Mishary Rashid Alafasy
✓
Mahmoud Khalil Al-Husary
✓
Abdurrahman As-Sudais
✓
Mohamed Siddiq Al-Minshawi
✓
Abdul Basit Abdul Samad
✓
Ali Al-Hudhaify
✓
Ahmed ibn Ali al-Ajamy
✓
Abu Bakr Ash-Shaatree
✓
Muhammad Ayyoub
✓
Abdullah Basfar
✓
Abdullah Al-Juhani
✓
Maher Al Muaiqly
✓
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
- النَّسِيءُ (নাসী') — অর্থ: কোনো হারাম (নিষিদ্ধ) মাসের সম্মান ও পবিত্রতা স্থগিত করে অন্য মাসে সরিয়ে নেওয়া বা বদল করা। জাহিলিয়াতের আরবরা যুদ্ধের প্রয়োজনে 'মুহাররম' মাসের পবিত্রতা তুলে দিয়ে তার জায়গায় 'সফর' মাসকে পবিত্র ঘোষণা করত।
- زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ — কুফরির মধ্যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি।
- لِّيُوَاطِئُوا — যাতে তারা সমান/সামঞ্জস্য করতে পারে (সংখ্যার দিক থেকে মিলিয়ে নিতে পারে)।
- عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ — আল্লাহ যে চারটি মাস হারাম করেছেন তার সংখ্যা।
- زُيِّنَ — শোভনীয়/সুন্দর করে দেখানো হয়েছে।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে জাহিলিয়াত যুগের আরবদের একটি জঘন্য প্রথার কথা তুলে ধরেছেন, যাকে বলা হতো 'নাসী'। তারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত চারটি সম্মানিত মাসের (যুল-কা'দা, যুল-হিজ্জা, মুহাররম, রজব) পবিত্রতা রক্ষা করত না। যখন তাদের যুদ্ধ বা লড়াইয়ের প্রয়োজন হতো, তখন তারা এই মাসগুলোর কোনো একটির পবিত্রতা স্থগিত করে দিত এবং তার বদলে অন্য একটি সাধারণ মাসকে পবিত্র ঘোষণা করত। এভাবে তারা আল্লাহর বিধানের সাথে খেলত।
আল্লাহ বলেন, এই 'নাসী' প্রথা কুফরির মধ্যে আরও বৃদ্ধি ঘটায়। কারণ এটি আল্লাহর বিধানকে পরিবর্তন করার চরম সাহসিকতা এবং তাঁর নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন। শয়তান কাফিরদের কাছে এই কাজটিকে সুন্দর করে উপস্থাপন করেছিল, ফলে তারা মনে করত তারা সঠিক কাজ করছে। তারা এক বছর একটি মাসকে হালাল (বৈধ) ঘোষণা করত, আবার পরের বছর সেটিকে হারাম (নিষিদ্ধ) করত—শুধুমাত্র এই উদ্দেশ্যে যে, তারা যেন আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত মাসগুলোর সংখ্যা (চারটি) ঠিক রাখতে পারে, কিন্তু মাসগুলোর পরিচয় ও পবিত্রতা বদলে দেয়। অর্থাৎ, তারা একটি হারাম মাসকে হালাল করলে, তার বদলে একটি হালাল মাসকে হারাম করত, যাতে সংখ্যার মিল থাকে কিন্তু মূল বিষয়টি (আল্লাহর নির্ধারিত মাসগুলোর সম্মান) নষ্ট হয়ে যায়।
তারা মনে করত এতে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সংখ্যা ঠিক থাকছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর হারামকৃত জিনিসকে হালাল করছিল এবং তাঁর বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করছিল। শয়তান তাদের মন্দ কাজগুলোকে তাদের চোখে আকর্ষণীয় করে দেখিয়েছিল, তাই তারা সেগুলোকে ভালো মনে করত। আর আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা দিচ্ছেন যে, তিনি এমন কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেদের ভুল কাজের উপর অটল থাকে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
- আল্লাহর বিধান পরিবর্তন বা বিকৃত করার চেষ্টা করা কুফরির নিদর্শন। কোনো মানুষের উচিত নয় আল্লাহর নির্ধারিত হালাল-হারামের সীমানায় নিজের ইচ্ছা-অভিরুচি চাপিয়ে দেওয়া।
- শয়তানের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো মন্দ কাজকে সুন্দর ও যুক্তিসঙ্গত দেখানো। তাই প্রতিটি কাজের আগে আমাদের উচিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যাচাই করা, যাতে শয়তানের প্রতারণার শিকার না হই।
- সংখ্যা বা আচার-অনুষ্ঠানের বাহ্যিক চেহারা ঠিক রাখলেই প্রকৃত আনুগত্য হয় না; বরং আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তা যথাযথভাবে মান্য করাই আসল আনুগত্য।
- ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এর কোনো বিধানকে নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই। আল্লাহর বিধানের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্যই মুমিনের পরিচয়।
- আল্লাহর হিদায়াত লাভের জন্য প্রয়োজন আন্তরিকভাবে সত্য গ্রহণের ইচ্ছা। যারা সত্যকে জেনেও অহংকারবশত প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য হিদায়াতের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
📜 আয়াত 35-39 — সূরা আত-তওবা
অনুবাদ — আত-তওবা 37
সূরা আত-তওবা আয়াত 37 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে,…সূরা আয়াত 37/129 — সূরা আত-তওবা التوبة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আত-তওবা শুনুন, সূরা আত-তওবা অনুবাদ, সূরা আত-তওবা mp3, সূরা আত-তওবা pdf. আয়াত 35–39. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
সূরা আত-তওবা
পবিত্র কুরআন
Monday, September 28, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না

