Al-Hajju ashhurum ma`-loomaat; faman farada feeinnal hajja falaa rafasa wa laa fusooqa wa laa jidaala fil Hajj; wa maa taf`aloo min khairiny ya`lamhul laah; wa tazawwadoo fa inna khairaz zaadit taqwaa; wattaqooni yaaa ulil albaab
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
हज के महीने तो (अब सब को) मालूम हैं (शव्वाल, ज़ीक़ादा, जिलहज) पस जो शख्स उन महीनों में अपने ऊपर हज लाज़िम करे तो (एहराम से आख़िर हज तक) न औरत के पास जाए न कोई और गुनाह करे और न झगडे और नेकी का कोई सा काम भी करों तो ख़ुदा उस को खूब जानता है और (रास्ते के लिए) ज़ाद राह मुहिय्या करो और सब मे बेहतर ज़ाद राह परहेज़गारी है और ऐ अक्लमन्दों मुझ से डरते रहो
হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
আশহুরুন মা‘লূমাত — নির্ধারিত মাসসমূহ।
ফারাদা — নিজের ওপর ওয়াজিব করা (ইহরাম বাঁধা)।
রাফাছ — স্ত্রী-সহবাস ও তার পূর্বাভাস (অশ্লীল কথা-কাজ)।
ফুসূক — সকল প্রকার পাপ ও সীমালঙ্ঘন।
জিদাল — ঝগড়া-বিবাদ ও তর্ক-বিতর্ক।
যাদ — পাথেয় (সফরের খাবার-দাবার)।
উলিল আলবাব — বিবেকবান ও জ্ঞানী ব্যক্তিগণ।
তাফসীর:
হজের নির্ধারিত সময় হলো কয়েকটি পরিচিত মাস — শাওয়াল, যিলক্বাদ এবং যিলহজের প্রথম দশ দিন। এই সময়ের মধ্যে যে ব্যক্তি ইহরাম বেঁধে হজ নিজের ওপর ওয়াজিব করে নেয়, তার জন্য হজের এই পবিত্র সময়ে স্ত্রী-সহবাস ও তার দিকে ধাবিত করে এমন কথা-কাজ সম্পূর্ণ হারাম হয়ে যায়। তেমনি হারাম হয় সকল প্রকার পাপকর্ম ও আল্লাহর অবাধ্যতা, কারণ এই সময় ও স্থানের মর্যাদা অত্যন্ত মহান। আর ঝগড়া-বিবাদ, তর্ক-বিতর্ক বা এমন কথাবার্তা যা রাগ ও শত্রুতার সৃষ্টি করে, তাও হজের সময় নিষিদ্ধ।
আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা যে কোনো ভালো কাজই করো না কেন — তা হোক নামাজ, রোজা, সদকা বা অন্য কোনো নেক আমল — আল্লাহ তা সম্পূর্ণ জানেন এবং তিনি প্রত্যেককে তার কাজের উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন। তাই হজের সফরে তোমরা প্রয়োজনীয় খাবার-দাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে নিয়ে যাও, যাতে অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়। তবে মনে রেখো, প্রকৃত ও সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া — অর্থাৎ আল্লাহভীতি। যেমন সফরের জন্য খাদ্য প্রয়োজন, তেমনি আখিরাতের সফরের জন্যও তাকওয়ার পাথেয় প্রয়োজন। তাই হে বিবেকবান ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা! তোমরা আমার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকো, আমার আদেশ পালন করো এবং নিষেধ থেকে দূরে থাকো। প্রকৃত বুদ্ধিমান তারাই, যারা আল্লাহকে ভয় করে।
ফায়দা (শিক্ষা):
হজের একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, যা ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান — এতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শৃঙ্খলা নিহিত।
হজের পবিত্র সময়ে নিজের চরিত্র ও আচরণকে পবিত্র রাখা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য — এটি আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ।
ভালো কাজ কখনো নষ্ট হয় না; আল্লাহ প্রতিটি নেক কাজের খবর রাখেন এবং এর প্রতিদান দেবেন — এটি মুমিনের জন্য বিশাল সান্ত্বনা।
দুনিয়ার সফরের জন্য যেমন পাথেয় প্রয়োজন, তেমনি আখিরাতের সফরের জন্যও তাকওয়ার পাথেয় জরুরি — যে ব্যক্তি তাকওয়া অর্জন করতে পেরেছে, সে-ই সত্যিকারের সফল।
বিবেক ও জ্ঞানের প্রকৃত দাবি হলো আল্লাহকে ভয় করা — যার অন্তরে আল্লাহভীতি নেই, তার জ্ঞান ও বুদ্ধি পরিপূর্ণতা লাভ করেনি।
আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ্ব ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যাকিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের উপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কুরবানী করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ্জ্ব ওমরাহ একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন।
হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।
তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষন করায় কোন পাপ নেই। অতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে, তখন মাশ‘ আরে-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ কর। আর তাঁকে স্মরণ কর তেমনি করে, যেমন তোমাদিগকে হেদায়েত করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তোমরা ছিলে অজ্ঞ।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।