আল-কাহফ · 21/110
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-কাহফ
وَكَذَٰلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ ۖ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِم بُنْيَانًا ۖ رَّبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ ۚ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَىٰ أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِم مَّسْجِدًا ۝٢١
Wa kazaalika a`sarnaa `alaihim liya`lamooo anna wa`dal laahi haqqunw wa annas Saa`ata laa raiba feehaa iz yatanaaza`oona bainahum amrahum faqaalub noo `alaihim bunyaanaa; Rabbuhum a`lamu bihim; qaalal lazeena ghalaboo `alaaa amrihim lanat takhizanna `alaihim masjidaa
📖 বাংলা অর্থ
এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বললঃ তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের পালনকর্তা তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল, তারা বললঃ আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে মসজিদ নির্মান করব।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • أَعْثَرْنَا অর্থ: আমরা অবগত করালাম, প্রকাশ করে দিলাম।
  • يَتَنَازَعُونَ অর্থ: তারা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হলো।
  • بُنْيَانًا অর্থ: একটি নির্মাণ/প্রাচীর।
  • غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ অর্থ: যারা বিষয়টিতে প্রভাবশালী ও কর্তৃত্বশীল ছিল।

তাফসীর:

যেভাবে আমরা তাদেরকে বহু বছর ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলাম এবং তারপর জাগ্রত করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই আমরা তাদের শহরের লোকদেরকে তাদের উপর অবগত করালাম। ঘটনা ছিল এমন যে, তাদের একজনকে রুপার মুদ্রা নিয়ে খাবার কিনতে পাঠানো হলে দোকানদার মুদ্রাটি দেখে বিস্মিত হয়, কারণ সেটি ছিল বহু বছর আগেকার মুদ্রা। এভাবে তাদের রহস্য উন্মোচিত হয় এবং লোকেরা তাদের সম্পর্কে জানতে পারে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা চেয়েছিলেন যে, লোকেরা যেন নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি (পুনরুত্থান ও প্রতিদান) সম্পূর্ণ সত্য এবং কিয়ামত সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ যিনি এই যুবকদেরকে এত দীর্ঘকাল জীবিত রেখে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে এবং খাদ্য-পানীয় ছাড়াই তাদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম, তিনি অবশ্যই মৃতদেরকে পুনরুজ্জীবিত করতেও সক্ষম।

যখন তারা তাদের সম্পর্কে জানতে পারল এবং পরে তারা মৃত্যুবরণ করল, তখন তাদের ব্যাপারে লোকেরা মতভেদে লিপ্ত হলো — তাদের সাথে কী করা উচিত। একদল বলল: তাদের (গুহার) দরজায় একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দাও এবং তাদেরকে সেখানেই রেখে দাও, তাদের রবই তাদের অবস্থা সম্পর্কে ভালো জানেন। কিন্তু যারা বিষয়টিতে প্রভাবশালী ও কর্তৃত্বশীল ছিল তারা বলল: আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করব, যাতে লোকেরা সেখানে নামাজ পড়ে এবং তাদের ঘটনা স্মরণ করে শিক্ষা গ্রহণ করে।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর কুদরতের কোনো সীমা নেই — তিনি যাকে ইচ্ছা দীর্ঘকাল ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন এবং আবার জাগ্রত করতে পারেন। এটি পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।
  2. কিয়ামত ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস প্রতিটি মুমিনের ঈমানের অপরিহার্য অংশ। এই ঘটনা সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।
  3. সৎকর্মশীল ও আল্লাহর ওলীদের সম্মান করা উচিত, তবে তাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করা বা তাদের কবরকে পূজার স্থানে পরিণত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরকে মসজিদ বানানো, কবরের উপর নির্মাণ করা এবং সেগুলোকে চুনকাম করা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন, কারণ এগুলো শিরকের পথ খুলে দেয়।
  4. মতভেদের সময় যারা জ্ঞানী ও ন্যায়পরায়ণ, তাদের মতামতই প্রাধান্য পাওয়া উচিত, আর অজ্ঞ ও আবেগপ্রবণদের কথায় কান দেওয়া উচিত নয়।
  5. আল্লাহর ওলীদের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সৎকাজে উদ্বুদ্ধ হওয়া প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য, তবে তা যেন ইসলামের সীমারেখার মধ্যে থেকে হয়।


📜 আয়াত 19-23 — সূরা আল-কাহফ

19وَكَذَٰلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ ۚ قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ ۖ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۚ قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ فَابْعَثُوا أَحَدَكُم بِوَرِقِكُمْ هَٰذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنظُرْ أَيُّهَا أَزْكَىٰ طَعَامًا فَلْيَأْتِكُم بِرِزْقٍ مِّنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا
আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়।
20إِنَّهُمْ إِن يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَن تُفْلِحُوا إِذًا أَبَدًا
তারা যদি তোমাদের খবর জানতে পারে, তবে পাথর মেরে তোমাদেরকে হত্যা করবে, অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে। তাহলে তোমরা কখনই সাফল্য লাভ করবে না।
21وَكَذَٰلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ ۖ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِم بُنْيَانًا ۖ رَّبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ ۚ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَىٰ أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِم مَّسْجِدًا
এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বললঃ তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের পালনকর্তা তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল, তারা বললঃ আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে মসজিদ নির্মান করব।
22سَيَقُولُونَ ثَلَاثَةٌ رَّابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ وَيَقُولُونَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًا بِالْغَيْبِ ۖ وَيَقُولُونَ سَبْعَةٌ وَثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ ۚ قُل رَّبِّي أَعْلَمُ بِعِدَّتِهِم مَّا يَعْلَمُهُمْ إِلَّا قَلِيلٌ ۗ فَلَا تُمَارِ فِيهِمْ إِلَّا مِرَاءً ظَاهِرًا وَلَا تَسْتَفْتِ فِيهِم مِّنْهُمْ أَحَدًا
অজ্ঞাত বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করে এখন তারা বলবেঃ তারা ছিল তিন জন; তাদের চতুর্থটি তাদের কুকুর। একথাও বলবে; তারা পাঁচ জন। তাদের ছষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর। আরও বলবেঃ তারা ছিল সাত জন। তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুনঃ আমার পালনকর্তা তাদের সংখ্যা ভাল জানেন। তাদের খবর অল্প লোকই জানে। সাধারণ আলোচনা ছাড়া আপনি তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করবেন না এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করবেন না।
23وَلَا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَٰلِكَ غَدًا
আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব।
আল-কাহফকুরআন সূচী
110আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
21আয়াত

অনুবাদ — আল-কাহফ 21

সূরা আল-কাহফ আয়াত 21 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত…

সূরা আয়াত 21/110 — সূরা আল-কাহফ الكهف (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-কাহফ শুনুন, সূরা আল-কাহফ অনুবাদ, সূরা আল-কাহফ mp3, সূরা আল-কাহফ pdf. আয়াত 19–23. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Thursday, October 1, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না