আল-বাকারা · 150/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِي عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ۝١٥٠
Wa min haisu kharajta fawalli wajhaka shatral Masjidil Haraam; wa haisu maa kuntum fawalloo wujoohakum shatrahoo li`allaa yakoona linnaasi `alaikum hujjatun illal lazeena zalamoo minhum falaa takhshawhum wakhshawnee wa liutimma ni`matee `alaikum wa la`allakum tahtadoon
📖 বাংলা অর্থ
আর তোমরা যেখান থেকেই বেরিয়ে আস এবং যেখানেই অবস্থান কর, সেদিকেই মুখ ফেরাও, যাতে করে মানুষের জন্য তোমাদের সাথে ঝগড়া করার অবকাশ না থাকে। অবশ্য যারা অবিবেচক, তাদের কথা আলাদা। কাজেই তাদের আপত্তিতে ভীত হয়ো না। আমাকেই ভয় কর। যাতে আমি তোমাদের জন্যে আমার অনুগ্রহ সমূহ পূর্ণ করে দেই এবং তাতে যেন তোমরা সরলপথ প্রাপ্ত হও।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • شَطْرَ — অভিমুখ, দিক।
  • الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ — পবিত্র কাবা ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত।
  • حُجَّةٌ — প্রমাণ, যুক্তি, আপত্তি বা দোষারোপের সুযোগ।
  • الَّذِينَ ظَلَمُوا — যারা সীমালঙ্ঘনকারী ও জিদ্দবাজ, যেমন ইয়াহুদি ও মুশরিকদের একাংশ।

তাফসির:

হে নবী! তুমি যেখান থেকেই বের হও (সফরে থাকো বা নিজ শহরে), নামাজের সময় তোমার চেহারা পবিত্র মসজিদে (কাবা শরিফের) দিকেই ফিরাও। আর হে মুসলিমগণ! তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো না কেন, নামাজের সময় তোমাদের চেহারা কাবার দিকেই ফিরাবে। এ নির্দেশটি বারবার দেওয়া হয়েছে যাতে একথা স্পষ্ট হয় যে, এটিই চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বিধান এবং এর কোনো ব্যতিক্রম নেই।

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—তোমরা কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই সব লোকের আপত্তি ও দোষারোপের পথ বন্ধ করে দেবে, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ খুঁজছিল। ইয়াহুদিরা বলত, মুহাম্মদ (সা.) তো আমাদের কিবলার দিকে ফিরতেন, অথচ তিনি আমাদের ধর্ম মানেন না। আর মুশরিকরা বলত, তিনি ইবরাহিম (আ.)-এর ধর্মের দাবিদার, কিন্তু ইবরাহিমের কিবলা (কাবা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কাবামুখী হওয়ার মাধ্যমে এই সব আপত্তির অবসান ঘটে গেল। তবে যারা জুলুম ও হঠকারিতার ওপর অটল থাকবে—যেমন ইয়াহুদি ও মুশরিকদের এক দল—তারা বাতিল যুক্তি দিয়ে ঝগড়া করবেই। তাদের ভয় করো না, শুধু আমারই ভয় করো। অর্থাৎ আমার আদেশ মান্য করো এবং আমার নিষেধ থেকে বিরত থাকো, কারণ প্রকৃত ক্ষতি-মঙ্গল তো আমারই হাতে।

আরও একটি কারণ হলো—আমি তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করতে চাই। কাবামুখী হওয়ার মাধ্যমে তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে পরিচিত হবে, তোমাদের ইবাদত হবে সবচেয়ে পরিপূর্ণ, এবং তোমাদের ধর্ম হবে সর্বশেষ ও সর্বোত্তম ধর্ম। এর মাধ্যমে তোমরা সঠিক পথের হিদায়াত পাবে এবং বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাবে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর নির্দেশ যতই কঠিন বা পরীক্ষামূলক হোক না কেন, তা মেনে চলাই মুমিনের কর্তব্য। কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ ছিল একটি পরীক্ষা, যা মুমিন ও মুনাফিকদের পার্থক্য করে দিয়েছিল।
  2. মানুষের ভয়-ভীতি বা সমালোচনা যেন আমাদেরকে আল্লাহর আদেশ পালনে বিচলিত না করে। আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
  3. ইসলামের বিধানগুলো অত্যন্ত হিকমতপূর্ণ। প্রতিটি নির্দেশের পেছনে রয়েছে মানুষের কল্যাণ, সমাজের শৃঙ্খলা এবং উম্মতের মর্যাদা বৃদ্ধির গোপন রহস্য।
  4. কিবলা এক হওয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্বের মুসলিমরা এক কাতারে শামিল হয়—তাদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির এটি একটি চিরন্তন প্রতীক।
  5. আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি এবং তাঁরই পথে চলার চেষ্টা করি।


📜 আয়াত 148-152 — সূরা আল-বাকারা

148وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا ۖ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا يَأْتِ بِكُمُ اللَّهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আর সবার জন্যই রয়েছে কেবলা একেক দিকে, যে দিকে সে মুখ করে (এবাদত করবে)। কাজেই সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকবে, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদেরকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
149وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۖ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
আর যে স্থান থেকে তুমি বের হও, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরাও-নিঃসন্দেহে এটাই হলো তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে নির্ধারিত বাস্তব সত্য। বস্তুতঃ তোমার পালনকর্তা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন।
150وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِي عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
আর তোমরা যেখান থেকেই বেরিয়ে আস এবং যেখানেই অবস্থান কর, সেদিকেই মুখ ফেরাও, যাতে করে মানুষের জন্য তোমাদের সাথে ঝগড়া করার অবকাশ না থাকে। অবশ্য যারা অবিবেচক, তাদের কথা আলাদা। কাজেই তাদের আপত্তিতে ভীত হয়ো না। আমাকেই ভয় কর। যাতে আমি তোমাদের জন্যে আমার অনুগ্রহ সমূহ পূর্ণ করে দেই এবং তাতে যেন তোমরা সরলপথ প্রাপ্ত হও।
151كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِّنكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ
যেমন, আমি পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে একজন রসূল, যিনি তোমাদের নিকট আমার বাণীসমুহ পাঠ করবেন এবং তোমাদের পবিত্র করবেন; আর তোমাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও তাঁর তত্ত্বজ্ঞান এবং শিক্ষা দেবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানতে না।
152فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ
সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
150আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 150

সূরা আল-বাকারা আয়াত 150 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর তোমরা যেখান থেকেই বেরিয়ে আস এবং যেখানেই অবস্থান কর,…

সূরা আয়াত 150/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 148–152. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না