আল-মায়িদা · 110/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
إِذۡ قَالَ ٱللَّهُ يَٰعِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ ٱذۡكُرۡ نِعۡمَتِي عَلَيۡكَ وَعَلَىٰ وَٰلِدَتِكَ إِذۡ أَيَّدتُّكَ بِرُوحِ ٱلۡقُدُسِ تُكَلِّمُ ٱلنَّاسَ فِي ٱلۡمَهۡدِ وَكَهۡلًاۖ وَإِذۡ عَلَّمۡتُكَ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَٱلتَّوۡرَىٰةَ وَٱلۡإِنجِيلَۖ وَإِذۡ تَخۡلُقُ مِنَ ٱلطِّينِ كَهَيۡـَٔةِ ٱلطَّيۡرِ بِإِذۡنِي فَتَنفُخُ فِيهَا فَتَكُونُ طَيۡرَۢا بِإِذۡنِيۖ وَتُبۡرِئُ ٱلۡأَكۡمَهَ وَٱلۡأَبۡرَصَ بِإِذۡنِيۖ وَإِذۡ تُخۡرِجُ ٱلۡمَوۡتَىٰ بِإِذۡنِيۖ وَإِذۡ كَفَفۡتُ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ عَنكَ إِذۡ جِئۡتَهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ فَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡهُمۡ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا سِحۡرٌ مُّبِينٌ  ۝١١٠
Iz qaalal laahu yaa `Eesab-na-Maryamaz kur ni`matee `alaika wa `alaa waalidatik; iz aiyattuka bi Roohil Qudusi tukallimun naasa fil mahdi wa kahlanw wa iz `allamtukal kitaaba wal Hikmata wa Tawraata wal Injeela wa iz Takhluqu minat teeni kahai `atit tairi bi iznee fatanfukhu feeha fatakoonu tairam bi iznee wa tubri`ul akmaha wal abrasa bi iznee wa iz tukhrijul mawtaa bi iznee wa iz kafaftu Baneee Israaa`eela `anka iz ji`tahum bil baiyinaati fa qaalal lazeena kafaroo minhum in haazaaa illaa sihrum mubeen
📖 বাংলা অর্থ
যখন আল্লাহ বলবেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলে থাকতেও এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি এবং যখন তুমি কাদামাটি দিয়ে পাখীর প্রতিকৃতির মত প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে আমার আদেশে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে; ফলে তা আমার আদেশে পাখী হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্টরোগীকে নিরাময় করে দিতে এবং যখন আমি বনী-ইসরাঈলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা বললঃ এটা প্রকাশ্য জাদু ছাড়া কিছুই নয়।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • رُوحِ الْقُدُسِ: পবিত্র রূহ, অর্থাৎ জিবরাঈল (আঃ)।
  • الْمَهْدِ: দোলনা, শিশু অবস্থা।
  • كَهْلًا: পরিণত বয়স, যুবক অবস্থা।
  • تَخْلُقُ: সৃষ্টি করা, আকৃতি দেওয়া।
  • الْأَكْمَهَ: জন্মান্ধ ব্যক্তি।
  • الْأَبْرَصَ: কুষ্ঠরোগী।
  • كَفَفْتُ: প্রতিরোধ করা, নিবারণ করা।
  • الْبَيِّنَاتِ: স্পষ্ট প্রমাণাদি, মুজিজা।

তাফসির:

আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন ঈসা (আঃ)-কে সম্বোধন করে বলবেন: “হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা! আমার সেই অনুগ্রহসমূহ স্মরণ কর যা আমি তোমার প্রতি এবং তোমার মাতার প্রতি করেছিলাম।” এরপর আল্লাহ তাআলা সেই নেয়ামতসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন:

  1. আমি তোমাকে পিতা ছাড়া সৃষ্টি করেছি—এটি ছিল তোমার প্রতি এক বিশাল অনুগ্রহ।
  2. আমি তোমাকে পবিত্র রূহ জিবরাঈল (আঃ)-এর মাধ্যমে শক্তি ও সাহায্য দান করেছিলাম। ফলে তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় শিশু হিসেবে মানুষের সাথে কথা বলতে এবং তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে সক্ষম হয়েছিলে। আবার পরিণত বয়সে পৌঁছে নবী হিসেবে মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছ।
  3. আমি তোমাকে কিতাব (লেখনী), প্রজ্ঞা, তাওরাত এবং ইনজিল শিক্ষা দিয়েছিলাম। তুমি কোনো শিক্ষক ছাড়াই লেখাপড়া ও জ্ঞান অর্জন করেছিলে এবং তাওরাত ও ইনজিলের জ্ঞান লাভ করেছিলে।
  4. আমি তোমাকে এমন মুজিজা দান করেছিলাম যে, তুমি কাদামাটি দিয়ে পাখির মতো আকৃতি তৈরি করতে, তাতে ফুঁ দিতে, আর তা আমার অনুমতিতে প্রকৃত পাখিতে পরিণত হয়ে উড়তে শুরু করত।
  5. তুমি জন্মান্ধ ব্যক্তিকে সুস্থ করতে এবং কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করতে—সবই আমার অনুমতিক্রমে।
  6. তুমি আমার অনুমতি নিয়ে মৃত ব্যক্তিকে কবর থেকে জীবিত করে বের করে আনতে।
  7. আমি তোমার থেকে বনী ইসরাঈলকে প্রতিরোধ করেছিলাম, যখন তারা তোমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তুমি তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ ও মুজিজা নিয়ে এসেছিলে, কিন্তু তাদের মধ্যে যারা কাফির ছিল তারা বলেছিল: “এটা তো স্পষ্ট জাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।”

