আত-তওবা · 37/129
অনুবাদ উচ্চারণ — আত-তওবা
إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ ۖ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِّيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ ۚ زُيِّنَ لَهُمْ سُوءُ أَعْمَالِهِمْ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ۝٣٧
Innamma naseee`u ziyaadatun filkufri yudallu bihillazeena kafaroo yuhil loonahoo `aamanw wa yuhar rimoonahoo `aamalliyu watti`oo `iddata maa harramal laah; zuyyina lahum sooo`u a`maalihim; wallaahu laa yahdil qawmal kaafireen
📖 বাংলা অর্থ
এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • النَّسِيءُ (নাসী') — অর্থ: কোনো হারাম (নিষিদ্ধ) মাসের সম্মান ও পবিত্রতা স্থগিত করে অন্য মাসে সরিয়ে নেওয়া বা বদল করা। জাহিলিয়াতের আরবরা যুদ্ধের প্রয়োজনে 'মুহাররম' মাসের পবিত্রতা তুলে দিয়ে তার জায়গায় 'সফর' মাসকে পবিত্র ঘোষণা করত।
  • زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ — কুফরির মধ্যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি।
  • لِّيُوَاطِئُوا — যাতে তারা সমান/সামঞ্জস্য করতে পারে (সংখ্যার দিক থেকে মিলিয়ে নিতে পারে)।
  • عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ — আল্লাহ যে চারটি মাস হারাম করেছেন তার সংখ্যা।
  • زُيِّنَ — শোভনীয়/সুন্দর করে দেখানো হয়েছে।

তাফসির (ব্যাখ্যা):

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে জাহিলিয়াত যুগের আরবদের একটি জঘন্য প্রথার কথা তুলে ধরেছেন, যাকে বলা হতো 'নাসী'। তারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত চারটি সম্মানিত মাসের (যুল-কা'দা, যুল-হিজ্জা, মুহাররম, রজব) পবিত্রতা রক্ষা করত না। যখন তাদের যুদ্ধ বা লড়াইয়ের প্রয়োজন হতো, তখন তারা এই মাসগুলোর কোনো একটির পবিত্রতা স্থগিত করে দিত এবং তার বদলে অন্য একটি সাধারণ মাসকে পবিত্র ঘোষণা করত। এভাবে তারা আল্লাহর বিধানের সাথে খেলত।

আল্লাহ বলেন, এই 'নাসী' প্রথা কুফরির মধ্যে আরও বৃদ্ধি ঘটায়। কারণ এটি আল্লাহর বিধানকে পরিবর্তন করার চরম সাহসিকতা এবং তাঁর নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন। শয়তান কাফিরদের কাছে এই কাজটিকে সুন্দর করে উপস্থাপন করেছিল, ফলে তারা মনে করত তারা সঠিক কাজ করছে। তারা এক বছর একটি মাসকে হালাল (বৈধ) ঘোষণা করত, আবার পরের বছর সেটিকে হারাম (নিষিদ্ধ) করত—শুধুমাত্র এই উদ্দেশ্যে যে, তারা যেন আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত মাসগুলোর সংখ্যা (চারটি) ঠিক রাখতে পারে, কিন্তু মাসগুলোর পরিচয় ও পবিত্রতা বদলে দেয়। অর্থাৎ, তারা একটি হারাম মাসকে হালাল করলে, তার বদলে একটি হালাল মাসকে হারাম করত, যাতে সংখ্যার মিল থাকে কিন্তু মূল বিষয়টি (আল্লাহর নির্ধারিত মাসগুলোর সম্মান) নষ্ট হয়ে যায়।

তারা মনে করত এতে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সংখ্যা ঠিক থাকছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর হারামকৃত জিনিসকে হালাল করছিল এবং তাঁর বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করছিল। শয়তান তাদের মন্দ কাজগুলোকে তাদের চোখে আকর্ষণীয় করে দেখিয়েছিল, তাই তারা সেগুলোকে ভালো মনে করত। আর আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা দিচ্ছেন যে, তিনি এমন কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেদের ভুল কাজের উপর অটল থাকে।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর বিধান পরিবর্তন বা বিকৃত করার চেষ্টা করা কুফরির নিদর্শন। কোনো মানুষের উচিত নয় আল্লাহর নির্ধারিত হালাল-হারামের সীমানায় নিজের ইচ্ছা-অভিরুচি চাপিয়ে দেওয়া।
  2. শয়তানের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো মন্দ কাজকে সুন্দর ও যুক্তিসঙ্গত দেখানো। তাই প্রতিটি কাজের আগে আমাদের উচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যাচাই করা, যাতে শয়তানের প্রতারণার শিকার না হই।
  3. সংখ্যা বা আচার-অনুষ্ঠানের বাহ্যিক চেহারা ঠিক রাখলেই প্রকৃত আনুগত্য হয় না; বরং আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তা যথাযথভাবে মান্য করাই আসল আনুগত্য।
  4. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এর কোনো বিধানকে নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই। আল্লাহর বিধানের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্যই মুমিনের পরিচয়।
  5. আল্লাহর হিদায়াত লাভের জন্য প্রয়োজন আন্তরিকভাবে সত্য গ্রহণের ইচ্ছা। যারা সত্যকে জেনেও অহংকারবশত প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য হিদায়াতের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
🎧 শুনুন

📜 আয়াত 35-39 — আত-তওবা

35يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ۖ هَٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ
সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার।
36إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ
নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।
37إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ ۖ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِّيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ ۚ زُيِّنَ لَهُمْ سُوءُ أَعْمَالِهِمْ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
38يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।
39إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
আত-তওবাকুরআন সূচী
129আয়াত
মাদানীRevelation
37আয়াত

অনুবাদ — আত-তওবা 37

সূরা আত-তওবা আয়াত 37 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে,…

সূরা আয়াত 37/129 — আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আত-তওবা শুনুন, আত-তওবা অনুবাদ, আত-তওবা mp3, আত-তওবা pdf. আয়াত 35–39. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Tuesday, August 18, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না