Am hasibtum an tadkhulul jannata wa lammaa yaa-tikum masalul lazeena khalaw min qablikum massathumul baasaaa`u waddarraaaa`u wa zulziloo hattaa yaqoolar Rasoolu wallazeena aamanoo ma`ahoo mataa nasrul laah; alaaa inna nasral laahiqareeb
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
क्या तुम ये ख्याल करते हो कि बेहश्त में पहुँच ही जाओगे हालॉकि अभी तक तुम्हे अगले ज़माने वालों की सी हालत नहीं पेश आयी कि उन्हें तरह तरह की तक़लीफों (फाक़ा कशी मोहताजी) और बीमारी ने घेर लिया था और ज़लज़ले में इस क़दर झिंझोडे ग़ए कि आख़िर (आज़िज़ हो के) पैग़म्बर और ईमान वाले जो उन के साथ थे कहने लगे देखिए ख़ुदा की मदद कब (होती) है देखो (घबराओ नहीं) ख़ुदा की मदद यक़ीनन बहुत क़रीब है
তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
أَمْ حَسِبْتُمْ – না কি তোমরা মনে করেছ?
وَلَمَّا يَأْتِكُم – অথচ এখনো তোমাদের কাছে আসেনি।
مَّثَلُ – দৃষ্টান্ত, অনুরূপ অবস্থা।
خَلَوْا – অতিবাহিত করেছে, চলে গেছে।
مَّسَّتْهُمُ – তাদেরকে স্পর্শ করেছিল।
الْبَأْسَاءُ – দারিদ্র্য, অভাব-অনটন।
الضَّرَّاءُ – রোগ-ব্যাধি, শারীরিক কষ্ট।
زُلْزِلُوا – তারা প্রকম্পিত হয়েছিল, ভয়-ভীতি ও কঠিন পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছিল।
مَتَى نَصْرُ اللَّهِ – আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?
তفسير:
হে মুমিনগণ! তোমরা কি মনে করেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ তোমাদের পূর্ববর্তী সত্যনিষ্ঠ বান্দাদের ওপর যেসব কঠিন পরীক্ষা এসেছিল, তোমাদের ওপরও সেগুলোর অনুরূপ পরীক্ষা না এসেই? অথচ আল্লাহর রাস্তায় চলার পথ কখনো কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। পূর্ববর্তী নবী ও তাদের অনুসারী মুমিনগণ চরম দারিদ্র্য, রোগ-ব্যাধি, ভয়-ভীতি ও নানা ধরনের কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাদের ওপর এতটা কঠিন সংকট নেমে এসেছিল যে, তারা প্রকম্পিত হয়ে পড়েছিলেন। পরীক্ষা এতটাই কঠিন হয়েছিল যে, এমনকি তাদের নবী এবং তার সাথে থাকা মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন: “আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?” — এ কথা তারা আল্লাহর ওপর সন্দেহের কারণে বলেননি, বরং সাহায্যের জন্য অস্থির হয়ে এবং পরীক্ষার চরম পর্যায়ে পৌঁছে বলেছিলেন।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের ও আমাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন: “জেনে রাখো! নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটবর্তী।” অর্থাৎ মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্য অবশ্যম্ভাবী এবং তা খুবই কাছাকাছি; শর্ত হলো ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা।
ফায়দা বা শিক্ষা:
জান্নাতের পথ মসৃণ নয়; সেখানে পৌঁছাতে হলে পরীক্ষা, কষ্ট ও ধৈর্যের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এটাই আল্লাহর চিরন্তন বিধান।
বিপদ-আপদ ও কঠিন পরিস্থিতি মুমিনের ঈমানের মানদণ্ড; এর মাধ্যমেই আল্লাহ তার বান্দাদের মর্যাদা উন্নত করেন এবং তাদের প্রকৃত অবস্থান যাচাই করেন।
কঠিন বিপদের সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং “কখন আসবে সাহায্য?” বলে ব্যাকুল হওয়া দোষণীয় নয়; বরং এটাই আল্লাহর ওপর ভরসা ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ।
আল্লাহর সাহায্য থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। বিপদ যতই ঘনিয়ে আসুক, আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী — এটি মুমিনের চিরন্তন প্রত্যয়।
পূর্ববর্তী উম্মতদের ধৈর্য ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করলে আমাদের মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং কষ্ট সহ্য করার শক্তি সঞ্চার হয়।
পার্থিব জীবনের উপর কাফেরদিগকে উম্মত্ত করে দেয়া হয়েছে। আর তারা ঈমানদারদের প্রতি লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে। পক্ষান্তরে যারা পরহেযগার তারা সেই কাফেরদের তুলনায় কেয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুযী দান করেন।
সকল মানুষ একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা পয়গম্বর পাঠালেন সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকরী হিসাবে। আর তাঁদের সাথে অবর্তীণ করলেন সত্য কিতাব, যাতে মানুষের মাঝে বিতর্কমূলক বিষয়ে মীমাংসা করতে পারেন। বস্তুতঃ কিতাবের ব্যাপারে অন্য কেউ মতভেদ করেনি; কিন্তু পরিষ্কার নির্দেশ এসে যাবার পর নিজেদের পারস্পরিক জেদবশতঃ তারাই করেছে, যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ ঈমানদারদেরকে হেদায়েত করেছেন সেই সত্য বিষয়ে, যে ব্যাপারে তারা মতভেদ লিপ্ত হয়েছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, সরল পথ বাতলে দেন।
তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্যে! তোমরা শোনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।
তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও-যে বস্তুই তোমরা ব্যয় কর, তা হবে পিতা-মাতার জন্যে, আত্নীয়-আপনজনের জন্যে, এতীম-অনাথদের জন্যে, অসহায়দের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে। আর তোমরা যে কোন সৎকাজ করবে, নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত ভালভাবেই আল্লাহর জানা রয়েছে।
তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।