আল-বাকারা · 173/286
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-বাকারা
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ۝١٧٣
Innamaa harrama `alaikumul maitata waddama wa lahmal khinzeeri wa maaa uhilla bihee lighairil laahi famanid turra ghaira baaghinw wa laa `aadin falaaa isma `alaih; innal laaha Ghafoorur Raheem
📖 বাংলা অর্থ
তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • মাইতাহ (الميتة): যে প্রাণী শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে জবাই করা হয়নি।
  • দাম (الدم): প্রবাহিত রক্ত।
  • উহিল্লা বিহি লিগাইরিল্লাহ (ما أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ): যে পশু জবাই করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, যেমন মূর্তি বা দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করা পশু।
  • উদতুররা (اضْطُرَّ): বাধ্য হওয়া, প্রাণ বাঁচানোর জন্য চরম প্রয়োজন।
  • বাগী (بَاغٍ): সীমালঙ্ঘনকারী, যে প্রয়োজন ছাড়া বা প্রয়োজনীয় পরিমাণের বেশি খায়।
  • আদী (عَادٍ): যে সীমা অতিক্রম করে, যেমন ক্ষুধা নিবারণের বদলে পেট ভরে খাওয়া।

তাফসির:

আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অশেষ রহমত ও দয়াবশতঃ হারাম খাদ্যসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি শুধুমাত্র চারটি বিষয় হারাম করেছেন:

প্রথমত: মৃত প্রাণী, অর্থাৎ যে প্রাণী শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা হয়নি — যেমন প্রাকৃতিক মৃত্যু, শ্বাসরোধ, আঘাতপ্রাপ্ত, পাহাড় থেকে পড়ে মরা ইত্যাদি। তবে মাছ ও পঙ্গপাল এর ব্যতিক্রম, কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দুটিকে হালাল ঘোষণা করেছেন।

দ্বিতীয়ত: প্রবাহিত রক্ত। তবে কলিজা ও প্লীহা এর ব্যতিক্রম, যা হালাল।

তৃতীয়ত: শূকরের গোশত — শুধু গোশত নয়, বরং শূকরের সকল অংশই হারাম, কারণ গোশতই তার প্রধান অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থত: যে পশু আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা হয়েছে, যেমন মূর্তি, জিন বা অন্য কোনো সৃষ্টির নাম উচ্চারণ করে জবাই করা।

এরপর আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত করুণাময়ভাবে একটি ব্যতিক্রমের বিধান দিয়েছেন। যদি কোনো ব্যক্তি চরম প্রয়োজন ও বাধ্য হয়ে পড়ে — যেমন প্রাণ বাঁচানোর জন্য অন্য কিছু না পেয়ে — তবে সে এই হারাম বস্তুগুলো খেতে পারবে, তবে শর্ত হলো: সে সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, অর্থাৎ প্রয়োজন মেটানোর বদলে বেশি খাবে না, এবং সীমা অতিক্রমকারী না হয়, অর্থাৎ বৈধ খাবার পাওয়া সত্ত্বেও হারাম খোঁজা বা প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়া যাবে না। এমন অবস্থায় খেলে তার কোনো গুনাহ হবে না।

আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু — তিনি তাঁর বান্দাদের দুর্বলতা জানেন, তাই কঠিন পরিস্থিতিতে সহজ বিধান দিয়েছেন এবং ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা — কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহ নিজেই সহজ বিধান দিয়েছেন, যা ধর্মের সৌন্দর্য ও মানবতার প্রতি দয়ার প্রমাণ।
  2. হারাম-হালালের সীমারেখা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত — মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দূরে থাকা।
  3. ইসলামে জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম — প্রাণ বাঁচানোর জন্য জরুরি অবস্থায় হারাম খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা দেখায় ইসলাম জীবনকে কত মূল্য দেয়।
  4. আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত অফুরন্ত — তিনি বান্দার অসহায় অবস্থা বুঝেন এবং সে অনুযায়ী সহজ বিধান দেন। এটি মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জাগিয়ে তোলে।
  5. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, ইসলাম কখনো মানুষের জীবনকে সংকটে ফেলে না; বরং প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত সমাধান দিয়ে থাকে — যা ইসলামের পূর্ণতা ও মহানুভবতার প্রমাণ।


📜 আয়াত 171-175 — সূরা আল-বাকারা

171وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَنِدَاءً ۚ صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ
বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না।
172يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর।
173إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।
174إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا ۙ أُولَٰئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
175أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ ۚ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ
এরাই হল সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করেছে এবং (খরিদ করেছে) ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিনিময়ে আযাব। অতএব, তারা দোযখের উপর কেমন ধৈর্য্য ধারণকারী।
আল-বাকারাকুরআন সূচী
286আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
173আয়াত

অনুবাদ — আল-বাকারা 173

সূরা আল-বাকারা আয়াত 173 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস…

সূরা আয়াত 173/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 171–175. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না