন্যত্র স্থাপন করেছে।”
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটানো সবচেয়ে বড় অন্যায় এবং এর চেয়ে গুরুতর পাপ আর নেই। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর নামে কোনো কথা বলা থেকে বিরত থাকা, যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে তা সত্য।
কিয়ামতের দিন প্রতিটি মিথ্যা ও অন্যায়ের হিসাব হবে এবং আল্লাহর সামনে সবকিছু পেশ করা হবে। সেদিন কোনো কিছুই গোপন থাকবে না।
আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া—অর্থাৎ লানাত—হল জালেমদের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি। তাই আমাদের উচিত জুলুম ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা এবং সর্বদা সত্যের পথে চলা।
এই আয়াত আমাদের সতর্ক করে যে, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস—তাওহিদ—কে বিকৃত করা বা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা মারাত্মক অপরাধ। তাই আমাদের উচিত তাওহিদের ওপর অটল থাকা এবং শিরক ও মিথ্যা থেকে নিজেদের হেফাজত করা।
আল্লাহর ন্যায়বিচার নিখুঁত—তিনি কাউকে অযথা শাস্তি দেন না, বরং প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই বিচার করবেন। এটি আমাদের মনে আস্থা জাগায় যে, দুনিয়ার কোনো অন্যায়ই শেষ পর্যন্ত বিচারহীন থাকবে না।
আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান) অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে না।
আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।
তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই, তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে; তারা শুনতে পারত না এবং দেখতেও পেত না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।