আত-তওবা · 29/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ ۝٢٩
Qaatilul lazeena laa yu`minoona billaahi wa laa bil yawmil Aakhiri wa laa yuharrimoona maa harramal laahu wa Rasooluhoo wa laa yadeenoona deenal haqqi minal lazeena ootul Kitaaba hattaa yu`tul jizyata ai yadinw wa hum saaghiroon
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • জিযিয়া: অমুসলিমদের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিনিময়ে নেওয়া কর।
  • عن يد: নিজ হাতে প্রদান করা, বিনা প্রতিরোধে এবং আনুগত্যের সাথে।
  • صاغرون: লাঞ্ছিত, অপদস্থ ও অধীনস্থ অবস্থায়।

তাফসীর:

হে মুমিনগণ! তোমরা সেই কিতাবধারীদের (ইয়াহুদী ও নাসারা) বিরুদ্ধে জিহাদ কর, যারা প্রকৃত অর্থে আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, আখিরাতের উপর বিশ্বাস রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম বলে মানে না এবং সত্য ধর্ম (ইসলাম) গ্রহণ করে না। তাদের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাও, যতক্ষণ না তারা নিজ হাতে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ অবস্থায় জিযিয়া কর প্রদান করে। জিযিয়া প্রদানের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভ করবে এবং মুসলিম রাষ্ট্রের অধীনস্থ নাগরিক হিসেবে থাকবে। এই নির্দেশ ছিল তখনকার প্রেক্ষাপটে, যখন ইসলামী রাষ্ট্র শক্তিশালী হচ্ছিল এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ও ইসলামের প্রচারের প্রয়োজন ছিল।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য দাবি করে।
  2. জিযিয়া ব্যবস্থা ইসলামের সহনশীলতার প্রমাণ—অমুসলিমদেরকে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়নি; বরং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিনিময়ে কর আদায় করা হয়েছে।
  3. ইসলামের বিধান প্রজ্ঞা ও যুক্তিসঙ্গত নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, যা সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
  4. মুসলিমদের কর্তব্য হলো আল্লাহর বিধানকে সম্মান করা এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা, যাতে সমাজে কল্যাণ ও শান্তি বজায় থাকে।
  5. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনেও আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়, যা মানবজাতির জন্য রহমত।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 27-31 — আত-তওবা

27ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
এরপর আল্লাহ যাদের প্রতি ইচ্ছা তওবার তওফীক দেবেন, আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
28يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ إِن شَاءَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
29قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
30وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ۖ ذَٰلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ ۖ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَبْلُ ۚ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ ۚ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।
31اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَٰهًا وَاحِدًا ۖ لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
29আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 29

সূরা আত-তওবা আয়াত 29 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও…

সূরা আয়াত 29/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 27–31. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না