হে আমাদের পালনকর্তা, আমি নিজের এক সন্তানকে তোমার পবিত্র গৃহের সন্নিকটে চাষাবাদহীন উপত্যকায় আবাদ করেছি; হে আমাদের পালনকর্তা, যাতে তারা নামায কায়েম রাখে। অতঃপর আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন এবং তাদেরকে ফলাদি দ্বারা রুযী দান করুন, সম্ভবতঃ তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
ऐ हमारे पालने वाले मैने तेरे मुअज़िज़ (इज्ज़त वाले) घर (काबे) के पास एक बेखेती के (वीरान) बियाबान (मक्का) में अपनी कुछ औलाद को (लाकर) बसाया है ताकि ऐ हमारे पालने वाले ये लोग बराबर यहाँ नमाज़ पढ़ा करें तो तू कुछ लोगों के दिलों को उनकी तरफ माएल कर (ताकि वह यहाँ आकर आबाद हों) और उन्हें तरह तरह के फलों से रोज़ी अता कर ताकि ये लोग (तेरा) शुक्र करें
وَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ – এমন উপত্যকা যেখানে কোনো ফসল বা চাষাবাদ নেই।
الْمُحَرَّمِ – সম্মানিত ও পবিত্র ঘর (কাবা)।
أَفْئِدَةً – অন্তরসমূহ (বহুবচন)।
تَهْوِي – ঝুঁকে পড়ে, আকৃষ্ট হয়, দ্রুত ধাবিত হয়।
الثَّمَرَاتِ – বিভিন্ন প্রকার ফলমূল।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
হযরত ইবরাহীম (আঃ) যখন তাঁর স্ত্রী হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাঈলকে মক্কার অনুর্বর, শুষ্ক ও জনমানবহীন উপত্যকায় রেখে যান, তখন তিনি এই দো‘আ করেছিলেন। তিনি বলেন: “হে আমাদের রব! আমি আমার কিছু বংশধরকে (ইসমাঈল ও তার সন্তানদের) এমন এক উপত্যকায় বসবাস করিয়েছি, যেখানে কোনো পানি, ফসল বা চাষাবাদের ব্যবস্থা নেই—একটি সম্পূর্ণ অনুর্বর ভূমি। আমি তাদেরকে আপনার পবিত্র ও সম্মানিত ঘর (কাবা) এর পাশে রেখে এসেছি।”
তিনি এই কাজটি করেছেন আল্লাহর নির্দেশে এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে, যাতে তারা সেখানে নামাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং আপনার ইবাদতে মগ্ন থাকতে পারে। এরপর তিনি দো‘আ করেন: “হে আমাদের রব! আপনি মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন, যেন লোকেরা তাদের ভালোবাসে এবং এই পবিত্র ভূমির দিকে ছুটে আসে। আর আপনি তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ফলমূল দ্বারা রিজিক দান করুন, যেন তারা আপনার অশেষ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারে।”
আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দো‘আ কবুল করেন। ফলে মক্কা একটি সম্মানিত ও নিরাপদ স্থানে পরিণত হয় এবং সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসতে থাকে এবং বিভিন্ন ফলমূল সেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা—এটি একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পরিবারকে অনুর্বর প্রান্তরে রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করেছিলেন।
সন্তানদের নামাজ ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ইবরাহীম (আঃ) তাঁর বংশধরদের জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠার দো‘আ করেছিলেন।
দো‘আ একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আল্লাহর নবীগণও দো‘আ করতেন এবং আল্লাহ তাদের দো‘আ কবুল করতেন। আমাদের উচিত সব বিষয়ে আল্লাহর কাছে দো‘আ করা।
আল্লাহর ঘরের প্রতি ভালোবাসা ও সেখানে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মুমিনের অন্তরে আল্লাহ নিজেই সৃষ্টি করেন। এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি যেখানে ইচ্ছা রিজিক পৌঁছে দেন। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর কাছেই রিজিক চাওয়া।
নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা মুমিনের কর্তব্য। শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ আরও বেশি দেন।
হে আমাদের পালনকর্তা, আমি নিজের এক সন্তানকে তোমার পবিত্র গৃহের সন্নিকটে চাষাবাদহীন উপত্যকায় আবাদ করেছি; হে আমাদের পালনকর্তা, যাতে তারা নামায কায়েম রাখে। অতঃপর আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন এবং তাদেরকে ফলাদি দ্বারা রুযী দান করুন, সম্ভবতঃ তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে
হে আমাদের পালনকর্তা, আমি নিজের এক সন্তানকে তোমার পবিত্র গৃহের সন্নিকটে চাষাবাদহীন উপত্যকায় আবাদ করেছি; হে আমাদের পালনকর্তা, যাতে তারা নামায কায়েম রাখে। অতঃপর আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন এবং তাদেরকে ফলাদি দ্বারা রুযী দান করুন, সম্ভবতঃ তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।