আল-আনআম · 92/165
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আনআম
وَهَٰذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُّصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنذِرَ أُمَّ الْقُرَىٰ وَمَنْ حَوْلَهَا ۚ وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۖ وَهُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ۝٩٢
Wa haazaa Kitaabun anzalnaahu Mubaarakum musaddiqul lazee bainaa yadaihi wa litunzira ummal Quraa wa man hawlahaa; wallazeena yu`minoona bil Aakhirati yu`minoona bihee wa hum`alaa Salaatihim yuhaafizoon
📖 বাংলা অর্থ
এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার স্বীয় নামায সংরক্ষণ করে।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • উম্মুল কুরা (أُمّ الْقُرَى): জনপদসমূহের মূল বা জননী। এখানে মক্কা মুকাররমাকে বোঝানো হয়েছে।
  • মুবারক (مُبَارَكٌ): বরকতময়, অর্থাৎ অফুরন্ত কল্যাণ ও উপকারিতার উৎস।
  • মুসাদ্দিক (مُصَدِّقُ): সত্যায়নকারী, যা পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহকে সত্য বলে নিশ্চিত করে।
  • বাইনা ইয়াদাইহি (بَيْنَ يَدَيْهِ): এর সামনে যা আছে, অর্থাৎ কুরআনের পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহ (তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল)।
  • ইউহাফিজুন (يُحَافِظُونَ): রক্ষা করা, নিয়মিতভাবে যথাযথভাবে আদায় করা।

তাফসির:

এই কুরআন সেই মহাগ্রন্থ, যা আমি (আল্লাহ) আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, হে নবী! এটি অত্যন্ত বরকতময় একটি কিতাব—এর প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি নির্দেশনায় রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও হেদায়েত। এর পূর্বে যে সকল আসমানি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল—তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল—এই কুরআন সেগুলোর সত্যায়নকারী। অর্থাৎ, পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যে সত্য ও একত্ববাদের বার্তা ছিল, এই কুরআন তা-ই বহন করছে এবং সেগুলোর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী সর্বশেষ ও চূড়ান্ত গ্রন্থ হিসেবে এসেছে।

এই কিতাব অবতীর্ণ করার একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো—আপনি এর মাধ্যমে সতর্ক করবেন উম্মুল কুরা তথা মক্কা নগরীকে এবং এর চারপাশের সমস্ত জনপদকে। মক্কা হলো পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল, সেখান থেকে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়বে সমগ্র বিশ্বে। তাই শুধু মক্কাবাসীই নয়, পূর্ব-পশ্চিমের সকল মানুষই এই সতর্কবার্তার খিতাব। এই কুরআনের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর আযাব ও শাস্তি সম্পর্কে ভয় দেখানো হচ্ছে, যাতে তারা সত্যকে গ্রহণ করে নিজেদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।

যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে—অর্থাৎ মৃত্যুর পরের জীবন, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নামকে সত্য বলে বিশ্বাস করে—তারাই এই কুরআনের প্রতি ঈমান আনে এবং এর নির্দেশনা মেনে চলে। কারণ আখিরাতের বিশ্বাসই মানুষকে দুনিয়ার মোহ থেকে বের করে আনে এবং পরকালের সাফল্যের জন্য সচেষ্ট করে তোলে। আর এই ঈমানদারদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—তারা নিজেদের নামাজের প্রতি যত্নবান থাকে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে, তার শর্ত, রুকন, ওয়াজিব এবং মুস্তাহাবসমূহসহ পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করে। নামাজই হলো ঈমানের প্রাণ, আর এই নামাজের মাধ্যমেই তারা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করে এবং সকল প্রকার অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে।

প্রিয় পাঠক! এই আয়াত আমাদেরকে জানিয়ে দেয় যে, কুরআন এমন এক মহাগ্রন্থ, যা প্রতিটি যুগের মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এর বরকত অসীম—যে ব্যক্তি এটিকে আঁকড়ে ধরবে, দুনিয়া ও আখিরাতে সে সফলকাম হবে। আর আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই মানুষকে কুরআনের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। আসুন, আমরা সবাই কুরআনকে বুকে ধারণ করি, এর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়ি এবং নামাজের প্রতি যত্নবান হই। কারণ নামাজই সেই সেতু, যা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয় এবং আমাদের জীবনকে আলোকিত করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন বুঝার, আমল করার এবং নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।



📜 আয়াত 90-94 — সূরা আল-আনআম

90أُولَٰئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ ۖ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ ۗ قُل لَّا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْعَالَمِينَ
এরা এমন ছিল, যাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটি সারা বিশ্বের জন্যে একটি উপদেশমাত্র।
91وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ عَلَىٰ بَشَرٍ مِّن شَيْءٍ ۗ قُلْ مَنْ أَنزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَىٰ نُورًا وَهُدًى لِّلنَّاسِ ۖ تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيرًا ۖ وَعُلِّمْتُم مَّا لَمْ تَعْلَمُوا أَنتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ ۖ قُلِ اللَّهُ ۖ ثُمَّ ذَرْهُمْ فِي خَوْضِهِمْ يَلْعَبُونَ
তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বললঃ আল্লাহ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল ? যা জ্যোতিবিশেষ এবং মানব মন্ডলীর জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না। আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ নাযিল করেছেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন।
92وَهَٰذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُّصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنذِرَ أُمَّ الْقُرَىٰ وَمَنْ حَوْلَهَا ۚ وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۖ وَهُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ
এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার স্বীয় নামায সংরক্ষণ করে।
93وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَن قَالَ سَأُنزِلُ مِثْلَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ ۗ وَلَوْ تَرَىٰ إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنفُسَكُمُ ۖ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা বলেঃ আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ তার প্রতি কোন ওহী আসেনি এবং যে দাবী করে যে, আমিও নাযিল করে দেখাচ্ছি যেমন আল্লাহ নাযিল করেছেন। যদি আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াত সমূহ থেকে অহংকার করতে।
94وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَىٰ كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُم مَّا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ ۖ وَمَا نَرَىٰ مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ ۚ لَقَد تَّقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنكُم مَّا كُنتُمْ تَزْعُمُونَ
তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, আমি প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের কে দেখছি না। যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবী ছিল যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। বাস্তুবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের দাবী উধাও হয়ে গেছে।
আল-আনআমকুরআন সূচী
165আয়াত
মাক্কীRevelation
92আয়াত

অনুবাদ — আল-আনআম 92

সূরা আল-আনআম আয়াত 92 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী…

সূরা আয়াত 92/165 — সূরা আল-আনআম الأنعام (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আনআম শুনুন, সূরা আল-আনআম অনুবাদ, সূরা আল-আনআম mp3, সূরা আল-আনআম pdf. আয়াত 90–94. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 8, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না