ফাতির · 41/45
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ফাতির
۞ إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا ۚ وَلَئِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ ۚ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا ۝٤١
Innal laaha yumsikus samaawaati wal arda an tazoolaaa; wa la`in zaalataaa in amsa kahumaa min ahadim mim ba`dih; innahoo kaana Haleeman Ghafooraa
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা:

  • يُمْسِكُ অর্থ ধারণ করা, স্থির রাখা, নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • أَنْ تَزُولَا অর্থ যেন তারা (আসমান ও জমিন) স্থানচ্যুত না হয় বা ধ্বংস না হয়।
  • وَلَئِنْ زَالَتَا অর্থ আর যদি তারা স্থানচ্যুত হয় (কল্পনামাত্র)।
  • إِنْ أَمْسَكَهُمَا অর্থ তবে কেউ তাদেরকে ধরে রাখতে পারবে না।
  • حَلِيمًا অর্থ সহনশীল, ধৈর্যশীল, যে দ্রুত শাস্তি দেন না।
  • غَفُورًا অর্থ ক্ষমাশীল, যে তাওবার পর গুনাহ মাফ করেন।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম ক্ষমতা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আসমানসমূহ ও জমিনকে এমনভাবে ধরে রেখেছেন যে, তারা তাদের অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয় না, টলে যায় না এবং ধ্বংস হয়ে যায় না। এটি তাঁরই নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ফল। যদি কল্পনাও করা হয় যে, আসমান ও জমিন তাদের স্থান থেকে সরে গেছে বা ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি নেই যে তাদেরকে আবার স্থির রাখবে বা তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করবে। আল্লাহর পর আর কেউই এত ক্ষমতাবান নয়।

আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত সহনশীল ও ক্ষমাশীল। তাঁর সহনশীলতার কারণে তিনি পাপী ও অবাধ্য বান্দাদের সাথে দ্রুত শাস্তি দেন না, বরং তাদের তাওবার সুযোগ দেন। আর তাঁর ক্ষমা এমন যে, যে বান্দা আন্তরিকভাবে তাওবা করে তাঁর দিকে ফিরে আসে, তিনি তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। এই আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর ক্ষমতা, করুণা ও সহনশীলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

দাওয়াতি শিক্ষা:

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, এই বিশাল মহাবিশ্ব, আসমান-জমিন, গ্রহ-নক্ষত্র—সবকিছু আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে। তিনি যেভাবে চান সেভাবে পরিচালনা করেন। কেউ তাঁর ইচ্ছার বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারে না। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। আল্লাহ এতই সহনশীল যে, আমরা যতই গুনাহ করি না কেন, তিনি আমাদের তাওবার অপেক্ষায় থাকেন। তিনি চান আমরা তাঁর দিকে ফিরে আসি। তাই আসুন, আমরা আজই আল্লাহর কাছে তাওবা করি, তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর দেখানো পথে চলার সংকল্প করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন এবং সরল পথে পরিচালিত করুন। আমিন।



📜 আয়াত 39-43 — সূরা ফাতির

39هُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ فِي الْأَرْضِ ۚ فَمَن كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُ ۖ وَلَا يَزِيدُ الْكَافِرِينَ كُفْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ إِلَّا مَقْتًا ۖ وَلَا يَزِيدُ الْكَافِرِينَ كُفْرُهُمْ إِلَّا خَسَارًا
তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে স্বীয় প্রতিনিধি করেছেন। অতএব যে কুফরী করবে তার কুফরী তার উপরই বর্তাবে। কাফেরদের কুফর কেবল তাদের পালনকর্তার ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কাফেরদের কুফর কেবল তাদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।
40قُلْ أَرَأَيْتُمْ شُرَكَاءَكُمُ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا فَهُمْ عَلَىٰ بَيِّنَتٍ مِّنْهُ ۚ بَلْ إِن يَعِدُ الظَّالِمُونَ بَعْضُهُم بَعْضًا إِلَّا غُرُورًا
বলুন, তোমরা কি তোমাদের সে শরীকদের কথা ভেবে দেখেছ, যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা ডাক? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও। না আসমান সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে, না আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যে, তারা তার দলীলের উপর কায়েম রয়েছে, বরং জালেমরা একে অপরকে কেবল প্রতারণামূলক ওয়াদা দিয়ে থাকে।
41۞ إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَن تَزُولَا ۚ وَلَئِن زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّن بَعْدِهِ ۚ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا
নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।
42وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِن جَاءَهُمْ نَذِيرٌ لَّيَكُونُنَّ أَهْدَىٰ مِنْ إِحْدَى الْأُمَمِ ۖ فَلَمَّا جَاءَهُمْ نَذِيرٌ مَّا زَادَهُمْ إِلَّا نُفُورًا
তারা জোর শপথ করে বলত, তাদের কাছে কোন সতর্ককারী আগমন করলে তারা অন্য যে কোন সম্প্রদায় অপেক্ষা অধিকতর সৎপথে চলবে। অতঃপর যখন তাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করল, তখন তাদের ঘৃণাই কেবল বেড়ে গেল।
43اسْتِكْبَارًا فِي الْأَرْضِ وَمَكْرَ السَّيِّئِ ۚ وَلَا يَحِيقُ الْمَكْرُ السَّيِّئُ إِلَّا بِأَهْلِهِ ۚ فَهَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا سُنَّتَ الْأَوَّلِينَ ۚ فَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَبْدِيلًا ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَحْوِيلًا
পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যের কারণে এবং কুচক্রের কারণে। কুচক্র কুচক্রীদেরকেই ঘিরে ধরে। তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা করছে। অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না।
ফাতিরকুরআন সূচী
45আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
41আয়াত

অনুবাদ — ফাতির 41

সূরা ফাতির আয়াত 41 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না…

সূরা আয়াত 41/45 — সূরা ফাতির فاطر (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ফাতির শুনুন, সূরা ফাতির অনুবাদ, সূরা ফাতির mp3, সূরা ফাতির pdf. আয়াত 39–43. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না