আর-রাদ · 15/43
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আর-রাদ
وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُم بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ ۩ ۝١٥
Wa lillaahi yasjudu man fis samaawaati wal ardi taw `anw wa karhanw wa zilaaluhum bilghuduwwi wal aasaal
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের প্রতিচ্ছায়াও সকাল-সন্ধ্যায়।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • طَوْعًا = স্বেচ্ছায়, নিজের ইচ্ছায়।
  • كَرْهًا = অনিচ্ছা সত্ত্বেও, বাধ্য হয়ে।
  • الظِّلَال = ছায়াসমূহ (ظِل এর বহুবচন)।
  • الْغُدُوِّ = সকাল বেলা, ভোর।
  • الْآصَال = সন্ধ্যা, আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় (أَصِيل এর বহুবচন)।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলার জন্যই সিজদা করে বা অনুগত হয় আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু আছে। সব সৃষ্টিজগত তাঁরই সামনে মাথা নত করে। তবে এ অনুগত্যের ধরন ভিন্ন ভিন্ন। মুমিনগণ স্বেচ্ছায়, ভালোবাসা ও ইখলাসের সাথে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। অপরদিকে কাফির ও মুশরিকরা যদিও আল্লাহর ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকার করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারাও আল্লাহর অনুগত। কারণ তাদের অস্তিত্ব, তাদের জীবন-মৃত্যু, তাদের চলাফেরা—সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে। তারা চাই বা না চাই, আল্লাহর বিধান তাদের উপর কার্যকর হয়। এমনকি তাদের ছায়াও আল্লাহর আদেশে বাধ্য হয়ে সকাল-সন্ধ্যায় একদিক থেকে অন্যদিকে হেলে পড়ে, লম্বা হয় বা ছোট হয়—এসব কিছুই আল্লাহর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। অর্থাৎ, প্রতিটি বস্তুর ছায়া পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি অনুগত এবং তাঁর ইশারায় চলমান। এটি আল্লাহর মহাশক্তির এক চিরন্তন প্রমাণ।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব সমগ্র সৃষ্টিজগতের উপর প্রতিষ্ঠিত। কেউ তাঁর আদেশের বাইরে নয়।
  2. মুমিনের উচিত আনন্দের সাথে, ভালোবাসা ও বিনয়ের সাথে আল্লাহর ইবাদত করা, কারণ এটাই স্বাভাবিক ও প্রকৃতিগত অবস্থা। কাফিররাও যখন বিপদে পড়ে তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চায়—এটাই তাদের ফিতরাতের প্রমাণ।
  3. প্রকৃতির প্রতিটি নিয়ম, প্রতিটি পরিবর্তন—যেমন ছায়ার নড়াচড়া, সকাল-সন্ধ্যার আগমন—সবই আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্বের নিদর্শন। তাই আমাদের উচিত এসব দৃশ্য দেখে আল্লাহর কথা স্মরণ করা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।
  4. এই আয়াত তিলাওয়াতের স্থানে সিজদা রয়েছে, যা পাঠ করলে সিজদা করা সুন্নত। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর সামনে বিনয় প্রকাশের একটি সুন্দর সুযোগ।


📜 আয়াত 13-17 — সূরা আর-রাদ

13وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَن يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ
তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচছা, তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন; তথাপি তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতন্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।
14لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ ۖ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُم بِشَيْءٍ إِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ ۚ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ
সত্যের আহবান একমাত্র তাঁরই এবং তাকে ছাড়া যাদেরকে ডাকে, তারা তাদের কোন কাজে আসে না; ওদের দৃষ্টান্ত সেরূপ, যেমন কেউ দু’ হাত পানির দিকে প্রসারিত করে যাতে পানি তার মুখে পৌঁছে যায়। অথচ পানি কোন সময় পৌঁছাবে না। কাফেরদের যত আহবান তার সবই পথভ্রষ্টতা।
15وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُم بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ ۩
আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের প্রতিচ্ছায়াও সকাল-সন্ধ্যায়।
16قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ ۚ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُم مِّن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ ۗ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ ۚ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ
জিজ্ঞেস করুন নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের পালনকর্তা কে? বলে দিনঃ আল্লাহ! বলুনঃ তবে কি তোমরা আল্লাহ ব্যতীত এমন অভিভাবক স্থির করেছ, যারা নিজেদের ভাল-মন্দের ও মালিক নয়? বলুনঃ অন্ধ চক্ষুষ্মান কি সমান হয়? অথবা কোথাও কি অন্ধকার ও আলো সমান হয়। তবে কি তারা আল্লাহর জন্য এমন অংশীদার স্থির করেছে যে, তারা কিছু সৃষ্টি করেছে, যেমন সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ? অতঃপর তাদের সৃষ্টি এরূপ বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে? বলুনঃ আল্লাহই প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী।
17أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَدًا رَّابِيًا ۚ وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَاءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثْلُهُ ۚ كَذَٰلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ ۚ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً ۖ وَأَمَّا مَا يَنفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ ۚ كَذَٰلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ
তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর স্রোতধারা প্রবাহিত হতে থাকে নিজ নিজ পরিমাণ অনুযায়ী। অতঃপর স্রোতধারা স্ফীত ফেনারাশি উপরে নিয়ে আসে। এবং অলঙ্কার অথবা তৈজসপত্রের জন্যে যে বস্তুকে আগুনে উত্তপ্ত করে, তাতেও তেমনি ফেনারাশি থাকে। এমনি ভাবে আল্লাহ সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত প্রদান করেন। অতএব, ফেনা তো শুকিয়ে খতম হয়ে যায় এবং যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিতে অবশিষ্ট থাকে। আল্লাহ এমনিভাবে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।
আর-রাদকুরআন সূচী
43আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
15আয়াত

অনুবাদ — আর-রাদ 15

সূরা আর-রাদ আয়াত 15 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে আছে ইচ্ছায়…

সূরা আয়াত 15/43 — সূরা আর-রাদ الرعد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আর-রাদ শুনুন, সূরা আর-রাদ অনুবাদ, সূরা আর-রাদ mp3, সূরা আর-রাদ pdf. আয়াত 13–17. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না