আল-বাকারা · 141/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ۝١٤١
Tilka ummatun qad khalat lahaa maa kasabat wa lakum maa kasabtum wa laa tus`aloona `ammaa kaano ya`maloo
📖 বাংলা অর্থ
তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন। সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • خَلَتْ অর্থাৎ চলে গেছে, অতীত হয়ে গেছে।
  • أُمَّةٌ অর্থাৎ জাতি বা সম্প্রদায়।
  • مَا كَسَبَتْ অর্থাৎ যা তারা অর্জন করেছে (সৎকর্ম বা অসৎকর্ম)।
  • لَا تُسْأَلُونَ অর্থাৎ তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না।

তাফসীর:

হে মুসলিম উম্মত! এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন—যারা আমাদের আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং নিজ নিজ আমল অনুযায়ী প্রতিদান পেয়েছেন। তারা ছিলেন ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইয়াকুব (আলাইহিমুস সালাম) এবং তাদের বংশধরদের মতো মহান ব্যক্তিবর্গ। তারা চলে গেছেন, তাদের জন্য রয়েছে যা তারা উপার্জন করেছে—ভালো কাজের প্রতিদান ভালো, আর মন্দ কাজের শাস্তি মন্দ। আর তোমাদের জন্যও রয়েছে যা তোমরা নিজেরা উপার্জন করছ। কেউ কারও আমলের দায়িত্ব বহন করবে না, কেউ কারও পাপের বোঝা কাঁধে নেবে না, আর কেউ কারও নেকির অংশীদার হবে না।

এই আয়াতটি আমাদের শেখায় যে, কেবল বংশ বা পূর্বপুরুষের গৌরব নিয়ে গর্ব করা সম্পূর্ণ ভুল। কারও সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেই যে সে জান্নাতে যাবে—এমন ধারণা ভিত্তিহীন। বরং প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে নিজের ঈমান, আমল এবং আল্লাহর আনুগত্যের উপর। যে ব্যক্তি নবী-রাসূলদের অনুসরণ করেছে, সে তাদের সাথে থাকবে; আর যে তাদের অনুসরণ করেনি, তার সম্পর্ক তাদের সাথে নেই—যদিও সে রক্তের সম্পর্কে নিকটতম হয়।

আল্লাহ তাআলা আরও বলছেন: “তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না তারা কী করত।” অর্থাৎ কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে নিজের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইবরাহীম (আ.)-এর পিতা মুশরিক ছিলেন, কিন্তু ইবরাহীম (আ.)-এর মর্যাদা এতে কমেনি। আবার নূহ (আ.)-এর ছেলে কাফির ছিল, কিন্তু নূহ (আ.)-এর নবুওয়াত এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তাই প্রত্যেকে নিজের কাজের জন্য দায়ী।

এই আয়াত থেকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই—আমাদের উচিত নিজেদের আমল সংশোধন করা, নিজেদের ঈমান মজবুত করা, এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর আদর্শকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। কারণ আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই সম্মানিত, যে তাকওয়া অর্জন করেছে। বংশ, গোত্র, ভাষা বা রং নয়—মাপকাঠি হলো তাকওয়া ও আমল।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং আমাদের আমলগুলোকে কবুল করুন। আমিন।



📜 আয়াত 139-143 — সূরা আল-বাকারা

139قُلْ أَتُحَاجُّونَنَا فِي اللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ
আপনি বলে দিন, তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করছ? অথচ তিনিই আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের ও পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। এবং আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ।
140أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ ۗ قُلْ أَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ ۗ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَادَةً عِندَهُ مِنَ اللَّهِ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? আপনি বলে দিন, তোমরা বেশী জান, না আল্লাহ বেশী জানেন?
141تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন। সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না।
142۞ سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।
143وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ۗ وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ ۗ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ
এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
141আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 141

সূরা আল-বাকারা আয়াত 141 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে…

সূরা আয়াত 141/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 139–143. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না