Wa izaa darabtum fil ardi falaisa `alaikum junaahun an taqsuroo minas Salaati in khiftum ai yaftinakumul lazeena kafarooo; innal kaafireena kaanoo lakum aduwwam mubeenaa
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
যখন তোমরা কোন দেশ সফর কর, তখন নামাযে কিছুটা হ্রাস করলে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(मुसलमानों जब तुम रूए ज़मीन पर सफ़र करो) और तुमको इस अम्र का ख़ौफ़ हो कि कुफ्फ़ार (असनाए नमाज़ में) तुमसे फ़साद करेंगे तो उसमें तुम्हारे वास्ते कुछ मुज़ाएक़ा नहीं कि नमाज़ में कुछ कम कर दिया करो बेशक कुफ्फ़ार तो तुम्हारे ख़ुल्लम ख़ुल्ला दुश्मन हैं
যখন তোমরা কোন দেশ সফর কর, তখন নামাযে কিছুটা হ্রাস করলে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ – নামাজ সংক্ষিপ্ত করা (চার রাকাত ফরজকে দুই রাকাত করা)।
يَفْتِنَكُمُ – তোমাদের ক্ষতি করা, তোমাদের উপর আক্রমণ করা বা তোমাদেরকে কষ্টে ফেলা।
عَدُوًّا مُبِينًا – প্রকাশ্য শত্রু।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা পৃথিবীতে সফর করো, অর্থাৎ এমন সফরে বের হও যা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ এবং দূরত্বের দিক থেকে নামাজ কসর করার উপযুক্ত, তখন তোমাদের উপর কোনো গুনাহ বা দোষ নেই যদি তোমরা নামাজ সংক্ষিপ্ত করো—অর্থাৎ চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ দুই রাকাত আদায় করো—বিশেষ করে যখন তোমাদের ভয় থাকে যে, কাফেররা তোমাদের উপর আক্রমণ করবে বা তোমাদের ক্ষতি করবে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিমদের সফরগুলো ছিল অত্যন্ত বিপদসংকুল, কারণ শত্রুরা সুযোগ পেলেই আক্রমণ করত। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এই সহজ বিধান দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আয়াতের শুরুর অংশে শর্ত হিসেবে ‘ভয়’ উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, সফরে নামাজ কসর করা শুধু ভয়ের সময়ই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপদ অবস্থায়ও সফরে নামাজ কসর করা জায়েয। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য একটি সহজতা ও রহমত।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তারা কোনো সময়ই তোমাদের মঙ্গল কামনা করে না এবং সুযোগ পেলেই তোমাদের ধ্বংস করার চেষ্টা করে। তাই তোমরা সর্বদা তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকবে এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শরিয়তের দেওয়া সুযোগগুলো গ্রহণ করবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম একটি সহজ ও প্রাণবন্ত ধর্ম। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর এমন কোনো বিধান চাপিয়ে দেননি যা তাদের জন্য কষ্টকর হয়। সফরের সময় নামাজ সংক্ষিপ্ত করার অনুমতি এরই প্রমাণ।
নামাজ ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এমনকি সফর, ভয় বা যুদ্ধের সময়ও নামাজ ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং এর জন্য সহজ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, নামাজ প্রতিটি অবস্থায় মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শত্রু সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের শিক্ষা। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ভয় বা সন্দেহের কারণে আমরা আমাদের ইবাদত ও কর্তব্য থেকে পিছিয়ে পড়ব; বরং ইবাদতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতাও অবলম্বন করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে সহজতার পথ খুলে দিয়েছেন। তাই মুমিনের উচিত আল্লাহর এই রহমত ও অনুগ্রহকে সাদরে গ্রহণ করা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
কাফেরদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি হবে সতর্কতা ও দূরদর্শিতা, তবে এর অর্থ এই নয় যে, আমরা তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করব না। ইসলাম ন্যায় ও ইনসাফের নির্দেশ দেয়, কিন্তু শত্রুর চক্রান্ত থেকে নিজেদের রক্ষা করাও একটি জরুরি কর্তব্য।
যে কেউ আল্লাহর পথে দেশত্যাগ করে, সে এর বিনিময়ে অনেক স্থান ও সচ্ছলতা প্রাপ্ত হবে। যে কেউ নিজ গৃহ থেকে বের হয় আল্লাহ ও রসূলের প্রতি হিজরত করার উদ্দেশে, অতঃপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে তার সওয়াব আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
যখন তোমরা কোন দেশ সফর কর, তখন নামাযে কিছুটা হ্রাস করলে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন একদল দাঁড়ায় আপনার সাথে এবং তারা যেন স্বীয় অস্ত্র সাথে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করে, তখন আপনার কাছ থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসে, যারা নামায পড়েনি। অতঃপর তারা যেন আপনার সাথে নামায পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সাথে নেয়। কাফেররা চায় যে, তোমরা কোন রূপে অসতর্ক থাক, যাতে তারা একযোগে তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ হও তবে স্বীয় অস্ত্র পরিত্যাগ করায় তোমাদের কোন গোনাহ নেই এবং সাথে নিয়ে নাও তোমাদের আত্নরক্ষার অস্ত্র। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের জন্যে অপমানকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।