আত-তওবা · 28/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ إِن شَاءَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ۝٢٨
Yaaa aiyuhal lazeena aamanooo innamal mushrikoona najasun falaa yaqrabul Masjidal Haraama ba`da `aamihim haaza; wa in khiftum `ailatan fasawfa yughnee kumul laahu min fadliheee in shaaa`; innallaaha `Aleemun hakeem
📖 বাংলা অর্থ
হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • নাজাসুন (নাপাক/অপবিত্র): এখানে শারীরিক নাপাকি নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও বিশ্বাসগত অপবিত্রতা বুঝানো হয়েছে। কারণ মুশরিকরা তাওহিদের বিরোধী, মূর্তিপূজক এবং নোংরা বিশ্বাস ও চরিত্রের অধিকারী।
  • আল-মাসজিদিল হারাম: শুধু মসজিদে হারাম নয়, বরং সমগ্র হারাম (মক্কা নগরী ও তার আশপাশের পবিত্র এলাকা) বুঝানো হয়েছে।
  • আমিহিম হাজা: তাদের এই বছর, অর্থাৎ হিজরি ৯ম বছর, যে বছর হজের সময় আবু বকর (রা.)-এর নেতৃত্বে হজ অনুষ্ঠিত হয় এবং আলী (রা.) সুরা বারা'আত (তওবা) ঘোষণা করেন।
  • আইলা: দারিদ্র্য, অভাব-অনটন।
  • ফাদলিহি: তাঁর অনুগ্রহ, দান, রিজিক।

তাফসির:

হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র। তাদের এই অপবিত্রতা শারীরিক নয়, বরং তাদের কুফরি, শিরক, মূর্তিপূজা, নোংরা বিশ্বাস, খারাপ চরিত্র ও নোংরা অভ্যাসের কারণে তারা আধ্যাত্মিকভাবে অপবিত্র। তাই তাদেরকে এই বছরের পর থেকে মসজিদে হারামের কাছে ঘেঁষতে দিও না। অর্থাৎ তাদেরকে মক্কার পবিত্র হারাম এলাকায় প্রবেশ করতে দিও না, যদিও তারা হজ বা ওমরার উদ্দেশ্যে আসে। কারণ তারা যখন হারাম এলাকায় প্রবেশ করবে, তখন তারা মসজিদে হারামের কাছেই পৌঁছে যাবে।

এই নির্দেশ জারি হওয়ার পর মুসলিমরা চিন্তায় পড়ে গেল যে, মুশরিকরা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মক্কায় আসত এবং তাদের মাধ্যমে খাদ্যশস্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস আসত। তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলে আমাদের জীবিকা বন্ধ হয়ে যাবে না তো? তখন আল্লাহ তা'আলা আশ্বস্ত করলেন: যদি তোমরা তাদের আগমন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দারিদ্র্যের ভয় করো, তবে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন, যদি তিনি চান। তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং তিনি যা দেন বা দেন না, তা তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতেই দেন। বাস্তবে এমনটিই ঘটেছিল—মুশরিকদের আগমন বন্ধ হওয়ার পর আল্লাহ মুসলিমদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাদের ভূমি উর্বর হয়ে ওঠে, ফলে তারা আগের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ হয়।


শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. মুশরিক ও কাফিরদের থেকে মুসলিমদের পরিচয় ও বিশ্বাসগত দূরত্ব বজায় রাখা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। এটি মুসলিম উম্মাহর পরিচয় ও পবিত্রতা রক্ষা করে।
  2. আল্লাহর নির্দেশ পালনে কোনো অর্থনৈতিক ক্ষতির ভয় করা উচিত নয়। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তিনি অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করেন।
  3. ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শুধু শারীরিক পবিত্রতাই নয়, বিশ্বাস ও চরিত্রের পবিত্রতাও অপরিহার্য।
  4. আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাপূর্ণ। তিনি যা করেন, বান্দার কল্যাণের জন্যই করেন, যদিও তা প্রথম দৃষ্টিতে কঠিন মনে হয়।
  5. এই আয়াত মুসলিমদের আত্মবিশ্বাস ও আল্লাহর উপর ভরসা শেখায়। যখনই কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তখন আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রতীক্ষা করতে হবে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 26-30 — আত-তওবা

26ثُمَّ أَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ
তারপর আল্লাহ নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ করেন এমন সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর শাস্তি প্রদান করেন কাফেরদের এবং এটি হল কাফেরদের কর্মফল।
27ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
এরপর আল্লাহ যাদের প্রতি ইচ্ছা তওবার তওফীক দেবেন, আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
28يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ إِن شَاءَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রে?480; আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
29قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
30وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ۖ ذَٰلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ ۖ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَبْلُ ۚ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ ۚ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
28আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 28

সূরা আত-তওবা আয়াত 28 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা…

সূরা আয়াত 28/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 26–30. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না