অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ ব্যাখ্যা:
- উম্মাতান ওয়াহিদাহ – একই ধর্ম ও পথের অনুসারী এক জাতি বা এক সম্প্রদায়।
- মুবাশ্শিরীন – সুসংবাদদাতা (যারা ঈমানদারদের জান্নাতের সুসংবাদ দেন)।
- মুনযিরীন – ভয় প্রদর্শনকারী (যারা কাফির ও পাপীদের শাস্তির ভয় দেখান)।
- বাগইয়ান – অন্যায়ভাবে, বিদ্বেষ ও হিংসার কারণে।
- বাইয়িনাত – স্পষ্ট প্রমাণ ও দলিল।
- সিরাত্বুম মুস্তাকীম – সরল ও সঠিক পথ।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মানবজাতির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরেছেন। প্রাথমিক যুগে সমস্ত মানুষ একই ধর্মের উপর ছিল – তারা ছিল তাওহীদের অনুসারী, এক আল্লাহর ইবাদতকারী। আদম (আঃ) থেকে শুরু করে নূহ (আঃ) পর্যন্ত মানুষ একই সত্য ধর্মের উপর ছিল। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় এবং মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষের কারণে তারা মতভেদ সৃষ্টি করে – কেউ ঈমান আনে, কেউ কুফরি করে, কেউ শিরকে লিপ্ত হয়।
এই মতভেদের কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত ও হিকমত অনুযায়ী নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করেন। তাঁদের দায়িত্ব ছিল দ্বিগুণ – একদিকে যারা ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া, অন্যদিকে যারা কুফরি করবে ও আল্লাহর অবাধ্য হবে তাদের জাহান্নামের ভয় দেখানো। নবীগণের সাথে আল্লাহ তাআলা সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক কিতাবসমূহ নাযিল করেন, যাতে সেই কিতাবই মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া মতভেদের মীমাংসা করে দেয় এবং মানুষকে সঠিক পথ দেখায়।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা কিতাব দিয়েছিলেন – অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের আলেমগণ – তারাই কিতাবের সত্যতা জানার পরেও তা মানতে অস্বীকার করে। তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ এসে গিয়েছিল যে এই কিতাব আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য, তবুও তারা হিংসা ও বিদ্বেষের কারণে মতভেদ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রেরিত হলেন, তখন তারা তাঁর সত্যতা সম্পর্কে অবগত ছিল, কিন্তু ক্ষমতা ও পার্থিব স্বার্থের কারণে তারা তা গোপন রাখল এবং ঈমান আনল না।
এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে মুমিনদেরকে হেদায়াত দান করেন – তাদের অন্তর খুলে দেন সত্য গ্রহণের জন্য। তারা সেই মতভেদপূর্ণ বিষয়ে সত্যকে চিনতে পেরেছিল এবং ঈমান এনেছিল। আল্লাহ তাআলা যাকে চান সরল পথে পরিচালিত করেন, আর সেই সরল পথই হলো ইসলামের পথ – যে পথে কোনো বক্রতা নেই, যে পথের শেষ প্রান্তে রয়েছে চিরন্তন সাফল্য।
শিক্ষণীয় দিক ও দাওয়াত:
এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, মতভেদ ও বিভেদ মানবজাতির জন্য পরীক্ষা। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য রহমতস্বরূপ নবী ও কিতাব পাঠিয়েছেন, যাতে আমরা সত্যকে চিনতে পারি। প্রিয় পাঠক! আজও সেই একই সত্যের আলো আমাদের সামনে – কুরআন ও সুন্নাহ। আমাদের কর্তব্য হলো হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে সত্যকে গ্রহণ করা, কারণ আল্লাহ তাআলা সত্য গ্রহণকারীদেরকে হেদায়াত দেন এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন। আসুন, আমরা সবাই সেই সরল পথের অনুসারী হই, যে পথে আমাদের পূর্ববর্তী নেককার বান্দারা চলেছেন – আর আল্লাহর রহমত ও হেদায়াতই আমাদের একমাত্র ভরসা।
📜 আয়াত 211-215 — সূরা আল-বাকারা
অনুবাদ — আল-বাকারা 213
সূরা আল-বাকারা আয়াত 213 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : সকল মানুষ একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা…সূরা আয়াত 213/286 — সূরা আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-বাকারা শুনুন, সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, সূরা আল-বাকারা mp3, সূরা আল-বাকারা pdf. আয়াত 211–215. বাংলা অর্থ: हिन्दी.
পবিত্র কুরআন
Monday, September 7, 2026
আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না








