Laisa `alaikum junaahun an tabtaghoo fad lam mir rabbikum; fa izaaa afadtum min `Arafaatin fazkurul laaha `indal-Mash`aril Haraami waz kuroohu kamaa hadaakum wa in kuntum min qablihee laminad daaaleen
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষন করায় কোন পাপ নেই। অতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে, তখন মাশ‘ আরে-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ কর। আর তাঁকে স্মরণ কর তেমনি করে, যেমন তোমাদিগকে হেদায়েত করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তোমরা ছিলে অজ্ঞ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
इस में कोई इल्ज़ाम नहीं है कि (हज के साथ) तुम अपने परवरदिगार के फज़ल (नफ़ा तिजारत) की ख्वाहिश करो और फिर जब तुम अरफात से चल खड़े हो तो मशअरुल हराम के पास ख़ुदा का जिक्र करो और उस की याद भी करो तो जिस तरह तुम्हे बताया है अगरचे तुम इसके पहले तो गुमराहो से थे
তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষন করায় কোন পাপ নেই। অতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে, তখন মাশ‘ আরে-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ কর। আর তাঁকে স্মরণ কর তেমনি করে, যেমন তোমাদিগকে হেদায়েত করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তোমরা ছিলে অজ্ঞ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
جُنَاحٌ – গুনাহ, দোষ, বাধা।
تَبْتَغُوا – অন্বেষণ করা, কামনা করা।
فَضْلًا – অনুগ্রহ, রিজিক, ব্যবসায়িক লাভ।
أَفَضْتُم – ফিরে এলেন, প্রত্যাবর্তন করলেন (আরাফাত থেকে)।
عَرَفَاتٍ – আরাফাতের ময়দান, হজের প্রধান স্থান (৯ই জিলহজ)।
الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ – মুযদালিফা, পবিত্র স্থান।
তাফসীর:
হজের সময় ব্যবসা-বাণিজ্য বা বৈধ উপায়ে রিজিক অন্বেষণ করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে কোনো গুনাহ নেই। আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, হজের মৌসুমে নিজের প্রয়োজন মেটানো বা পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ব্যবসা করা কোনো অপরাধ নয়। বরং এটি আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করা, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য হালাল করেছেন।
এরপর আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন— যখন তোমরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে (৯ই জিলহজ সূর্যাস্তের পর) ফিরে আসবে, তখন মুযদালিফায় পৌঁছে সেখানে অবস্থানকালে আল্লাহকে স্মরণ করবে। মুযদালিফা হলো ‘মাশআরুল হারাম’ বা পবিত্র চিহ্নিত স্থান। সেখানে তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) এবং দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে।
আল্লাহ আরও বলেন, তোমরা তাঁকে সেভাবে স্মরণ করো, যেভাবে তিনি তোমাদের হেদায়েত দান করেছেন। অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, হজের সঠিক নিয়ম-কানুন শিখিয়েছেন এবং ইসলামের বিধান বুঝিয়েছেন। অথচ এর আগে তোমরা ছিলে পথভ্রষ্ট— শিরক, মূর্তিপূজা এবং জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত। আল্লাহর এই মহান অনুগ্রহের কথা স্মরণ করে তাঁর শুকরিয়া আদায় করা এবং তাঁকে যথাযথভাবে স্মরণ করা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম কখনো বৈধ উপার্জন ও ব্যবসাকে নিরুৎসাহিত করে না। এমনকি ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময় হজের মৌসুমেও ব্যবসা করা জায়েয, যদি তা হজের ওয়াজিব কাজগুলোতে বাধা না দেয়।
আল্লাহর স্মরণ (যিকর) শুধু নামাজ বা নির্দিষ্ট ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, বিশেষত হজের মতো পবিত্র স্থানে, আল্লাহকে স্মরণ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
আল্লাহর হেদায়েতের মূল্য বোঝা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা— এটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আমরা যখনই কোনো নিয়ামত পাই, তখনই আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
ইসলাম পূর্ব যুগের পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়েছে— এটি আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ। এই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করে আমাদের জীবনকে ইসলামের আলোয় সাজানো উচিত।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুধু কিছু আচার-অনুষ্ঠান নয়; এর প্রতিটি ধাপে রয়েছে আল্লাহর স্মরণ, বিনয়, এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা।
আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ্ব ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যাকিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের উপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কুরবানী করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ্জ্ব ওমরাহ একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন।
হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।
তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষন করায় কোন পাপ নেই। অতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে, তখন মাশ‘ আরে-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ কর। আর তাঁকে স্মরণ কর তেমনি করে, যেমন তোমাদিগকে হেদায়েত করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তোমরা ছিলে অজ্ঞ।
আর অতঃপর যখন হজ্জ্বের যাবতীয় অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সমাপ্ত করে সারবে, তখন স্মরণ করবে আল্লাহকে, যেমন করে তোমরা স্মরণ করতে নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে; বরং তার চেয়েও বেশী স্মরণ করবে। তারপর অনেকে তো বলে যে পরওয়াদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতে দান কর। অথচ তার জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।