Fa arsalnaa `alaihim reehan sarsaran feee ayyaamin nahisaatil linuzeeqahum `azaabal khizyi fil hayaatid dunyaa wa la`azaabul Aakhirati akhzaa wa hum laa yunsaroon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করানোর জন্যে তাদের উপর প্রেরণ করলাম ঝঞ্ঝাবায়ু বেশ কতিপয় অশুভ দিনে। আর পরকালের আযাব তো আরও লাঞ্ছনাকর এমতাবস্থায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
तो हमने भी (तो उनके) नहूसत के दिनों में उन पर बड़ी ज़ोरों की ऑंधी चलाई ताकि दुनिया की ज़िन्दगी में भी उनको रूसवाई के अज़ाब का मज़ा चखा दें और आखेरत का अज़ाब तो और ज्यादा रूसवा करने वाला ही होगा और (फिर) उनको कहीं से मदद भी न मिलेगी
অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করানোর জন্যে তাদের উপর প্রেরণ করলাম ঝঞ্ঝাবায়ু বেশ কতিপয় অশুভ দিনে। আর পরকালের আযাব তো আরও লাঞ্ছনাকর এমতাবস্থায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
رِيحًا صَرْصَرًا — প্রচণ্ড শীতল ও অত্যন্ত উচ্চ শব্দযুক্ত ঝড়ো বাতাস।
أَيَّامٍ نَّحِسَاتٍ — অশুভ, দুর্ভাগ্যজনক ও ক্ষতিকর দিনসমূহ।
عَذَابَ الْخِزْيِ — লাঞ্ছনা ও অপমানের শাস্তি।
أَخْزَى — আরও বেশি লাঞ্ছনাপূর্ণ ও অপমানজনক।
لَا يُنصَرُونَ — তাদেরকে কেউ সাহায্য করতে পারবে না, শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
তাফসির:
আদ ও সামুদ জাতির পর আল্লাহ তাআলা ‘আদ জাতির প্রতি তাঁর চূড়ান্ত শাস্তি প্রেরণ করেন। তিনি তাদের উপর এমন এক প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস পাঠান যা ছিল অত্যন্ত শীতল, ভয়ানক শব্দকারী এবং ধ্বংসাত্মক। এই বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল কয়েকটি অশুভ ও দুর্ভাগ্যজনক দিন ধরে, যেগুলো ছিল তাদের জন্য সম্পূর্ণ কল্যাণহীন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ও অপমানের এমন শাস্তি আস্বাদন করান যা ছিল তাদের অবিশ্বাস ও অহংকারের প্রতিদান। এই শাস্তি ছিল এমন যে, এর সাথে জড়িত ছিল চরম হীনতা ও অপমান।
কিন্তু পরকালের শাস্তি এর চেয়েও কঠিন ও অধিক লাঞ্ছনাপূর্ণ হবে। কারণ দুনিয়ার শাস্তি সাময়িক, কিন্তু আখিরাতের শাস্তি স্থায়ী এবং তা হবে আরও ভয়াবহ। আর সেদিন তাদেরকে কোনো সাহায্যকারী থাকবে না, কোনো শক্তিই তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তারা সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় ধ্বংসের মুখোমুখি হবে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। যখন তিনি কোনো জাতিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা।
দুনিয়ার শাস্তি যত কঠিনই হোক না কেন, আখিরাতের শাস্তি তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও স্থায়ী। তাই আমাদের উচিত আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং আল্লাহর রহমত পাওয়ার চেষ্টা করা।
আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো তাওবা করা, তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সৎকর্ম করা। কোনো বস্তুগত শক্তি বা সামর্থ্য মানুষকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, আল্লাহ তার নবী ও রাসূলদের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠান, কিন্তু যারা সতর্কবার্তা অমান্য করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন পরিণতি। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা মেনে চলা এবং নবীজি (সা.)-এর দেখানো পথে চলা।
যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন দিক থেকে এ কথা বলতে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা করো না। তারা বলেছিল, আমাদের পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব, আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য করলাম।
যারা ছিল আদ, তারা পৃথিবীতে অযথা অহংকার করল এবং বলল, আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, যে আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর ? বস্তুতঃ তারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করত।
অতঃপর আমি তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনার আযাব আস্বাদন করানোর জন্যে তাদের উপর প্রেরণ করলাম ঝঞ্ঝাবায়ু বেশ কতিপয় অশুভ দিনে। আর পরকালের আযাব তো আরও লাঞ্ছনাকর এমতাবস্থায় যে, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
আর যারা সামূদ, আমি তাদেরকে প্রদর্শন করেছিলাম, অতঃপর তারা সৎপথের পরিবর্তে অন্ধ থাকাই পছন্দ করল। অতঃপর তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে অবমাননাকর আযাবের বিপদ এসে ধৃত করল।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।