Wa laa tujaadilooo Ahlal Kitaabi illaa billatee hiya ahsanu illal lazeena zalamoo minhum wa qoolooo aamannaa billazeee unzila ilainaa wa unzila ilaikum wa illaahunna wa illahukum waahidunw-wa nahnu lahoo muslimoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তোমরা কিতাবধারীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে না, কিন্তু উত্তম পন্থায়; তবে তাদের সাথে নয়, যারা তাদের মধ্যে বে-ইনসাফ। এবং বল, আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (ऐ ईमानदारों) अहले किताब से मनाज़िरा न किया करो मगर उमदा और शाएस्ता अलफाज़ व उनवान से लेकिन उनमें से जिन लोगों ने तुम पर ज़ुल्म किया (उनके साथ रिआयत न करो) और साफ साफ कह दो कि जो किताब हम पर नाज़िल हुई और जो किताब तुम पर नाज़िल हुई है हम तो सब पर ईमान ला चुके और हमारा माबूद और तुम्हारा माबूद एक ही है और हम उसी के फरमाबरदार है
তোমরা কিতাবধারীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে না, কিন্তু উত্তম পন্থায়; তবে তাদের সাথে নয়, যারা তাদের মধ্যে বে-ইনসাফ। এবং বল, আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
تُجَادِلُوا – বিবাদ-বিতর্ক করা, তর্ক করা।
بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ – সর্বোত্তম পদ্ধতিতে, যা উত্তম ও কোমল।
ظَلَمُوا – অত্যাচার করা, সীমালঙ্ঘন করা, হঠকারিতা ও জিদ করা।
مُسْلِمُونَ – আনুগত্যশীল, আত্মসমর্পণকারী।
তাফসীর (বিস্তারিত ব্যাখ্যা):
হে মুমিনগণ! তোমরা আহলে কিতাব (ইয়াহুদী ও নাসারা)দের সাথে এমনভাবে তর্ক-বিতর্ক করো না, যা কঠোরতা, রূঢ়তা বা বিদ্বেষপূর্ণ হয়। বরং তাদের সাথে সেই পদ্ধতিতে আলোচনা করো, যা সর্বোত্তম, নম্র ও হিকমতপূর্ণ। তাদেরকে দাওয়াত দাও কোমল ভাষায়, সুন্দর যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে, যাতে সত্য তাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে ওঠে এবং তাদের মন আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। তবে যারা তোমাদের প্রতি জুলুম করেছে, সত্যকে জানার পরও হঠকারিতা ও জিদ ধরে রেখেছে এবং প্রকাশ্যে শত্রুতা ও যুদ্ধ ঘোষণা করেছে—তাদের ক্ষেত্রে এই নম্র পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়; বরং তাদের সাথে কঠোর অবস্থান নেবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা জিযিয়া (কর) প্রদান করে নত হয়ে যায়।
আর আহলে কিতাবদের সাথে আলোচনার সময় তোমরা বলবে: “আমরা ঈমান এনেছি সেই কিতাবের ওপর যা আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন) এবং সেই কিতাবের ওপরও যা তোমাদের প্রতি নাযিল হয়েছিল (অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিল)। আমাদের ইলাহ এবং তোমাদের ইলাহ এক ও অভিন্ন। তিনি ছাড়া আমাদের কোনো উপাস্য নেই। আমরা তাঁরই কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী এবং তাঁরই আদেশ-নিষেধের অনুগত।” অর্থাৎ, আমরা সকল আসমানী কিতাব এবং সকল নবী-রাসূলের প্রতি ঈমান রাখি এবং এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করি না।
শিক্ষা ও উপদেশ:
ইসলাম অন্যদের সাথে সদাচরণ ও নম্র আচরণের নির্দেশ দেয়। এমনকি মতবিরোধের সময়ও উত্তম পদ্ধতিতে আলোচনা করতে শেখায়, যা ইসলামের শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল চরিত্রের পরিচয় বহন করে।
আহলে কিতাবদের সাথে সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান ও সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা। তাদের কিতাবের প্রতি ঈমান রাখা আমাদের ঈমানের অংশ, যা দেখায় ইসলাম কতটা উদার ও ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গির।
জুলুম ও সীমালঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও ন্যায়বিচারের অংশ। নম্রতা মানে দুর্বলতা নয়; বরং যারা শান্তি ভঙ্গ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াও ইসলামের শিক্ষা।
তাওহীদ (একত্ববাদ) হলো সকল নবী-রাসূলের মূল বাণী। আহলে কিতাবদের সাথে আলোচনায় এই অভিন্ন সত্যকে সামনে রাখা উচিত, যাতে বিভেদের বদলে ঐক্যের সুত্র খুঁজে পাওয়া যায়।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে, আর যুক্তি-তর্কেও থাকতে হবে শালীনতা ও ভদ্রতা। এটিই ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা—সুন্দর কথা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করা।
তোমরা কিতাবধারীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে না, কিন্তু উত্তম পন্থায়; তবে তাদের সাথে নয়, যারা তাদের মধ্যে বে-ইনসাফ। এবং বল, আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ।
এভাবেই আমি আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীণ করেছি। অতঃপর যাদের কে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা একে মেনে চলে এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ কেউ এতে বিশ্বাস রাখে। কেবল কাফেররাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।