لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ: যাতে তোমরা মুত্তাকী (পরহেজগার) হতে পারো।
তাফসীর:
হে ঈমানদারগণ! যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সত্যিকারের ঈমান এনেছ এবং তাঁর বিধান মেনে চলো! আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর রোজা ফরজ করেছেন, যেমনিভাবে ফরজ করেছিলেন তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর—আদম (আঃ) থেকে শুরু করে শেষ নবী পর্যন্ত সব উম্মতের উপরই রোজা ফরজ ছিল। এটি কোনো নতুন বিধান নয়, বরং এটি সেই একই পথের ধারাবাহিকতা, যা সকল নবী-রাসূলের অনুসারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।
এই রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো—তোমরা তাকওয়া অর্জন করবে, অর্থাৎ আল্লাহর ভয়ে নিজেদেরকে গুনাহ ও পাপাচার থেকে বিরত রাখবে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। রোজা শুধু খাবার-পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। রোজার মাধ্যমে মানুষ তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, যা তাকে অন্যান্য পাপাচার থেকেও বিরত রাখে। এ কারণেই রোজা তাকওয়া অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
রোজা ইসলামের একটি মৌলিক বিধান, যা সব যুগের নবী-রাসূলগণের উম্মতদের উপর ফরজ ছিল। তাই রোজা পালন করা আল্লাহর আনুগত্যের একটি মহান ইবাদত।
রোজার মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন—যা একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। তাকওয়াই মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্যের পথ দেখায়।
রোজা মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণাবলি বিকশিত করে, যা তাকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করে।
রোজা পালনের মাধ্যমে আমরা ক্ষুধার্ত ও অভাবী মানুষের কষ্ট অনুভব করতে শিখি, যা আমাদের মধ্যে সহানুভূতি ও দানশীলতার মনোভাব সৃষ্টি করে।
রোজা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেয় এবং আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করে। এটি আমাদেরকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে।
যদি কেউ ওসীয়তকারীর পক্ষ থেকে আশংকা করে পক্ষপাতিত্বের অথবা কোন অপরাধমূলক সিদ্ধান্তের এবং তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তবে তার কোন গোনাহ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।