আল-বাকারা · 142/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
۞ سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ ۝١٤٢
Sayaqoolus sufahaaa`u minan naasi maa wallaahum `an Qiblatihimul latee kaanoo `alaihaa; qulo lillaahil mashriqu walmaghrib; yahdee mai yashaaa`u ilaa Siraatim Mustaqeem
📖 বাংলা অর্থ
এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • السُّفَهَاء – নির্বোধ, মূর্খ, যাদের জ্ঞান-বিবেচনা কম।
  • مَا وَلَّاهُمْ – কী তাদের ফিরিয়ে দিল বা সরিয়ে দিল?
  • قِبْلَتِهِمُ – তাদের কিবলা (যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়া হতো)।
  • صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ – সরল-সঠিক পথ।

তাফসির:

অচিরেই কিছু নির্বোধ ও হীনবুদ্ধি মানুষ—যেমন ইয়াহুদি, মুনাফিক এবং মক্কার মুশরিকরা—মুসলিমদের কিবলা পরিবর্তনের বিষয়ে অবাক হয়ে বলবে: “কী কারণে এই মুসলিমদেরকে তাদের আগের কিবলা থেকে ফিরিয়ে দিল, যে কিবলার দিকে তারা আগে নামাজ পড়ত?” অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়া হতো, সেখান থেকে তাদেরকে কা’বার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হলো কেন?

হে নবী! আপনি তাদের জবাবে বলুন: পূর্ব ও পশ্চিম—সব দিকই আল্লাহর। পুরো পৃথিবী, আসমান-জমিন, সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ। কোনো দিকই তাঁর মালিকানার বাইরে নয়। তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তিনি যখনই চান, তাদেরকে কোনো দিকে মুখ করিয়ে দেন—কখনো বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে, কখনো কা’বার দিকে। আল্লাহর নির্দেশের সামনে কারও আপত্তি করার অধিকার নেই। তিনি যা আদেশ করেন, বান্দার কর্তব্য তা মেনে নেওয়া। আল্লাহ যাকে সঠিক পথ দেখান, তাকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারে না; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. আল্লাহর নির্দেশ যেকোনো সময়, যেকোনো বিষয়ে আসতে পারে; বান্দার উচিত তা বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়া। কিবলা পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আল্লাহর আদেশই চূড়ান্ত।
  2. পূর্ব-পশ্চিম বা যেকোনো দিকই আল্লাহর সৃষ্টি ও মালিকানাধীন। তাই কোনো দিককে নিজের ইচ্ছার বশে বেছে নেওয়ার বিষয় নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশই মান্য করা উচিত।
  3. নির্বোধ ও মূর্খদের সমালোচনা বা উপহাসকে কখনো গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। ইসলামের সত্য পথে চলতে গেলে এমন লোকদের কথা শুনে বিচলিত হওয়া যাবে না।
  4. আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তিনিই প্রকৃত সফলকাম; আর হিদায়াত লাভের জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্যই সবচেয়ে বড় উপায়।
  5. এই আয়াত মুসলিমদেরকে শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহর আদেশ পালনেই কল্যাণ; এমনকি কিবলা পরিবর্তনের মতো বিষয়েও আল্লাহর সিদ্ধান্তই সর্বোত্তম, যদিও মানুষের কাছে তা প্রথমে অদ্ভুত মনে হতে পারে।


📜 আয়াত 140-144 — সূরা আল-বাকারা

140أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ ۗ قُلْ أَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ ۗ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَادَةً عِندَهُ مِنَ اللَّهِ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? আপনি বলে দিন, তোমরা বেশী জান, না আল্লাহ বেশী জানেন?
141تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন। সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।
142۞ سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।
143وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ۗ وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ ۗ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ
এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।
144قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ
নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
142আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 142

সূরা আল-বাকারা আয়াত 142 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা…

সূরা আয়াত 142/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 140–144. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না