Wa laa taakuloo amwaalakum bainakum bilbaatili wa tudloo bihaaa ilal hukkaami litaakuloo fareeqam min amwaalin naasi bil ismi wa antum ta`lamoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और आपस में एक दूसरे का माल नाहक़ न खाओ और न माल को (रिश्वत में) हुक्काम के यहाँ झोंक दो ताकि लोगों के माल में से (जो) कुछ हाथ लगे नाहक़ ख़ुर्द बुर्द कर जाओ हालाकि तुम जानते हो
তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
بِالْبَاطِلِ – অন্যায়ভাবে, বৈধ পথ ছাড়া (যেমন: মিথ্যা শপথ, চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, সুদ ইত্যাদি)।
تُدْلُوا بِهَا – তোমরা তা (সম্পদ) নিয়ে যাবে বা পেশ করবে।
إِلَى الْحُكَّامِ – বিচারক বা শাসকদের কাছে (ঘুষ বা মিথ্যা দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য)।
فَرِيقًا – একটি দল বা অংশ।
بِالْإِثْمِ – পাপের মাধ্যমে, জুলুম করে।
তাফসির:
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলছেন: তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না। অর্থাৎ, কোনো বৈধ ও শরিয়তসম্মত পথ ছাড়া (যেমন: ব্যবসা, উপহার, শ্রমের বিনিময় ইত্যাদি) কারো সম্পদ নিজের করে নেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। এর মধ্যে রয়েছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, প্রতারণা, জুলুম করে জোরপূর্বক দখল, সুদ, জুয়া, ঘুষ ইত্যাদি।
আরও বলা হচ্ছে: তোমরা তোমাদের এই অন্যায় দাবি বা মিথ্যা মামলা প্রমাণের জন্য বিচারক বা শাসকদের কাছে সম্পদ পেশ করো না (অর্থাৎ ঘুষ দিও না), যাতে করে তাদের রায়ের মাধ্যমে তোমরা অন্য মানুষের সম্পদের একটি অংশ জুলুম ও পাপের মাধ্যমে গ্রাস করতে পারো। অথচ তোমরা জানো যে, এটি সম্পূর্ণ হারাম ও অন্যায়। জেনেশুনে পাপ করা আরও মারাত্মক অপরাধ, কারণ এতে আল্লাহর বিধানকে অমান্য করার পাশাপাশি বিবেককেও দমন করা হয়।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম সম্পদের পবিত্রতা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর। অন্যের সম্পদ হরণ করা কেবল দুনিয়ার শাস্তিই নয়, আখিরাতেও কঠিন জবাবদিহির কারণ।
ঘুষ ও দুর্নীতি এমন মারাত্মক পাপ যা সমাজের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে এবং নিরপরাধ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইসলাম এর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
জেনেশুনে পাপ করলে তার শাস্তি দ্বিগুণ। তাই প্রতিটি কাজে আল্লাহর ভয় রাখা জরুরি, কারণ তিনি সবকিছু দেখছেন।
নিজের হালাল রিজিকের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং অন্যায় পথে সম্পদ অর্জন থেকে দূরে থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এতে দুনিয়াতেও বরকত হয় এবং আখিরাতেও মুক্তি মেলে।
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।
রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে।
তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে। বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম। আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী বা কল্যাণ নেই। অবশ্য নেকী হল আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। আর তোমরা ঘরে প্রবেশ কর দরজা দিয়ে এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা নিজেদের বাসনায় কৃতকার্য হতে পার।
আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।