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করা ও সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। এটি অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।
  2. নবী-রাসূলগণের মুজিজাগুলো ছিল আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার প্রকাশ। কোনো নবী নিজের ক্ষমতায় কিছুই করতে পারতেন না, বরং সবই আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটত।
  3. আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদেরকে প্রয়োজন অনুযায়ী অসাধারণ ক্ষমতা দান করেন, যাতে মানুষ সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে এবং হেদায়েতের পথ খুঁজে পায়।
  4. সত্যের দাওয়াতের পথে বাধা-বিপত্তি আসবেই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদেরকে রক্ষা করেন এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেন।
  5. কাফিরদের অবস্থান যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তারা সত্যের মুজিজা দেখেও তা অস্বীকার করে; কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 108-112 — আল-মায়িদা

108ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يَأۡتُواْ بِٱلشَّهَٰدَةِ عَلَىٰ وَجۡهِهَآ أَوۡ يَخَافُوٓاْ أَن تُرَدَّ أَيۡمَٰنُۢ بَعۡدَ أَيۡمَٰنِهِمۡۗ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱسۡمَعُواْۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ 
এটি এ বিষয়ের নিকটতম উপায় যে, তারা ঘটনাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করবে অথবা আশঙ্কা করবে যে, তাদের কাছ থেকে কসম নেয়ার পর আবার কসম চাওয়া হবে। আল্লাহকে ভয় কর এবং শুন, আল্লাহ দুরাচারীদেরকে পথ-প্রদর্শন করবেন না।
109۞ يَوۡمَ يَجۡمَعُ ٱللَّهُ ٱلرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَآ أُجِبۡتُمۡۖ قَالُواْ لَا عِلۡمَ لَنَآۖ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّٰمُ ٱلۡغُيُوبِ 
যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে? তাঁরা বলবেনঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
110إِذۡ قَالَ ٱللَّهُ يَٰعِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ ٱذۡكُرۡ نِعۡمَتِي عَلَيۡكَ وَعَلَىٰ وَٰلِدَتِكَ إِذۡ أَيَّدتُّكَ بِرُوحِ ٱلۡقُدُسِ تُكَلِّمُ ٱلنَّاسَ فِي ٱلۡمَهۡدِ وَكَهۡلًاۖ وَإِذۡ عَلَّمۡتُكَ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَٱلتَّوۡرَىٰةَ وَٱلۡإِنجِيلَۖ وَإِذۡ تَخۡلُقُ مِنَ ٱلطِّينِ كَهَيۡـَٔةِ ٱلطَّيۡرِ بِإِذۡنِي فَتَنفُخُ فِيهَا فَتَكُونُ طَيۡرَۢا بِإِذۡنِيۖ وَتُبۡرِئُ ٱلۡأَكۡمَهَ وَٱلۡأَبۡرَصَ بِإِذۡنِيۖ وَإِذۡ تُخۡرِجُ ٱلۡمَوۡتَىٰ بِإِذۡنِيۖ وَإِذۡ كَفَفۡتُ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ عَنكَ إِذۡ جِئۡتَهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ فَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡهُمۡ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا سِحۡرٌ مُّبِينٌ 
যখন আল্লাহ বলবেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলে থাকতেও এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি এবং যখন তুমি কাদামাটি দিয়ে পাখীর প্রতিকৃতির মত প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে আমার আদেশে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে; ফলে তা আমার আদেশে পাখী হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্টরোগীকে নিরাময় করে দিতে এবং যখন আমি বনী-ইসরাঈলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা বললঃ এটা প্রকাশ্য জাদু ছাড়া কিছুই নয়।
111وَإِذۡ أَوۡحَيۡتُ إِلَى ٱلۡحَوَارِيِّـۧنَ أَنۡ ءَامِنُواْ بِي وَبِرَسُولِي قَالُوٓاْ ءَامَنَّا وَٱشۡهَدۡ بِأَنَّنَا مُسۡلِمُونَ 
আর যখন আমি হাওয়ারীদের মনে জাগ্রত করলাম যে, আমার প্রতি এবং আমার রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তখন তারা বলতে লাগল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অনুগত্যশীল।
112إِذۡ قَالَ ٱلۡحَوَارِيُّونَ يَٰعِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ هَلۡ يَسۡتَطِيعُ رَبُّكَ أَن يُنَزِّلَ عَلَيۡنَا مَآئِدَةً مِّنَ ٱلسَّمَآءِۖ قَالَ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ 
যখন হাওয়ারীরা বললঃ হে মরিয়ম তনয় ঈসা, আপনার পালনকর্তা কি এরূপ করতে পারেন যে, আমাদের জন্যে আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করে দেবেন? তিনি বললেনঃ যদি তোমরা ঈমানদার হও, তবে আল্লাহকে ভয় কর।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
110আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 110

সূরা আয়াত 110/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 108–112. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না