আল-জ্বিন · 8/28
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-জ্বিন
وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا ۝٨
Wa annaa lamasnas sa maaa`a fa wajadnaahaa muli`at harasan shadeedanw wa shuhubaa
📖 বাংলা অর্থ
আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:

  • لَمَسْنَا (লামাসনা): আমরা স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম, অর্থাৎ আমরা উপরে ওঠার বা জানার চেষ্টা করেছিলাম।
  • حَرَسًا شَدِيدًا (হারাসান শাদিদান): কঠোর প্রহরী, অর্থাৎ বহু ফেরেশতা যারা কঠোরভাবে পাহারা দিচ্ছে।
  • شُهُبًا (শুহুবান): জ্বলন্ত অগ্নিশিখা বা উল্কাপিণ্ড, যা দিয়ে নিক্ষেপ করা হয়।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

এই আয়াতে মহান আল্লাহ তা‘আলা জিনদের সেই অবস্থা বর্ণনা করছেন, যখন তারা আকাশের খবর জানার চেষ্টা করত। জিনদের একটি দল বলছে: “আমরা আকাশে ওঠার বা তার খবর জানার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম যে, আকাশকে কঠোর প্রহরী ফেরেশতাদের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে এবং জ্বলন্ত অগ্নিশিখা (উল্কা) দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে।”

অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াত লাভের পর আকাশের দরজাগুলো এমনভাবে সুরক্ষিত করে দেওয়া হয়েছিল যে, জিনদের পক্ষে আর আকাশের খবর চুরি করা সম্ভব ছিল না। আগে তারা আকাশের বিভিন্ন স্থানে বসে ফেরেশতাদের কথোপকথন শুনে নিত এবং সেই গোপন খবরগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিত। কিন্তু যখন কুরআন নাযিল হতে শুরু করল, তখন আকাশকে কঠোর পাহারায় ঘিরে ফেলা হলো এবং যে জিনই উঁকি দিতে বা শোনার চেষ্টা করত, তাকে জ্বলন্ত অগ্নিশিখা (উল্কা) দ্বারা তাড়িয়ে দেওয়া হতো।

এটি ছিল নবুওয়াতের একটি মহান নিদর্শন এবং প্রমাণ যে, কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, কোনো জিন বা শয়তানের পক্ষ থেকে নয়। কারণ, আকাশের খবর জানার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কেউ সন্দেহ না করে যে, কুরআনের সংবাদ জিনদের মাধ্যমে আনা হয়েছে।


আমাদের জন্য শিক্ষণীয় দিক:

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাব এবং রাসূলকে রক্ষা করার জন্য কত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কুরআন এমন এক মহান গ্রন্থ, যার সুরক্ষার জন্য আকাশের ফেরেশতাদের নিয়োজিত করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের উচিত এই কুরআনকে ভালোবাসা, এর নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রতিদিন তা তিলাওয়াত করা। যে কুরআনের এত সম্মান, তার পাঠকারী ও অনুসারীদেরও আল্লাহ সম্মানিত করবেন, ইনশাআল্লাহ।

আরও জানতে পারি যে, জিনদের মতো সৃষ্টিও যখন আল্লাহর আদেশের কাছে নত হয় এবং সত্যকে মেনে নেয়, তখন আমাদের উচিত আরও বেশি করে সত্যকে আঁকড়ে ধরা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করুন। আমিন।



📜 আয়াত 6-10 — সূরা আল-জ্বিন

6وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্নম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।
7وَأَنَّهُمْ ظَنُّوا كَمَا ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَبْعَثَ اللَّهُ أَحَدًا
তারা ধারণা করত, যেমন তোমরা মানবেরা ধারণা কর যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ তা’আলা কখনও কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না।
8وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا
আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।
9وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ ۖ فَمَن يَسْتَمِعِ الْآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَّصَدًا
আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে।
10وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا
আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধন করার ইচ্ছা রাখেন।
আল-জ্বিনকুরআন সূচী
28আয়াত
মাক্কীRevelation
8আয়াত

অনুবাদ — আল-জ্বিন 8

সূরা আল-জ্বিন আয়াত 8 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী…

সূরা আয়াত 8/28 — সূরা আল-জ্বিন الجن (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-জ্বিন শুনুন, সূরা আল-জ্বিন অনুবাদ, সূরা আল-জ্বিন mp3, সূরা আল-জ্বিন pdf. আয়াত 6–10. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না