Qad kaana lakum Aayatun fee fi`atainil taqataa fi`atun tuqaatilu fee sabeelil laahi wa ukhraa kaafiratuny yarawnahum mislaihim raayal `ayn; wallaahu yu`ayyidu bi nasrihee mai yashaaa`; innaa fee zaalika la `ibratal li ulil absaar
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয়ই দুটো দলের মোকাবিলার মধ্যে তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করে। আর অপর দল ছিল কাফেরদের এরা স্বচক্ষে তাদেরকে দ্বিগুন দেখছিল। আর আল্লাহ যাকে নিজের সাহায্যের মাধ্যমে শক্তি দান করেন। এরই মধ্যে শিক্ষনীয় রয়েছে দৃষ্টি সম্পন্নদের জন্য।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
बेशक तुम्हारे (समझाने के) वास्ते उन दो (मुख़ालिफ़ गिरोहों में जो (बद्र की लड़ाई में) एक दूसरे के साथ गुथ गए (रसूल की सच्चाई की) बड़ी भारी निशानी है कि एक गिरोह ख़ुदा की राह में जेहाद करता था और दूसरा काफ़िरों का जिनको मुसलमान अपनी ऑख से दुगना देख रहे थे (मगर ख़ुदा ने क़लील ही को फ़तह दी) और ख़ुदा अपनी मदद से जिस की चाहता है ताईद करता है बेशक ऑख वालों के वास्ते इस वाक़ये में बड़ी इबरत है
নিশ্চয়ই দুটো দলের মোকাবিলার মধ্যে তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করে। আর অপর দল ছিল কাফেরদের এরা স্বচক্ষে তাদেরকে দ্বিগুন দেখছিল। আর আল্লাহ যাকে নিজের সাহায্যের মাধ্যমে শক্তি দান করেন। এরই মধ্যে শিক্ষনীয় রয়েছে দৃষ্টি সম্পন্নদের জন্য।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
فِئَتَيْنِ: দুটি দল বা সম্প্রদায়।
الْتَقَتَا: পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল (যুদ্ধের জন্য)।
يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ: তারা (মুসলিমরা) তাদের (কাফিরদের) নিজেদের দ্বিগুণ দেখছিল।
رَأْيَ الْعَيْنِ: চোখের সামনে প্রকাশ্য ও স্পষ্টভাবে।
يُؤَيِّدُ: শক্তি প্রদান করেন, সাহায্য করেন।
لَعِبْرَةً: নিশ্চয়ই শিক্ষা ও উপদেশের বিষয়।
لِّأُولِي الْأَبْصَارِ: বিবেকবান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকদের জন্য।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে ইয়াহুদী সম্প্রদায় ও সকল অবিশ্বাসী! তোমাদের জন্য নিশ্চয়ই একটি মহান নিদর্শন ও শিক্ষা রয়েছে সেই দুটি দলের মধ্যে যারা বদর প্রান্তরে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। একটি দল ছিল মুমিন—তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল, আর তা ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ। তারা আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার জন্য এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লড়াই করছিল। অপর দলটি ছিল কাফির—মক্কার মুশরিকরা, যারা অহংকার, প্রদর্শনী ও গোত্রীয় স্বার্থের জন্য যুদ্ধে নেমেছিল।
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের চোখে কাফিরদের সংখ্যা নিজেদের দ্বিগুণ দেখিয়েছিলেন, অথচ বাস্তবে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন এবং কাফিরদের ছিল প্রায় ১০০০ জন। অর্থাৎ আল্লাহ মুমিনদের সাহস ও দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য তাদের চোখে শত্রুদের সংখ্যা কমিয়ে দেখিয়েছিলেন, আবার কখনো দ্বিগুণ দেখিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন—যাতে তাদের ধৈর্য ও ঈমান যাচাই হয়। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর নবীকে এবং মুমিনদেরকে এমনভাবে সাহায্য করলেন যে, অল্প সংখ্যক মুমিন বাহিনী বিশাল কাফির বাহিনীকে পরাজিত করল।
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সাহায্য ও বিজয় দান করেন—এটি তাঁরই ইচ্ছা ও ক্ষমতা। কারো সংখ্যা বেশি হওয়া বা শক্তি-সামর্থ্যের প্রাচুর্য নিশ্চিত বিজয়ের কারণ নয়; বরং বিজয় তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। এই ঘটনার মধ্যে বিবেকবান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকদের জন্য রয়েছে গভীর শিক্ষা—যারা চোখ দিয়ে দেখে এবং অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
সংখ্যার প্রাচুর্য কখনো বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না; বরং আল্লাহর সাহায্যই প্রকৃত বিজয়ের চাবিকাঠি। মুমিনগণ অল্প সংখ্যক হলেও আল্লাহ তাদেরকে বিজয়ী করেন।
আল্লাহর পথে যুদ্ধ ও সংগ্রামের উদ্দেশ্য হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনের প্রতিষ্ঠা—ব্যক্তিগত স্বার্থ, অহংকার বা গোত্রীয় প্রীতি নয়।
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন বিভিন্ন অবস্থার মাধ্যমে—কখনো ভয়, কখনো অভাব, কখনো শত্রুর আধিক্য দেখিয়ে—যাতে প্রকৃত মুমিন ও দুর্বল ঈমানদারদের পার্থক্য স্পষ্ট হয়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কারণ আল্লাহই শেষ পর্যন্ত তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেন।
ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। যারা অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়, তারা ভবিষ্যতে সঠিক পথ বেছে নিতে পারে এবং বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
ফেরআউনের সম্প্রদায় এবং তাদের পূর্ববর্তীদের ধারা অনুযায়ীই তারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। ফলে তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছেন আর আল্লাহর আযাব অতি কঠিন।
নিশ্চয়ই দুটো দলের মোকাবিলার মধ্যে তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করে। আর অপর দল ছিল কাফেরদের এরা স্বচক্ষে তাদেরকে দ্বিগুন দেখছিল। আর আল্লাহ যাকে নিজের সাহায্যের মাধ্যমে শক্তি দান করেন। এরই মধ্যে শিক্ষনীয় রয়েছে দৃষ্টি সম্পন্নদের জন্য।
মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।
বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান বলবো?-যারা পরহেযগার, আল্লাহর নিকট তাদের জন্যে রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত-তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিনীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।