Yaaa aiyuhal lazeena aamanooo innamal mushrikoona najasun falaa yaqrabul Masjidal Haraama ba`da `aamihim haaza; wa in khiftum `ailatan fasawfa yughnee kumul laahu min fadliheee in shaaa`; innallaaha `Aleemun hakeem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ ईमानदारों मुशरेकीन तो निरे नजिस हैं तो अब वह उस साल के बाद मस्जिदुल हराम (ख़ाना ए काबा) के पास फिर न फटकने पाएँ और अगर तुम (उनसे जुदा होने में) फक़रों फाक़ा से डरते हो तो अनकरीब ही ख़ुदा तुमको अगर चाहेगा तो अपने फज़ल (करम) से ग़नीकर देगा बेशक ख़ुदा बड़ा वाक़िफकार हिकमत वाला है
হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
নাজাসুন (নাপাক/অপবিত্র): এখানে শারীরিক নাপাকি নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও বিশ্বাসগত অপবিত্রতা বুঝানো হয়েছে। কারণ মুশরিকরা তাওহিদের বিরোধী, মূর্তিপূজক এবং নোংরা বিশ্বাস ও চরিত্রের অধিকারী।
আল-মাসজিদিল হারাম: শুধু মসজিদে হারাম নয়, বরং সমগ্র হারাম (মক্কা নগরী ও তার আশপাশের পবিত্র এলাকা) বুঝানো হয়েছে।
আমিহিম হাজা: তাদের এই বছর, অর্থাৎ হিজরি ৯ম বছর, যে বছর হজের সময় আবু বকর (রা.)-এর নেতৃত্বে হজ অনুষ্ঠিত হয় এবং আলী (রা.) সুরা বারা'আত (তওবা) ঘোষণা করেন।
আইলা: দারিদ্র্য, অভাব-অনটন।
ফাদলিহি: তাঁর অনুগ্রহ, দান, রিজিক।
তাফসির:
হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র। তাদের এই অপবিত্রতা শারীরিক নয়, বরং তাদের কুফরি, শিরক, মূর্তিপূজা, নোংরা বিশ্বাস, খারাপ চরিত্র ও নোংরা অভ্যাসের কারণে তারা আধ্যাত্মিকভাবে অপবিত্র। তাই তাদেরকে এই বছরের পর থেকে মসজিদে হারামের কাছে ঘেঁষতে দিও না। অর্থাৎ তাদেরকে মক্কার পবিত্র হারাম এলাকায় প্রবেশ করতে দিও না, যদিও তারা হজ বা ওমরার উদ্দেশ্যে আসে। কারণ তারা যখন হারাম এলাকায় প্রবেশ করবে, তখন তারা মসজিদে হারামের কাছেই পৌঁছে যাবে।
এই নির্দেশ জারি হওয়ার পর মুসলিমরা চিন্তায় পড়ে গেল যে, মুশরিকরা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মক্কায় আসত এবং তাদের মাধ্যমে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস আসত। তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলে আমাদের জীবিকা বন্ধ হয়ে যাবে না তো? তখন আল্লাহ তা'আলা আশ্বস্ত করলেন: যদি তোমরা তাদের আগমন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দারিদ্র্যের ভয় করো, তবে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন, যদি তিনি চান। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং তিনি যা দেন বা দেন না, তা তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতেই দেন। বাস্তবে এমনটিই ঘটেছিল—মুশরিকদের আগমন বন্ধ হওয়ার পর আল্লাহ মুসলিমদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাদের ভূমি উর্বর হয়ে ওঠে, ফলে তারা আগের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ হয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মুশরিক ও কাফিরদের থেকে মুসলিমদের পরিচয় ও বিশ্বাসগত দূরত্ব বজায় রাখা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। এটি মুসলিম উম্মাহর পরিচয় ও পবিত্রতা রক্ষা করে।
আল্লাহর নির্দেশ পালনে কোনো অর্থনৈতিক ক্ষতির ভয় করা উচিত নয়। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তিনি অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন।
ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শুধু শারীরিক পবিত্রতাই নয়, বিশ্বাস ও চরিত্রের পবিত্রতাও অপরিহার্য।
আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাপূর্ণ। তিনি যা করেন, বান্দার কল্যাণের জন্যই করেন, যদিও তা প্রথম দৃষ্টিতে কঠিন মনে হয়।
এই আয়াত মুসলিমদের আত্মবিশ্বাস ও আল্লাহর উপর ভরসা শেখায়। যখনই কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তখন আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রতীক্ষা করতে হবে।
তারপর আল্লাহ নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ করেন এমন সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর শাস্তি প্রদান করেন কাফেরদের এবং এটি হল কাফেরদের কর্মফল।
হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।