আন-নিসা · 102/176
অনুবাদ উচ্চারণ — আন-নিসা
وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِن وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَىٰ لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ۗ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَىٰ أَن تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ ۖ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا ۝١٠٢
Wa izaa kunta feehim fa aqamta lahumus Salaata faltaqum taaa`ifatum minhum ma`aka walyaakhuzooo aslihatahum fa izaa sajadoo fal yakoonoo minw waraaa`ikum waltaati taaa`ifatun ukhraa lam yusalloo falyusallo ma`aka walyaakhuzoo hizrahum wa aslihatahum; waddal lazeena kafaroo law taghfuloona `anaslihatikum wa amti`atikum fa yameeloona `alaikum mailatanw waahidah; wa laa junaaha `alaikum in kaana bikum azam mimmatarin aw kuntum mmardaaa an tada`ooo aslihatakum wa khuzoo hizrakum; innal laaha a`adda lilkaafireena `azaabam muheenaa
📖 বাংলা অর্থ
যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন একদল দাঁড়ায় আপনার সাথে এবং তারা যেন স্বীয় অস্ত্র সাথে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করে, তখন আপনার কাছ থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসে, যারা নামায পড়েনি। অতঃপর তারা যেন আপনার সাথে নামায পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সাথে নেয়। কাফেররা চায় যে, তোমরা কোন রূপে অসতর্ক থাক, যাতে তারা একযোগে তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ হও তবে স্বীয় অস্ত্র পরিত্যাগ করায় তোমাদের কোন গোনাহ নেই এবং সাথে নিয়ে নাও তোমাদের আত্নরক্ষার অস্ত্র। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের জন্যে অপমানকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ — তুমি তাদের সাথে সালাত (জামাতের সাথে) আদায় করলে।
  • طَائِفَةٌ — একটি দল/গোষ্ঠী।
  • وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ — তারা যেন তাদের অস্ত্র-শস্ত্র সাথে নেয়।
  • فَإِذَا سَجَدُوا — যখন তারা (প্রথম দল) সিজদা সম্পন্ন করবে।
  • حِذْرَهُمْ — তাদের সতর্কতা/সাবধানতা।
  • وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا — কাফিররা কামনা করে/চায়।
  • تَغْفُلُونَ — তোমরা গাফেল হও, অমনোযোগী হও।
  • فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً — তখন তারা একযোগে তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।
  • جُنَاحٌ — পাপ/দোষ।
  • أَذًى مِّن مَّطَرٍ — বৃষ্টির কারণে কষ্ট/ক্ষতি।
  • عَذَابًا مُّهِينًا — অপমানজনক শাস্তি।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

