ফাতির · 18/45
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ফাতির
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۚ وَإِن تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَىٰ حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ ۗ إِنَّمَا تُنذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ ۚ وَمَن تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّىٰ لِنَفْسِهِ ۚ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ ۝١٨
Wa laa taziru waaziratun wizra ukhraa; wa in tad`u musqalatun ilaa himlihaa laa yuhmal minhu shai`unw wa law kaana zaa qurbaa; innamaa tunzirul lazeena yakhshawna Rabbahum bilghaibi wa aqaamus Sallah; wa man tazakkaa fa innamaa yatazakkaa linafsih; wa ilal laahil maseer
📖 বাংলা অর্থ
কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না-যদি সে নিকটবর্তী আত্নীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামায কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, স্বীয় কল্যাণের জন্যেই আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَازِرَةٌ — বোঝা বহনকারী (অর্থাৎ, অপরাধী ব্যক্তি)।
  • وِزْرٌ — পাপ বা গুনাহের বোঝা।
  • مُثْقَلَةٌ — যে ব্যক্তি পাপের বোঝায় ভারাক্রান্ত।
  • حِمْلِهَا — তার (পাপের) বোঝা।
  • ذَا قُرْبَى — আত্মীয়-স্বজন।
  • يَتَزَكَّى — পবিত্র হয়, গুনাহ থেকে পরিচ্ছন্ন হয়।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন কোনো পাপী ব্যক্তি অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। প্রত্যেকেই নিজের কর্মের জন্য দায়ী হবে। যদি কোনো ভারাক্রান্ত পাপী ব্যক্তি তার পাপের বোঝা হালকা করার জন্য কাউকে ডাকে, এমনকি তার নিকটতম আত্মীয়-স্বজনকেও ডাকে, তবুও কেউ তার পাপের সামান্য অংশও বহন করতে রাজি হবে না বা বহন করবে না। কারণ, সেদিন প্রত্যেকে নিজের মুক্তির চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে।

এরপর আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন, হে নবী! আপনার সতর্কবাণী থেকে প্রকৃত উপকৃত হবে কেবল তারাই, যারা না দেখেই তাদের রবকে ভয় করে এবং নামাজকে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাৎ, যারা অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে, তারাই আপনার দাওয়াত গ্রহণ করবে এবং উপদেশ থেকে শিক্ষা নেবে।

অতঃপর আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র করে—অর্থাৎ, শিরক ও অন্যান্য গুনাহ থেকে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখে এবং সৎকর্ম করে—সে তো নিজেরই কল্যাণের জন্য তা করে। কারণ, এর প্রতিদান তার কাছেই ফিরে আসবে। আল্লাহ তো কারো ইবাদতের মুখাপেক্ষী নন। শেষ পর্যন্ত সবার প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকেই হবে, তখন তিনি প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ব্যক্তিগত দায়িত্ব: এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলামে প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের কর্মের জন্য দায়ী। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। তাই আমাদের উচিত নিজের আমল নিজে সংশোধন করা এবং অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত না থাকা।
  2. আত্মীয়তার বন্ধনও মুক্তির উপায় নয়: কিয়ামতের দিন কোনো আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কারো পাপের বোঝা লাঘব করতে পারবে না। তাই আমাদের উচিত আত্মীয়তার সম্পর্ককে ভালোবাসা ও সহযোগিতার মাধ্যম বানানো, কিন্তু পাপের অংশীদারিত্ব নয়।
  3. খাঁটি ভয় ও নামাজের গুরুত্ব: আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা এমন দুটি গুণ, যা মানুষকে সঠিক পথে চালিত করে এবং পরকালের সাফল্যের চাবিকাঠি। নামাজের মাধ্যমে আত্মিক পবিত্রতা অর্জিত হয় এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে দৃঢ় হয়।
  4. আত্মশুদ্ধির ফল নিজেরই: যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে নিজেকে পবিত্র রাখে, তার উপকার নিজেরই হয়। এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার পরিচয় এবং নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার উপায়। তাই আমাদের উচিত নিজের চরিত্র ও আমলকে সুন্দর করার চেষ্টা করা।
  5. পরকালের হিসাব-নিকাশ: সবাইকে একদিন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে এবং নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে। এই বিশ্বাস আমাদেরকে দায়িত্বশীল করে তোলে এবং ভুল কাজ থেকে বিরত রাখে।


📜 আয়াত 16-20 — সূরা ফাতির

16إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَأْتِ بِخَلْقٍ جَدِيدٍ
তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে বিলুপ্ত করে এক নতুন সৃষ্টির উদ্ভব করবেন।
17وَمَا ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ بِعَزِيزٍ
এটা আল্লাহর পক্ষে কঠিন নয়।
18وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۚ وَإِن تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَىٰ حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ ۗ إِنَّمَا تُنذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ ۚ وَمَن تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّىٰ لِنَفْسِهِ ۚ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না-যদি সে নিকটবর্তী আত্নীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামায কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, স্বীয় কল্যাণের জন্যেই আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন।
19وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ
দৃষ্টিমান ও দৃষ্টিহীন সমান নয়।
20وَلَا الظُّلُمَاتُ وَلَا النُّورُ
সমান নয় অন্ধকার ও আলো।
ফাতিরকুরআন সূচী
45আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
18আয়াত

অনুবাদ — ফাতির 18

সূরা ফাতির আয়াত 18 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর…

সূরা আয়াত 18/45 — সূরা ফাতির فاطر (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ফাতির শুনুন, সূরা ফাতির অনুবাদ, সূরা ফাতির mp3, সূরা ফাতির pdf. আয়াত 16–20. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না