আল-মায়িদা · 109/120
অনুবাদ উচ্চারণ — আল-মায়িদা
۞ يَوْمَ يَجْمَعُ اللَّهُ الرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَا أُجِبْتُمْ ۖ قَالُوا لَا عِلْمَ لَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ ۝١٠٩
yawma yajma`ul laahur Rusula fa yaqoolu maazaaa ujibtum qaaloo laa `ilma lanaa innaka Anta `Allaamul Ghuyoob
📖 বাংলা অর্থ
যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে? তাঁরা বলবেনঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • يَوْمَ يَجْمَعُ اللهُ الرُّسُلَ – যেদিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্র করবেন।
  • مَاذَا أُجِبْتُمْ – তোমাদেরকে কী উত্তর দেওয়া হয়েছিল?
  • لَا عِلْمَ لَنَا – আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।
  • عَلَّامُ الْغُيُوبِ – গায়েব (অদৃশ্য বিষয়) সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।

তাফসীর:

হে মানুষ! সেই কিয়ামতের দিনের কথা স্মরণ করো, যেদিন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সমস্ত রাসূলকে একত্র করবেন এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন: “তোমাদের উম্মতরা যখন তোমাদেরকে তাওহীদের (এক আল্লাহর ইবাদতের) দিকে ডাকার পর তোমাদেরকে কী উত্তর দিয়েছিল? তারা কি তোমাদের কথা মেনে নিয়েছিল, নাকি প্রত্যাখ্যান করেছিল?” তখন রাসূলগণ বিনয়ের সাথে বলবেন: “হে আমাদের রব! আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। আমরা তো কেবল বাহ্যিক উত্তরই শুনেছি, কিন্তু মানুষের অন্তরে কী লুকিয়ে ছিল, তারা আমাদের পরে কী করেছে—এসব আমাদের জানা নেই। আপনি তো সবকিছুর খবর রাখেন, যা প্রকাশ্য আর যা গোপন, সবই আপনার জানা।” অর্থাৎ রাসূলগণ আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ দায়িত্ব সোপর্দ করবেন এবং বলবেন যে, প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে। এই প্রশ্ন করা হবে উম্মতদের বিরুদ্ধে হুজ্জত (প্রমাণ) প্রতিষ্ঠার জন্য, যাতে কেউ অজ্ঞতার অজুহাত দিতে না পারে।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর রাসূলদের সাথে কথা বলবেন এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন—এটা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সাথে রাসূলদের সম্মানিত মর্যাদা রয়েছে এবং তাদের হিসাব-নিকাশও হবে, তবে তা হবে সম্মানের সাথে।
  2. রাসূলগণ আল্লাহর কাছে বিনয় প্রকাশ করেছেন এবং নিজেদের জ্ঞানকে আল্লাহর জ্ঞানের সামনে তুচ্ছ বলেছেন। এটি আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় আমাদের জ্ঞান অতি সামান্য, তাই আমাদের সবসময় বিনয়ী থাকা উচিত এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করা উচিত।
  3. মানুষের বাহ্যিক আমল দেখেই আমরা সন্তুষ্ট থাকি, কিন্তু প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই জানেন। তাই আমাদের উচিত কারো ব্যাপারে খারাপ ধারণা না করা এবং বিচারকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া।
  4. এই আয়াত আমাদেরকে কিয়ামতের দিনের ভয় ও আত্মশুদ্ধির প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। যেহেতু আল্লাহ সব গোপন বিষয় জানেন, তাই আমাদের উচিত গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর আনুগত্য করা এবং এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা যা আল্লাহর কাছে লজ্জাজনক।
  5. রাসূলগণ দায়িত্ব পালনের পরও নিজেদের জ্ঞানকে সীমিত বলেছেন—এটি আমাদের শেখায় যে, দায়িত্ব পালনের পরও আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করা এবং নিজেদের আমলকে বড় মনে না করা।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 107-111 — আল-মায়িদা

107فَإِنْ عُثِرَ عَلَىٰ أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْمًا فَآخَرَانِ يَقُومَانِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْأَوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِن شَهَادَتِهِمَا وَمَا اعْتَدَيْنَا إِنَّا إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ
অতঃপর যদি জানা যায় যে, উভয় ওসি কোন গোনাহে জড়িত রয়েছে, তবে যাদের বিরুদ্ধে গোনাহ হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে মৃতু ব্যক্তির নিকটতম দু’ব্যক্তি তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। অতঃপর আল্লাহর নামে কসম খাবে যে, অবশ্যই আমাদের সাক্ষ্য তাদের সাক্ষ্যর চাইতে অধিক সত্য এবং আমরা সীমা অতিক্রম করিনি। এমতাবস্থায় আমরা অবশ্যই অত্যাচারী হব।
108ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يَأْتُوا بِالشَّهَادَةِ عَلَىٰ وَجْهِهَا أَوْ يَخَافُوا أَن تُرَدَّ أَيْمَانٌ بَعْدَ أَيْمَانِهِمْ ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاسْمَعُوا ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
এটি এ বিষয়ের নিকটতম উপায় যে, তারা ঘটনাকে সঠিকভাবে প্রকাশ করবে অথবা আশঙ্কা করবে যে, তাদের কাছ থেকে কসম নেয়ার পর আবার কসম চাওয়া হবে। আল্লাহকে ভয় কর এবং শুন, আল্লাহ দুরাচারীদেরকে পথ-প্রদর্শন করবেন না।
109۞ يَوْمَ يَجْمَعُ اللَّهُ الرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَا أُجِبْتُمْ ۖ قَالُوا لَا عِلْمَ لَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ
যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি উত্তর পেয়েছিলে? তাঁরা বলবেনঃ আমরা অবগত নই, আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
110إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلَىٰ وَالِدَتِكَ إِذْ أَيَّدتُّكَ بِرُوحِ الْقُدُسِ تُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا ۖ وَإِذْ عَلَّمْتُكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ ۖ وَإِذْ تَخْلُقُ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ بِإِذْنِي فَتَنفُخُ فِيهَا فَتَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِي ۖ وَتُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ بِإِذْنِي ۖ وَإِذْ تُخْرِجُ الْمَوْتَىٰ بِإِذْنِي ۖ وَإِذْ كَفَفْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَنكَ إِذْ جِئْتَهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
যখন আল্লাহ বলবেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলে থাকতেও এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি এবং যখন তুমি কাদামাটি দিয়ে পাখীর প্রতিকৃতির মত প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে আমার আদেশে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে; ফলে তা আমার আদেশে পাখী হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্টরোগীকে নিরাময় করে দিতে এবং যখন আমি বনী-ইসরাঈলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা বললঃ এটা প্রকাশ্য জাদু ছাড়া কিছুই নয়।
111وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ
আর যখন আমি হাওয়ারীদের মনে জাগ্রত করলাম যে, আমার প্রতি এবং আমার রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তখন তারা বলতে লাগল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অনুগত্যশীল।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীRevelation
109আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 109

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 109 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : যেদিন আল্লাহ সব পয়গম্বরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর বলবেন তোমরা কি…

সূরা আয়াত 109/120 — আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-মায়িদা শুনুন, আল-মায়িদা অনুবাদ, আল-মায়িদা mp3, আল-মায়িদা pdf. আয়াত 107–111. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না