হে নবী! যখন তুমি জিহাদের ময়দানে তোমার সাহাবাদের মধ্যে উপস্থিত থাকো এবং তাদের সাথে সালাত আদায়ের ইচ্ছা করো, তখন সালাত এমনভাবে আদায় করবে যা যুদ্ধের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর পদ্ধতি হলো—তোমার সাথীদের একটি দল তোমার সাথে সালাতে দাঁড়াবে এবং তারা তাদের অস্ত্র সাথে রাখবে। যখন এই দলটি সিজদা সম্পন্ন করে সালাতের প্রথম রাকাত শেষ করবে, তখন তারা সরে গিয়ে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে পাহারায় দাঁড়াবে। এরপর দ্বিতীয় দলটি, যারা এ পর্যন্ত সালাতে অংশ নেয়নি এবং শত্রুর দিকে নজর রাখছিল, তারা এসে তোমার সাথে অবশিষ্ট সালাত আদায় করবে। তাদেরকেও অস্ত্রসহ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। কারণ কাফিররা চায় যে, তোমরা সালাতে ব্যস্ত হয়ে অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতি গাফেল হয়ে যাও, যাতে তারা একযোগে আক্রমণ করে তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করতে পারে। তবে যদি বৃষ্টির কারণে বা অসুস্থতার কারণে অস্ত্র বহন করা কষ্টকর হয়, তাহলে অস্ত্র না রাখলেও কোনো পাপ নেই, কিন্তু শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যা যুদ্ধকালীন কঠিন পরিস্থিতিতেও সালাত আদায়ের নির্দেশ দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত কোনো অবস্থাতেই বন্ধ হয় না।
  2. মুসলিমদের সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। শত্রুর চক্রান্ত সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
  3. ইসলাম ব্যবহারিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য রেখেছে—একদিকে যেমন ইবাদতের গুরুত্ব রয়েছে, অন্যদিকে দুনিয়ার নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতার কথাও বলা হয়েছে। এমনকি অসুস্থতা বা বৃষ্টির মতো ওজরের ক্ষেত্রেও সহজতার বিধান দেওয়া হয়েছে।
  4. এই আয়াত মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংগঠিত হওয়া এবং নেতার আদেশ মেনে চলার গুরুত্ব শেখায়। দলবদ্ধভাবে কাজ করা এবং একে অপরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।
  5. আল্লাহর পক্ষ থেকে কাফিরদের জন্য অপমানজনক শাস্তির ঘোষণা মুমিনদের জন্য সান্ত্বনা ও শক্তি যে, শত্রুর ষড়যন্ত্র যতই ভয়ংকর হোক না কেন, আল্লাহ তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রেখেছেন এবং মুমিনদের বিজয় নিশ্চিত।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 100-104 — আন-নিসা

100۞ وَمَن يُهَاجِرْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَجِدْ فِي الْأَرْضِ مُرَاغَمًا كَثِيرًا وَسَعَةً ۚ وَمَن يَخْرُجْ مِن بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ ۗ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
যে কেউ আল্লাহর পথে দেশত্যাগ করে, সে এর বিনিময়ে অনেক স্থান ও সচ্ছলতা প্রাপ্ত হবে। যে কেউ নিজ গৃহ থেকে বের হয় আল্লাহ ও রসূলের প্রতি হিজরত করার উদ্দেশে, অতঃপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে তার সওয়াব আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
101وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَن يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُّبِينًا
যখন তোমরা কোন দেশ সফর কর, তখন নামাযে কিছুটা হ্রাস করলে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
102وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِن وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَىٰ لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ۗ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَىٰ أَن تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ ۖ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا
যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন একদল দাঁড়ায় আপনার সাথে এবং তারা যেন স্বীয় অস্ত্র সাথে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করে, তখন আপনার কাছ থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসে, যারা নামায পড়েনি। অতঃপর তারা যেন আপনার সাথে নামায পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সাথে নেয়। কাফেররা চায় যে, তোমরা কোন রূপে অসতর্ক থাক, যাতে তারা একযোগে তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ হও তবে স্বীয় অস্ত্র পরিত্যাগ করায় তোমাদের কোন গোনাহ নেই এবং সাথে নিয়ে নাও তোমাদের আত্নরক্ষার অস্ত্র। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের জন্যে অপমানকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
103فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ ۚ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ ۚ إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
104وَلَا تَهِنُوا فِي ابْتِغَاءِ الْقَوْمِ ۖ إِن تَكُونُوا تَأْلَمُونَ فَإِنَّهُمْ يَأْلَمُونَ كَمَا تَأْلَمُونَ ۖ وَتَرْجُونَ مِنَ اللَّهِ مَا لَا يَرْجُونَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
তাদের পশ্চাদ্ধাবনে শৈথিল্য করো না। যদি তোমরা আঘাত প্রাপ্ত, তবে তারাও তো তোমাদের মতই হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত এবং তোমরা আল্লাহর কাছে আশা কর, যা তারা আশা করে না। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীRevelation
102আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 102

সূরা আন-নিসা আয়াত 102 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন…

সূরা আয়াত 102/176 — আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আন-নিসা শুনুন, আন-নিসা অনুবাদ, আন-নিসা mp3, আন-নিসা pdf. আয়াত 100–104. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না