মুহাম্মদ · 15/38
অনুবাদ উচ্চারণ — মুহাম্মদ
مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى ۖ وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ ۖ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ ۝١٥
Masalul jannatil latee wu`idal muttaqoona feehaaa anhaarum mim maaa`in ghayri aasininw wa anhaarum mil labanil lam yataghaiyar ta`muhoo wa anhaarum min khamril lazzatil lishshaaribeena wa anhaarum min `asalim musaffanw wa lahum feeha min kullis samaraati wa maghfiratum mir Rabbihim kaman huwa khaalidun fin naari wa suqoo maaa`an hameeman faqatta`a am`aaa`ahum
📖 বাংলা অর্থ
পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • آسِنٍ — পচা-গন্ধযুক্ত, দুর্গন্ধময়, পরিবর্তিত।
  • حَمِيمًا — অত্যন্ত উত্তপ্ত পানি।
  • فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ — (সে পানি) তাদের অন্ত্র-নালীকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে।

তাফসীর:

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন, যাতে তাদের অন্তর জান্নাতের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তারা যেন তা পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। জান্নাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেছেন— সেখানে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির নদী, যা কখনো পচে না, দুর্গন্ধ হয় না এবং স্বাদও বদলায় না। রয়েছে দুধের নদী, যার স্বাদ কখনো পরিবর্তন হয় না— দুনিয়ার দুধের মতো টক হয়ে যাওয়ার ভয় নেই। রয়েছে মদের নদী, যা পানকারীদের জন্য সম্পূর্ণ আনন্দদায়ক— দুনিয়ার মদের মতো ঘৃণ্য গন্ধ বা মাথা ব্যথা সেখানে নেই, বরং তা হবে খাঁটি ও পবিত্র। আরও রয়েছে পরিশোধিত মধুর নদী, যা সম্পূর্ণ নির্মল— কোনো ময়লা বা অশুদ্ধি সেখানে নেই। এছাড়াও মুত্তাকীদের জন্য সেখানে থাকবে প্রতিটি ধরণের ফল-মূল, যা তারা চাইবে। আর এসবের চেয়েও বড় নেয়ামত হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত— অর্থাৎ তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং কোনো প্রকার শাস্তি থেকে তারা রক্ষা পাবে।

এরপর আল্লাহ তাআলা একটি প্রশ্নবোধক বাক্যে জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীর মধ্যে তুলনা করেছেন— যে ব্যক্তি এই চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির জান্নাত পাবে, সে কি সেই ব্যক্তির মতো হতে পারে, যে জাহান্নামে চিরকাল থাকবে এবং যাকে এমন অত্যন্ত উত্তপ্ত পানি পান করানো হবে যা তাদের পেটের অন্ত্র-নালীগুলোকে টুকরো টুকরো করে ফেলবে? অর্থাৎ, এই দুই দলের অবস্থা কখনো সমান হতে পারে না। একদল চিরস্থায়ী আরাম-আয়েশে থাকবে, আর অন্যদল চিরস্থায়ী যন্ত্রণা ও শাস্তিতে নিমগ্ন থাকবে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. জান্নাতের নেয়ামতসমূহ সম্পূর্ণ নিখুঁত ও চিরস্থায়ী— দুনিয়ার কোনো নেয়ামতের সাথে এর তুলনা চলে না। তাই মুমিনের উচিত দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখের পেছনে ছুটে না গিয়ে জান্নাতের স্থায়ী সুখ কামনা করা।
  2. জান্নাতে পানীয়, খাদ্য ও প্রতিটি জিনিস হবে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ— কোনো প্রকার অপবিত্রতা বা ক্ষতিকর দিক সেখানে থাকবে না। এটি আমাদের শেখায়, দুনিয়াতেও আমাদের খাদ্য-পানীয় ও জীবিকা হতে হবে হালাল ও পবিত্র।
  3. জান্নাতের সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো আল্লাহর মাগফিরাত— গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়া। বস্তুগত নেয়ামত যত বড়ই হোক, আত্মিক শান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টিই হলো আসল সাফল্য।
  4. আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর— জাহান্নামের পানি এমন হবে যা মানুষের অন্ত্র ছিড়ে ফেলবে। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
  5. জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে কোনো তুলনা নেই— একজন মুমিনের উচিত সর্বদা জান্নাতের আশা এবং জাহান্নামের ভয় নিয়ে জীবনযাপন করা, যাতে সে সঠিক পথে অবিচল থাকে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 13-17 — মুহাম্মদ

13وَكَأَيِّن مِّن قَرْيَةٍ هِيَ أَشَدُّ قُوَّةً مِّن قَرْيَتِكَ الَّتِي أَخْرَجَتْكَ أَهْلَكْنَاهُمْ فَلَا نَاصِرَ لَهُمْ
যে জনপদ আপনাকে বহিস্কার করেছে, তদপেক্ষা কত শক্তিশালী জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি, অতঃপর তাদেরকে সাহায্য করার কেউ ছিল না।
14أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ كَمَن زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُم
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে।
15مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّن مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَارٌ مِّن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَارٌ مِّنْ خَمْرٍ لَّذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى ۖ وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ ۖ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُوا مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ
পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে?
16وَمِنْهُم مَّن يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّىٰ إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِندِكَ قَالُوا لِلَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ آنِفًا ۚ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ
তাদের মধ্যে কতক আপনার দিকে কান পাতে, অতঃপর যখন আপনার কাছ থেকে বাইরে যায়, তখন যারা শিক্ষিত, তাদেরকে বলেঃ এইমাত্র তিনি কি বললেন ? এদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে।
17وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ
যারা সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের সৎপথপ্রাপ্তি আরও বেড়ে যায় এবং আল্লাহ তাদেরকে তাকওয়া দান করেন।
মুহাম্মদকুরআন সূচী
38আয়াত
মাদানীRevelation
15আয়াত

অনুবাদ — মুহাম্মদ 15

সূরা মুহাম্মদ আয়াত 15 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে…

সূরা আয়াত 15/38 — মুহাম্মদ محمد (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: মুহাম্মদ শুনুন, মুহাম্মদ অনুবাদ, মুহাম্মদ mp3, মুহাম্মদ pdf. আয়াত 13–17. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না