আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
وَأَنفِقُوا = তোমরা ব্যয় করো।
فِي سَبِيلِ اللهِ = আল্লাহর পথে (জিহাদ ও দ্বীনের কাজে)।
لَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ = নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।
وَأَحْسِنُوا = তোমরা অনুগ্রহ/সুন্দর কাজ করো (ইহসান করো)।
الْمُحْسِنِينَ = যারা ইহসানকারী (সব কাজে সুন্দর ও নিখুঁতভাবে পালনকারী)।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর পথে—অর্থাৎ দ্বীন ইসলামের সম্মান ও শক্তির জন্য, জিহাদ ও অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে—নিজেদের সম্পদ ব্যয় করতে থাকো। আর নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। এর অর্থ হলো, আল্লাহর পথে ব্যয় ও জিহাদ ত্যাগ করে নিজেদেরকে বিপদে ফেলো না। আবার এমন কোনো কাজও করো না যা তোমাদের জন্য ধ্বংসের কারণ হতে পারে, যেমন—যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মঘাতী ঝুঁকি নেওয়া বা এমন স্থানে প্রবেশ করা যেখানে নিজের ক্ষতি নিশ্চিত। বরং সর্বদা সতর্ক ও দূরদর্শী হও।
আর তোমরা সব কাজে ইহসান করো—অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত, মানুষের সাথে লেনদেন, আচার-আচরণ এবং নিজেদের জীবনযাপনে সুন্দর ও নিখুঁত পদ্ধতি অবলম্বন করো। ব্যয়েও মধ্যপন্থা অবলম্বন করো—অপচয় না করা, আবার কৃপণতাও না করা। আল্লাহর ওপর সুধারণা রাখো এবং সব কাজে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা ইহসান করে—যারা নিজেদের সব কাজে সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ মান বজায় রাখে। তাদের জন্য তিনি পুরস্কার বৃদ্ধি করেন এবং সঠিক পথের তাওফিক দান করেন।
ফায়দা (শিক্ষা):
আল্লাহর পথে ব্যয় করা ঈমানের পরিচয় এবং দ্বীনকে শক্তিশালী করার মাধ্যম। এতে মুমিনের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া—যেমন আল্লাহর পথে কাজ বন্ধ করে দেওয়া বা আত্মঘাতী ঝুঁকি নেওয়া—সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। ইসলাম জীবনকে মূল্য দেয় এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে উৎসাহ দেয়।
ইহসান (সুন্দর ও নিখুঁত কাজ) ইসলামের একটি মহান শিক্ষা। প্রতিটি কাজে—ইবাদত, আচরণ, লেনদেন—সুন্দর মান বজায় রাখলে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়।
আল্লাহর ভালোবাসা লাভের চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছু নেই। আর এই ভালোবাসা অর্জিত হয় নিষ্ঠা, ইহসান ও মধ্যপন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে।
আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।
সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা। আর সম্মান রক্ষা করারও বদলা রয়েছে। বস্তুতঃ যারা তোমাদের উপর জবর দস্তি করেছে, তোমরা তাদের উপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা করেছে তোমাদের উপর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।
আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ্ব ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যাকিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের উপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কুরবানী করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ্জ্ব ওমরাহ একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন।
হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।