আল-বাকারা · 189/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
۞ يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ ۗ وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَىٰ ۗ وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ۝١٨٩
Yas`aloonaka `anil ahillati qul hiya mawaaqeetu linnaasi wal Hajj; wa laisal birru bi an taatul buyoota min zuhoorihaa wa laakinnal birra manit taqaa; waatul buyoota min abwaa bihaa; wattaqullaaha la`allakum tuflihoon
📖 বাংলা অর্থ
তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম। আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী বা কল্যাণ নেই। অবশ্য নেকী হল আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা নিজেদের বাসনায় কৃতকার্য হতে পার।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • الأَهِلَّةِ (আহিল্লাহ): চাঁদের আলোকিত অংশসমূহ, অর্থাৎ হিলাল বা নতুন চাঁদ থেকে শুরু করে পূর্ণিমা পর্যন্ত চাঁদের বিভিন্ন অবস্থা।
  • مَوَاقِيتُ (মাওয়াকীত): নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের মাধ্যম, সময়জ্ঞানের চিহ্ন।
  • الْبِرُّ (বিরর): সত্যিকারের সৎকর্ম, কল্যাণ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী কাজ।
  • ظُهُورِهَا (যুহূরিহা): ঘরের পেছন দিক থেকে।
  • أَبْوَابِهَا (আবওয়াবিহা): ঘরের দরজা বা সামনের প্রবেশপথ।
  • اتَّقَى (ইত্তাক্বা): আল্লাহকে ভয় করা, তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকা।
  • تُفْلِحُونَ (তুফলিহূন): সফলকাম হওয়া, সাফল্য লাভ করা।

তাফসীর:

হে নবী! আপনার সাহাবীগণ আপনাকে জিজ্ঞেস করছে—চাঁদের হিলাল বা নতুন চাঁদ সম্পর্কে। কেন এটি প্রথমে অতি সরু সুতার মতো দেখা যায়, তারপর ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং পূর্ণিমায় পরিণত হয়, আবার ক্রমশ কমতে কমতে একেবারে অদৃশ্য হয়ে যায়? এর হিকমত বা রহস্য কী?

আল্লাহ তাআলা আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আপনি তাদেরকে উত্তরে বলুন: এই চাঁদের পরিবর্তনশীল অবস্থা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণের একটি মহান নিদর্শন। এর মাধ্যমেই মানুষ তাদের ইবাদত, লেনদেন এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজের সময় জানতে পারে। যেমন—রোজা রাখার মাস, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন, হজের নির্দিষ্ট সময়, জাকাত আদায়ের বছর পূর্ণ হওয়া, স্ত্রীর ইদ্দতের সময়সীমা, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ইত্যাদি। সূর্য যেমন সবসময় একই রকম থাকে, কিন্তু চাঁদকে আল্লাহ পরিবর্তনশীল করেছেন, যাতে মানুষ সহজেই মাস ও বছর গণনা করতে পারে এবং তাদের ধর্মীয় ও পার্থিব কাজকর্ম সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে পারে।

এরপর আল্লাহ তাআলা জাহিলিয়াতের একটি ভ্রান্ত প্রথার সংশোধন করেছেন। জাহিলিয়াতের যুগে এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে কিছু মানুষ যখন হজ বা উমরার ইহরাম বাঁধত, তখন তারা ঘরের দরজা দিয়ে প্রবেশ করাকে অশুভ বা অনুচিত মনে করত। তারা ঘরের পেছনের দেয়াল বা ছাদ দিয়ে লাফিয়ে ঘরে ঢুকত, মনে করত এটিই সৎকর্ম ও তাকওয়ার পরিচয়। আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রকৃত সৎকর্ম বা কল্যাণ এ রকম কৃত্রিম ও কষ্টকর কাজের মধ্যে নয়, বরং প্রকৃত কল্যাণ হলো—আল্লাহকে ভয় করা, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকা। তাই ঘরের দরজা দিয়েই প্রবেশ করো, কারণ আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কষ্ট নয়। আর আল্লাহকে ভয় করো সকল কাজে, যাতে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য লাভ করতে পারো।

এই শিক্ষা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইসলাম কখনো কৃত্রিম কষ্ট বা অহেতুক কঠোরতা চায় না, বরং এটি সহজ, স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত পথ দেখায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলে এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে, সেই-ই সত্যিকারের সফল। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই সত্য বুঝার এবং তা মেনে চলার তাওফিক দান করুন।



📜 আয়াত 187-191 — সূরা আল-বাকারা

187أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।
188وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।
189۞ يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ ۗ وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَىٰ ۗ وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম। আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী বা কল্যাণ নেই। অবশ্য নেকী হল আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা নিজেদের বাসনায় কৃতকার্য হতে পার।
190وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
191وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ ۚ وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ ۚ وَلَا تُقَاتِلُوهُمْ عِندَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ ۖ فَإِن قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ ۗ كَذَٰلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ
আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীRevelation
189আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 189

সূরা আল-বাকারা আয়াত 189 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও…

সূরা আয়াত 189/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 187–191. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না