মুহাম্মদ · 14/38
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা মুহাম্মদ
أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ كَمَن زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُم ۝١٤
Afaman kaana `alaa baiyinatim mir Rabbihee kaman zuyyina lahoo sooo`u `amalihee wattaba`ooo ahwaaa`ahum
📖 বাংলা অর্থ
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • بَيِّنَةٍ – স্পষ্ট প্রমাণ, দলিল, সুস্পষ্ট জ্ঞান ও নিশ্চিত বিশ্বাস।
  • زُيِّنَ لَهُ – তার জন্য সুশোভিত করা হয়েছে (অর্থাৎ মন্দ কাজকে ভালো বলে চিত্রিত করা হয়েছে)।
  • سُوءُ عَمَلِهِ – তার মন্দ/খারাপ কাজ।
  • أَهْوَاءَهُم – তাদের খেয়াল-খুশি, প্রবৃত্তির চাহিদা (একবচন: هَوًى)।

তাফসির:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিন ও কাফিরের মধ্যে তুলনা করেছেন। প্রশ্ন করা হচ্ছে—যে ব্যক্তি তার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ, দলিল ও নিশ্চিত জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত (অর্থাৎ তাওহিদের ওপর সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও ঈমানের আলোয় তার জীবন পরিচালনা করে), সে কি সেই ব্যক্তির মতো হতে পারে যার কাছে শয়তান তার মন্দ কাজগুলোকে সুশোভিত করে দিয়েছে, ফলে সে সেগুলোকে ভালো মনে করে এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে আল্লাহর অবাধ্যতা ও শিরকে লিপ্ত থাকে? অর্থাৎ, যে ব্যক্তি জ্ঞান ও প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহকে চেনে এবং তাঁর ইবাদত করে, আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণে পথভ্রষ্ট—এই দুই পক্ষ কি কখনো সমান হতে পারে? কখনোই না। এখানে নবী করিম ﷺ ও তাঁর অনুসারী মুমিনগণকে প্রথম দল হিসেবে এবং মক্কার মুশরিকদের দ্বিতীয় দল হিসেবে বোঝানো হয়েছে। মুমিনের পথ হলো স্পষ্ট প্রমাণ ও হিদায়াতের পথ, আর কাফিরের পথ হলো শয়তানের প্রতারণা ও প্রবৃত্তির দাসত্বের পথ। এই দুই পথের পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপকারিতা ও শিক্ষা:

  1. ঈমান ও জ্ঞান—এই দুইয়ের সমন্বয়ই হলো সত্য পথের পরিচয়। মুমিন কেবল অন্ধ বিশ্বাসে নয়, বরং স্পষ্ট দলিল ও প্রজ্ঞার ওপর নিজের ঈমানকে প্রতিষ্ঠিত করে।
  2. শয়তানের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো মন্দ কাজকে সুন্দর করে দেখানো। তাই প্রতিটি কাজের আগে আমাদের উচিত কুরআন-সুন্নার আলোকে যাচাই করা—কাজটি সত্যিই ভালো কিনা।
  3. প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে কুফরি ও গোমরাহির দিকে নিয়ে যায়। তাই নিজের খেয়াল-খুশিকে বিচারক বানানো উচিত নয়; বরং আল্লাহর বিধানকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
  4. মুমিন ও কাফির, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট—কখনো সমান হতে পারে না। তাদের পরিণতি ও মর্যাদা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দ্বীনের ব্যাপারে স্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করা এবং সেই জ্ঞানের ওপর আমল করা—এটাই সফলতার চাবিকাঠি। আর যারা জ্ঞান ও প্রমাণ ছাড়া শুধু প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চরম ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।


📜 আয়াত 12-16 — সূরা মুহাম্মদ

12إِنَّ اللَّهَ يُدْخِلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَّهُمْ
যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার নিম্নদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যারা কাফের, তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুস্পদ জন্তুর মত আহার করে। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম।
13وَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ هِيَ أَشَدُّ قُوَّةً مِّن قَرْيَتِكَ الَّتِي أَخْرَجَتْكَ أَهْلَكْنَاهُمْ فَلَا نَاصِرَ لَهُمْ
যে জনপদ আপনাকে বহিস্কার করেছে, তদপেক্ষা কত শক্তিশালী জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি, অতঃপর তাদেরকে সাহায্য করার কেউ ছিল না।
14أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ كَمَن زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُم
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে।
15مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى ۖ وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ ۖ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ
পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?
16وَمِنْهُم مَّن يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّىٰ إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِندِكَ قَالُوا لِلَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ آنِفًا ۚ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ
তাদের মধ্যে কতক আপনার দিকে কান পাতে, অতঃপর যখন আপনার কাছ থেকে বাইরে যায়, তখন যারা শিক্ষিত, তাদেরকে বলেঃ এইমাত্র তিনি কি বললেন ? এদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে।
মুহাম্মদকুরআন সূচী
38আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
14আয়াত

অনুবাদ — মুহাম্মদ 14

সূরা মুহাম্মদ আয়াত 14 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে,…

সূরা আয়াত 14/38 — সূরা মুহাম্মদ محمد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা মুহাম্মদ শুনুন, সূরা মুহাম্মদ অনুবাদ, সূরা মুহাম্মদ mp3, সূরা মুহাম্মদ pdf. আয়াত 12–16. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না