Wa kazaalika anzalnaaa ilaikal Kitaab; fallazeena aatainaahumul kitaaba yu`minoona bihee wa min haaa`ulaaa`i many yu`minu bih; wa maa yajhadu bi`Aayaatinaa illal kaafiroon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
এভাবেই আমি আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীণ করেছি। অতঃপর যাদের কে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা একে মেনে চলে এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ কেউ এতে বিশ্বাস রাখে। কেবল কাফেররাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और (ऐ रसूल जिस तरह अगले पैग़म्बरों पर किताबें उतारी) उसी तरह हमने तुम्हारे पास किताब नाज़िल की तो जिन लोगों को हमने (पहले) किताब अता की है वह उस पर भी ईमान रखते हैं और (अरबो) में से बाज़ वह हैं जो उस पर ईमान रखते हैं और हमारी आयतों के तो बस पक्के कट्टर काफिर ही मुनकिर है
يَجْحَدُ – অস্বীকার করা, প্রত্যাখ্যান করা (জেনে-শুনে সত্যকে না মানা)।
آيَاتِنَا – আমাদের নিদর্শনসমূহ (কুরআনের আয়াত ও প্রমাণাদি)।
الْكَافِرُونَ – কাফিররা, অর্থাৎ যারা সত্য প্রকাশ পাওয়ার পরও তা মানতে অস্বীকার করে এবং হঠকারিতা ও জেদের বশবর্তী হয়ে সত্যকে গোপন রাখে।
তাফসির (ব্যাখ্যা):
হে নবী! যেমনিভাবে আমি পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি তাদের যুগের উপযোগী কিতাব নাযিল করেছিলাম, ঠিক তেমনিভাবে আপনার প্রতিও এই কুরআন নাযিল করেছি—যা পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের সত্যায়নকারী এবং সর্বশেষ ও চূড়ান্ত গ্রন্থ। এখন যাদেরকে আমি আগে কিতাব (তাওরাত, ইনজিল) দিয়েছিলাম, তাদের মধ্যে যারা প্রকৃত জ্ঞান ও সঠিক উপলব্ধির অধিকারী—যেমন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) ও তার সঙ্গীরা—তারা এই কুরআনের প্রতি ঈমান আনে। কারণ তারা তাদের কিতাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর সত্যতার স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছিল এবং তা চিনতে পেরেছিল। আর মক্কার মুশরিক ও অন্যান্যদের মধ্যে থেকেও অনেক লোক (যেমন আবু বকর, উমর, উসমান, আলী প্রমুখ) এই কুরআনের প্রতি ঈমান এনেছে। কিন্তু যারা জেনে-বুঝে সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের অন্তরে অহংকার ও হঠকারিতা থাকার কারণে তারা কুরআনের স্পষ্ট নিদর্শন ও প্রমাণাদি দেখেও তা মেনে নেয় না। প্রকৃতপক্ষে কেবল তারাই আমার আয়াতকে অস্বীকার করে, যারা কুফরি ও জেদকে নিজেদের স্বভাব বানিয়ে নিয়েছে—তারা সত্য প্রকাশ পাওয়ার পরও তা গোপন রাখে এবং অন্যকে সত্য পথ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে।
শিক্ষা ও উপদেশ:
কুরআন এমন একটি মহাগ্রন্থ যা পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের সত্যতা নিশ্চিত করে এবং নিজেই সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ নির্দেশনা। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
প্রকৃত জ্ঞান ও নিষ্ঠা যার থাকে, সে সত্যকে চিনতে পারে এবং তা মেনে নেয়—যদিও সে আগে অন্য ধর্ম বা মতবাদের অনুসারী থাকে। যেমন আহলে কিতাবদের অনেকেই ঈমান এনেছিল।
সত্যকে জেনে-বুঝে অস্বীকার করা এবং অহংকারবশত তা না মানা—এটিই কুফরি ও ধ্বংসের কারণ। আল্লাহর আয়াত ও নিদর্শনসমূহ কেবল তারাই অস্বীকার করে, যারা হঠকারিতা ও জেদকে নিজেদের অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, সত্যের প্রতি আত্মসমর্পণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যারা সত্য পেয়ে তা গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের সম্মানিত করেন; আর যারা জেদ ও অহংকারের কারণে তা প্রত্যাখ্যান করে, তারা নিজেদেরই ক্ষতি করে।
কুরআনের প্রতি ঈমান আনা এবং এর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়া—এটিই সফলতা ও মুক্তির পথ। পূর্ববর্তী কিতাবধারীরা যখন সঠিকভাবে কুরআন চিনেছিল, তখন তারা ঈমান এনেছিল; আমাদের জন্যও এই কুরআনই পথপ্রদর্শক।
এভাবেই আমি আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীণ করেছি। অতঃপর যাদের কে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা একে মেনে চলে এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ কেউ এতে বিশ্বাস রাখে। কেবল কাফেররাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে।
তোমরা কিতাবধারীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করবে না, কিন্তু উত্তম পন্থায়; তবে তাদের সাথে নয়, যারা তাদের মধ্যে বে-ইনসাফ। এবং বল, আমাদের প্রতি ও তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমাদের উপাস্য ও তোমাদের উপাস্য একই এবং আমরা তাঁরই আজ্ঞাবহ।
এভাবেই আমি আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীণ করেছি। অতঃপর যাদের কে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা একে মেনে চলে এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ কেউ এতে বিশ্বাস রাখে। কেবল কাফেররাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।