হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই বন্দেগী কর।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
طَيِّبَات – পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও বৈধ (হালাল) বস্তুসমূহ।
رَزَقْنَاكُمْ – আমরা তোমাদেরকে যা দান করেছি (জীবিকা/রিজিক)।
وَاشْكُرُوا لِلَّهِ – আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ – তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করো।
তাফসীর (ব্যাখ্যা):
হে ঈমানদারগণ! তোমরা সেই পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও বৈধ বস্তুসমূহ আহার করো যা আমি তোমাদেরকে রিজিক হিসেবে দান করেছি। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যে সমস্ত খাদ্য-দ্রব্য হালাল ও পবিত্র করেছেন, সেগুলোই তোমরা খাও এবং হারাম ও নাপাক বস্তু থেকে বিরত থাকো। কাফিরদের মতো নিজেদের উপর হালাল বস্তু হারাম করো না, আবার হারামকে হালাল বানানোর চেষ্টাও করো না।
আর আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করো—মুখে প্রশংসা করে, অন্তরে কৃতজ্ঞতা পোষণ করে এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে তাঁর আনুগত্য করে। আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের অর্থ হলো, তাঁর দেওয়া নেয়ামতগুলোকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।
যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহর ইবাদতকারী হয়ে থাকো—তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাসী, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা—তাহলে তোমাদের কর্তব্য হলো, শুধুমাত্র তাঁরই নির্দেশ অনুযায়ী খাওয়া-দাওয়া করা এবং তাঁরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কারণ প্রকৃত ইবাদতকারী তো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর দেওয়া হালাল রিজিক গ্রহণ করে এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করে।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মুমিনের খাদ্য-পানীয় হতে হবে সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র। হারাম উপার্জন ও খাদ্য ইবাদত কবুলের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা প্রতিটি মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য। শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ নেয়ামত বৃদ্ধি করেন।
হালাল রিজিক গ্রহণ এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই প্রকৃত ইবাদতের প্রমাণ। যে ব্যক্তি এ দুটি বিষয়ে যত্নবান, সে-ই প্রকৃত মুমিন।
ইসলাম ধর্মে খাদ্য-পানীয়ের ব্যাপারে কোনো সংকীর্ণতা নেই; বরং পবিত্র ও বৈধ বস্তুকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং ক্ষতিকর ও হারাম বস্তু থেকে নিষেধ করা হয়েছে। এটি ইসলামের সহজতা ও পূর্ণাঙ্গতার পরিচয় বহন করে।
আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব। যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও।
বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না।
তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।
নিশ্চয় যারা সেসব বিষয় গোপন করে, যা আল্লাহ কিতাবে নাযিল করেছেন এবং সেজন্য অল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা আগুন ছাড়া নিজের পেটে আর কিছুই ঢুকায় না। আর আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের সাথে না কথা বলবেন, না তাদের পবিত্র করা হবে, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।