অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি শব্দের অর্থ:
- الأَهِلَّةِ (আহিল্লাহ): চাঁদের আলোকিত অংশসমূহ, অর্থাৎ হিলাল বা নতুন চাঁদ থেকে শুরু করে পূর্ণিমা পর্যন্ত চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা।
- مَوَاقِيتُ (মাওয়াকীত): নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের মাধ্যম, সময়জ্ঞানের চিহ্ন।
- الْبِرُّ (বিরর): সত্যিকারের সৎকর্ম, কল্যাণ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী কাজ।
- ظُهُورِهَا (যুহূরিহা): ঘরের পেছন দিক থেকে।
- أَبْوَابِهَا (আবওয়াবিহা): ঘরের দরজা বা সামনের প্রবেশপথ।
- اتَّقَى (ইত্তাক্বা): আল্লাহকে ভয় করা, তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকা।
- تُفْلِحُونَ (তুফলিহূন): সফলকাম হওয়া, সাফল্য লাভ করা।
তাফসীর:
হে নবী! আপনার সাহাবীগণ আপনাকে জিজ্ঞেস করছে—চাঁদের হিলাল বা নতুন চাঁদ সম্পর্কে। কেন এটি প্রথমে অতি সরু সুতার মতো দেখা যায়, তারপর ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং পূর্ণিমায় পরিণত হয়, আবার ক্রমশ কমতে কমতে একেবারে অদৃশ্য হয়ে যায়? এর হিকমত বা রহস্য কী?
আল্লাহ তাআলা আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আপনি তাদেরকে উত্তরে বলুন: এই চাঁদের পরিবর্তনশীল অবস্থা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণের একটি মহান নিদর্শন। এর মাধ্যমেই মানুষ তাদের ইবাদত, লেনদেন এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজের সময় জানতে পারে। যেমন—রোজা রাখার মাস, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন, হজের নির্দিষ্ট সময়, জাকাত আদায়ের বছর পূর্ণ হওয়া, স্ত্রীর ইদ্দতের সময়সীমা, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ইত্যাদি। সূর্য যেমন সবসময় একই রকম থাকে, কিন্তু চাঁদকে আল্লাহ পরিবর্তনশীল করেছেন, যাতে মানুষ সহজেই মাস ও বছর গণনা করতে পারে এবং তাদের ধর্মীয় ও পার্থিব কাজকর্ম সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে পারে।
এরপর আল্লাহ তাআলা জাহিলিয়াতের একটি ভ্রান্ত প্রথার সংশোধন করেছেন। জাহিলিয়াতের যুগে এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে কিছু মানুষ যখন হজ বা উমরার ইহরাম বাঁধত, তখন তারা ঘরের দরজা দিয়ে প্রবেশ করাকে অশুভ বা অনুচিত মনে করত। তারা ঘরের পেছনের দেয়াল বা ছাদ দিয়ে লাফিয়ে ঘরে ঢুকত, মনে করত এটিই সৎকর্ম ও তাকওয়ার পরিচয়। আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রকৃত সৎকর্ম বা কল্যাণ এ রকম কৃত্রিম ও কষ্টকর কাজের মধ্যে নয়, বরং প্রকৃত কল্যাণ হলো—আল্লাহকে ভয় করা, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকা। তাই ঘরের দরজা দিয়েই প্রবেশ করো, কারণ আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কষ্ট নয়। আর আল্লাহকে ভয় করো সকল কাজে, যাতে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য লাভ করতে পারো।
এই শিক্ষা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইসলাম কখনো কৃত্রিম কষ্ট বা অহেতুক কঠোরতা চায় না, বরং এটি সহজ, স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত পথ দেখায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলে এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে, সেই-ই সত্যিকারের সফল। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই সত্য বুঝার এবং তা মেনে চলার তাওফিক দান করুন।
📜 আয়াত 187-191 — সূরা আল-বাকারা
অনুবাদ — আল-বাকারা 189
সূরা আল-বাকারা আয়াত 189 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও…সূরা আয়াত 189/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 187–191. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Monday, September 7, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








