আশাদ্দু কুwwওয়াতান – অধিক শক্তিশালী, বেশি শক্তিতে বলীয়ান
কারইয়াতুকাল্লাতী আখরাজাতকা – আপনার (নবী) শহর (মক্কা) যার অধিবাসীরা আপনাকে বের করে দিয়েছে
আহলাকনাহুম – আমরা তাদের ধ্বংস করেছি
ফালা নাসিরা লাহুম – সুতরাং তাদের কোনো সাহায্যকারী ছিল না
তাফসির:
হে নবী! আপনার প্রতি যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি নিয়ে আপনি চিন্তিত হবেন না। ইতিহাসের দিকে তাকান—আপনার শহর মক্কার চেয়ে কত শত জনপদ ছিল শক্তিতে, সম্পদে, সৈন্য-সামন্তে ও জনবলে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের অধিবাসীরা ছিল দুর্ধর্ষ ও পরাক্রমশালী, কিন্তু তারা যখন তাদের রাসূলদেরকে মিথ্যা বলল এবং সত্য প্রত্যাখ্যান করল, তখন আমি তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের বিশাল শক্তি, প্রাচুর্য ও সম্বল তাদেরকে আমার আযাব থেকে রক্ষা করতে পারেনি। যখন আমার শাস্তি এসে পৌঁছেছে, তখন তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী ছিল না, কোনো উদ্ধারকারী ছিল না, যে তাদেরকে আমার পাকড়াও থেকে বাঁচাতে পারত। সুতরাং মক্কার কাফিররা যদি আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, তবে তারা সেই পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর চেয়ে দুর্বল। আমি যদি চাই, তাদেরকেও অনায়াসে ধ্বংস করতে পারি। তাই আপনি আপনার দাওয়াতের কাজে অবিচল থাকুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।
শিক্ষা ও উপদেশ:
আল্লাহর শক্তি অপরিসীম; তিনি যেকোনো শক্তিশালী জাতিকে যখন ইচ্ছা ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই মানুষের শক্তি-সামর্থ্যের ওপর গর্ব করা উচিত নয়।
নবী ও সত্যের পথের দাওয়াতদাতাদের জন্য এটি বড় সান্ত্বনা যে, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আল্লাহ তাদের রক্ষাকারী।
ইতিহাসের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর দিকে তাকালে আল্লাহর আইন (সুন্নাতে ইলাহি) সম্পর্কে বিশ্বাস দৃঢ় হয়—সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
এই আয়াত মুমিনদেরকে ধৈর্য ও সাহস দেয় যে, অন্যায় ও জুলুমের জবাব আল্লাহ নিজেই দেবেন, এমনকি যদি তা দেরিতেও হয়।
আল্লাহর ওপর ভরসা ও তাওয়াক্কুলই মুমিনের আসল শক্তি; দুনিয়ার বড় শক্তিও আল্লাহর ইচ্ছার সামনে নগণ্য।
যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার নিম্নদেশে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যারা কাফের, তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুস্পদ জন্তুর মত আহার করে। তাদের বাসস্থান জাহান্নাম।
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে।
পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?
সূরা মুহাম্মদ আয়াত 13 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যে জনপদ আপনাকে বহিস্কার করেছে, তদপেক্ষা কত শক্তিশালী জনপদকে আমি…
সূরা আয়াত 13/38 — সূরা মুহাম্মদ محمد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা মুহাম্মদ শুনুন, সূরা মুহাম্মদ অনুবাদ, সূরা মুহাম্মদ mp3, সূরা মুহাম্মদ pdf. আয়াত 11–15. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।