لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ۖ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ ۚ فَمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ لَا انفِصَامَ لَهَا ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ٢٥٦
🔤 Transliteration
Laaa ikraaha fid deeni qat tabiyanar rushdu minal ghayy; famai yakfur bit Taaghooti wa yu`mim billaahi faqadis tamsaka bil`urwatil wusqaa lan fisaama lahaa; wallaahu Samee`un `Aleem
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।
🌐 Additional reference in हिन्दी
শব্দার্থ:
- لَا إِكْرَاهَ – কোনো জোর-জবরদস্তি নেই।
- الرُّشْد – সত্য পথ, হিদায়াত।
- الْغَيِّ – ভ্রষ্টতা, গোমরাহী।
- الطَّاغُوت – আল্লাহ ছাড়া যা কিছু ইবাদত করা হয় (মূর্তি, শয়তান, জালিম শাসক ইত্যাদি)।
- الْعُرْوَةِ الْوُثْقَى – মজবুত ও শক্তপোক্ত রশি বা হাতল।
- لَا انفِصَامَ لَهَا – যা কখনো ছিঁড়ে না, চিরস্থায়ী।
তাফসীর:
ইসলাম এমন একটি পরিপূর্ণ ও স্পষ্ট দ্বীন যে, এর সত্যতা প্রমাণের জন্য কারো ওপর জোর-জবরদস্তির প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তাআলা মানুষের বিবেক ও বোধশক্তিকে এমনভাবে তৈরি করেছেন এবং কুরআন ও রাসূলের মাধ্যমে এমন স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছেন যে, সত্য পথ (হিদায়াত) এবং মিথ্যা পথ (গোমরাহী) সম্পূর্ণরূপে পৃথক ও সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই ইসলামে প্রবেশের জন্য কারো ওপর চাপ সৃষ্টি করা জায়েয নয়; বরং মানুষকে তার নিজস্ব ইচ্ছা ও বিবেক দিয়ে সত্য গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছুকে অস্বীকার করে—যেমন মূর্তি, শয়তান, তাগুত বা অন্য যেকোনো উপাস্যকে প্রত্যাখ্যান করে—এবং একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমান আনে, সে যেন ইসলামের সেই মজবুত রশি ধরে ফেলেছে যা কখনো ছিঁড়ে না। এই রশি তাকে দুনিয়াতে সঠিক পথ দেখায় এবং আখিরাতে জান্নাতের পথে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কথা শোনেন এবং তাদের কাজ ও নিয়ত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন; তিনি প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
- ইসলাম একটি যুক্তিসঙ্গত ও বিবেকসম্মত দ্বীন—এতে জোর-জবরদস্তির কোনো স্থান নেই; বরং মানুষকে সচেতনভাবে সত্য গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য এত স্পষ্ট যে, যে কেউ চাইলে সহজেই সত্যকে চিনতে পারে; তাই অজ্ঞতা কোনো অজুহাত হতে পারে না।
- তাগুত (আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্য) থেকে সম্পূর্ণ বিমুক্ত হওয়াই প্রকৃত ঈমানের পূর্বশর্ত; ঈমান ও কুফর একসাথে থাকতে পারে না।
- আল্লাহর ওপর ঈমান আনা মানে এমন এক মজবুত আশ্রয় গ্রহণ করা যা কখনো ধ্বংস হয় না—এটাই মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তিশালী ভরসা।
- আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন—তাঁর কাছে আমাদের প্রতিটি কথা, কাজ ও অন্তরের নিয়ত গোপন নয়; তাই আমাদের উচিত সৎকর্ম ও নিষ্ঠার সাথে জীবনযাপন করা।
📜 আয়াত 254-258 — আল-বাকারা
254يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ ۗ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, সেদিন আসার পূর্বেই তোমরা তা থেকে ব্যয় কর, যাতে না আছে বেচা-কেনা, না আছে সুপারিশ কিংবা বন্ধুত্ব। আর কাফেররাই হলো প্রকৃত যালেম।
255اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
256لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ۖ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ ۚ فَمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ لَا انفِصَامَ لَهَا ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী ‘তাগুত’দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।
257اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ ۗ أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে।
258أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِي حَاجَّ إِبْرَاهِيمَ فِي رَبِّهِ أَنْ آتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ إِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّيَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا أُحْيِي وَأُمِيتُ ۖ قَالَ إِبْرَاهِيمُ فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ فَبُهِتَ الَّذِي كَفَرَ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
তুমি কি সে লোককে দেখনি, যে পালনকর্তার ব্যাপারে বাদানুবাদ করেছিল ইব্রাহীমের সাথে এ কারণে যে, আল্লাহ সে ব্যাক্তিকে রাজ্য দান করেছিলেন? ইব্রাহীম যখন বললেন, আমার পালনকর্তা হলেন তিনি, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সে বলল, আমি জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটিয়ে থাকি। ইব্রাহীম বললেন, নিশ্চয়ই তিনি সুর্যকে উদিত করেন পূর্ব দিক থেকে এবার তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর। তখন সে কাফের হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ সীমালংঘণকারী সম্প্রদায়কে সরল পথ প্রদর্শন করেন না।
অনুবাদ — আল-বাকারা 256
সূরা আল-বাকারা আয়াত 256 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী…
সূরা আয়াত 256/286 — আল-বাকারা البقرة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: আল-বাকারা শুনুন, আল-বাকারা অনুবাদ, আল-বাকারা mp3, আল-বাকারা pdf. আয়াত 254–258. বাংলা অর্থ: हिन्दी.