অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
- تِجَارَةً (তিজারাহ): ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয়।
- لَهْوًا (লাহওয়ান): খেল-তামাশা, বিনোদন, যে কোনো কাজ যা মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে উদাসীন করে দেয়।
- انفَضُّوا (ইনফাদ্দু): ছুটে যাওয়া, দল বেঁধে সরে পড়া, চারদিকে ছড়িয়ে পড়া।
- قَائِمًا (ক্বাইমান): দাঁড়ানো অবস্থায়।
- الرَّازِقِينَ (আর-রাজিক্বীন): রিযিকদাতাগণ, জীবিকা দানকারীদের মধ্যে।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
প্রিয় পাঠক! এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। ঘটনাটি ছিল এমন—মদিনায় একসময় প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। লোকেরা ছিল চরম সংকটে। এমন সময় দিহইয়া ইবনে খলিফা (রাঃ) নামক একজন সাহাবী সিরিয়া থেকে ব্যবসার মালামাল ও খাদ্যশস্য নিয়ে আসতেন। তার আগমন উপলক্ষে ঢোল পিটিয়ে ঘোষণা দেওয়া হতো, যাতে লোকেরা কিনতে আসে।
এক জুমুআর দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবাহ দিচ্ছিলেন, মিম্বরে দাঁড়ানো অবস্থায়। ঠিক সেই মুহূর্তে ব্যবসার কাফেলা আসার ঘোষণা ও ঢোলের শব্দ শোনা গেল। সাথে সাথে অনেক সাহাবী (রাঃ) খুতবাহ অসমাপ্ত রেখে মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেন ব্যবসার দিকে! মসজিদে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাত্র বারোজন সাহাবী রয়ে গেলেন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন।
আল্লাহ তাআলা বলছেন: যখন তারা ব্যবসা বা খেল-তামাশা (বিনোদন) দেখতে পায়, তখন তারা তোমাকে (হে নবী!) দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে যায়। অর্থাৎ তারা জুমুআর খুতবাহকে ফেলে রেখে দুনিয়ার সামান্য লাভের পেছনে ছুটে যায়।
এরপর আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন: আপনি তাদের বলুন—আল্লাহর কাছে যা আছে (সওয়াব, জান্নাত, আল্লাহর সন্তুষ্টি) তা তোমাদের সেই খেল-তামাশা এবং ব্যবসা থেকে অনেক উত্তম! কেননা দুনিয়ার এই ব্যবসা ও বিনোদন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর নিকট যা আছে তা চিরস্থায়ী। আল্লাহই সর্বোত্তম রিযিকদাতা। তিনি যাকে ইচ্ছা রিযিক দেন, তাঁর দান কখনো বন্ধ হয় না। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছেই চাও, তাঁরই ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করো, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের কল্যাণই পাবে।
এই ঘটনা থেকে আমাদের জন্য বড় শিক্ষা—দুনিয়ার কোনো লাভ, কোনো ব্যবসা, কোনো বিনোদন যেন আমাদেরকে আল্লাহর ইবাদত, জুমুআর নামাজ, খুতবাহ শোনা এবং দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিমুখ না করে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের সাফল্যই আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। দুনিয়ার রিযিকের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে, কারণ তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা। তিনি চাইলে অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর আদেশ পালনকে অগ্রাধিকার দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
📜 আয়াত 9-11 — সূরা আল-জুমুআ
অনুবাদ — আল-জুমুআ 11
সূরা আল-জুমুআ আয়াত 11 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তারা যখন কোন ব্যবসায়ের সুযোগ অথবা ক্রীড়াকৌতুক দেখে তখন আপনাকে…সূরা আয়াত 11/11 — সূরা আল-জুমুআ الجمعة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-জুমুআ শুনুন, সূরা আল-জুমুআ অনুবাদ, সূরা আল-জুমুআ mp3, সূরা আল-জুমুআ pdf. আয়াত 9–11. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Tuesday, September 8, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








