আত-তওবা · 36/129
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আত-তওবা
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ ۝٣٦
Inna `iddatash shuhoori `indal laahis naa `ashara shahran fee Kitaabil laahi yawma khalaqas samaawaati wal arda minhaaa arba`atun hurum; zaalikad deenul qaiyim; falaa tazlimoo feehinna anfusakum; wa qaatilul mushrikeena kaaaf fattan kamaa yuqaati loonakum kaaaffah; wa`lamooo annal laaha ma`al muttaqeen
📖 বাংলা অর্থ
নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দের অর্থ:

  • عِدَّةَ – সংখ্যা, গণনা।
  • الشُّهُورِ – মাসসমূহ (বহুবচন)।
  • حُرُمٌ – সম্মানিত, পবিত্র (যেসব মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল)।
  • الدِّينُ الْقَيِّمُ – সঠিক ও প্রতিষ্ঠিত বিধান।
  • كَافَّةً – সবাই মিলে, একত্রে, সম্পূর্ণরূপে।
  • الْمُتَّقِينَ – যারা তাকওয়া অবলম্বন করে (আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকে)।

তাফসীর (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর বিধান ও জ্ঞানে এবং তিনি যে লাওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রেখেছেন, তাতে মাসের সংখ্যা বারোটি। তিনি যখন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকেই এই বারো মাসের হিসাব নির্ধারিত। এই বারো মাসের মধ্যে চারটি মাস বিশেষ মর্যাদার অধিকারী – সেগুলো হলো: জিলক্বদ, জিলহজ, মহররম এবং রজব। এই চারটি মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল এবং এগুলোর সম্মান রক্ষা করা ফরজ ছিল। এটাই হলো সরল ও সঠিক বিধান, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত।

অতএব, এই সম্মানিত মাসগুলোতে নিজেদের ওপর অত্যাচার করো না। অর্থাৎ, এই মাসগুলোর পবিত্রতা ভঙ্গ করে যুদ্ধ করা বা অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত থাকো। যদিও অন্য মাসেও অত্যাচার নিষিদ্ধ, তবে এই মাসগুলোতে অত্যাচারের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ এগুলোর সম্মান বেশি। এরপর আল্লাহ মুমিনদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা মুশরিকদের সাথে এমনভাবে যুদ্ধ করো, যেভাবে তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে – অর্থাৎ তারা যখন সবাই মিলে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তখন তোমরাও সবাই মিলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তবে মনে রেখো, আল্লাহ তাকওয়াবানদের সাথে আছেন – তাদের সাহায্য করেন, তাদের রক্ষা করেন এবং তাদের বিজয় দান করেন। যারা আল্লাহর আদেশ পালন করে এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাদের সাথেই থাকেন।


উপকারিতা ও শিক্ষণীয় বিষয়:

  1. আল্লাহর নির্ধারিত সময় ও হিসাব অপরিবর্তনীয় – মাসের সংখ্যা বারোটি, এতে কোনো পরিবর্তন বা কারসাজির সুযোগ নেই। এটি আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞান ও হিকমতের প্রমাণ।
  2. চারটি মাসের বিশেষ মর্যাদা আমাদের শেখায় যে, সময়ের কিছু কিছু মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। এই মাসগুলোতে ইবাদত, তাওবা এবং ভালো কাজের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত।
  3. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলামে ন্যায়বিচার ও সম্মান রক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যায় ও অত্যাচার যেকোনো সময়ই নিষিদ্ধ, তবে পবিত্র সময়ে তা আরও মারাত্মক।
  4. মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা – শত্রুর মোকাবিলায় একা নয়, বরং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। দুর্বলতা ও বিভক্তি নয়, ঐক্যই শক্তি।
  5. তাকওয়ার পুরস্কার – আল্লাহ তাকওয়াবানদের সাথে থাকেন। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর আদেশ মেনে চলে, আল্লাহ তাকে কখনো একা ছাড়েন না; বরং তাঁর সাহায্য ও নুসরত তার সাথে থাকে। এটি মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা ও আশ্বাস।


📜 আয়াত 34-38 — সূরা আত-তওবা

34۞ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۗ وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।
35يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ۖ هَٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ
সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার।
36إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ
নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।
37إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ ۖ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِّيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ ۚ زُيِّنَ لَهُمْ سُوءُ أَعْمَالِهِمْ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
38يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
36আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 36

সূরা আত-তওবা আয়াত 36 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী…

সূরা আয়াত 36/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 34–38. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না