আল-আহযাব · 55/73
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-আহযাব
لَّا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِي آبَائِهِنَّ وَلَا أَبْنَائِهِنَّ وَلَا إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ أَخَوَاتِهِنَّ وَلَا نِسَائِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ ۗ وَاتَّقِينَ اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا ۝٥٥
Laa junaaha `alaihinna feee aabaaa`ihinna wa laaa abnaaa`ihinna wa laaa ikhwaanihinnna wa laaa abnaaa`i ikhwaanihinna wa laaa abnaaa`i akhawaatihinna wa laa nisaaa`i hinna wa laa Maa malakat aimaanuhunn; wattaqeenal laah; innal laaha kaana `alaa kulli shai`in Shaheedaa
📖 বাংলা অর্থ
নবী-পত্নীগণের জন্যে তাঁদের পিতা পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, সহধর্মিনী নারী এবং অধিকার ভুক্ত দাসদাসীগণের সামনে যাওয়ার ব্যাপারে গোনাহ নেই। নবী-পত্নীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয় প্রত্যক্ষ করেন।

🎧 শুনুন
📜

অনুবাদ — Tafsir

কয়েকটি শব্দের অর্থ:

  • لا جُنَاحَ – কোনো গুনাহ নেই, কোনো দোষ নেই।
  • آبَائِهِنَّ – তাদের পিতা।
  • أَبْنَائِهِنَّ – তাদের সন্তান (ছেলে)।
  • إِخْوَانِهِنَّ – তাদের ভাই।
  • أَبْنَاءِ إِخْوَانِهِنَّ – তাদের ভাইয়ের ছেলেরা।
  • أَبْنَاءِ أَخَوَاتِهِنَّ – তাদের বোনের ছেলেরা।
  • نِسَائِهِنَّ – তাদের (অন্য) নারীগণ।
  • مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ – তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসী।
  • وَاتَّقِينَ – তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো (আল্লাহকে ভয় করো)।
  • شَهِيدًا – সর্বদ্রষ্টা, সবকিছু প্রত্যক্ষকারী।

তাফসীর:

প্রিয় পাঠক! এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা ও সহজতা ঘোষণা করেছেন। যখন পর্দার বিধান নাজিল হলো, তখন মহিলারা তাদের নিকটাত্মীয় পুরুষদের সামনেও পর্দা করতে শুরু করলেন। কিন্তু ঘরের অভ্যন্তরে পিতা, ভাই, ছেলে, ভাতিজা, ভাগ্নে এসব মাহরাম আত্মীয়দের সাথে তো নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ ও লেনদেন করতে হয়। তাই আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিলেন যে, নারীদের জন্য তাদের পিতা, ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, অন্যান্য নারী এবং তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের সামনে পর্দা না করায় কোনো গুনাহ নেই। অর্থাৎ, এসব মাহরাম বা নারীদের সামনে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন, কথা বলতে পারবেন, তাদের সেবা-শুশ্রূষা করতে পারবেন।

কিন্তু লক্ষ করুন, আল্লাহ তাআলা এখানে শুধু সুবিধাই দেননি, সাথে সাথে একটি সতর্কবাণীও উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।” অর্থাৎ, এই ছাড়ের অর্থ এই নয় যে, তোমরা সীমালঙ্ঘন করবে। এই অনুমতি শুধু নির্ধারিত ব্যক্তিদের জন্য, নির্ধারিত সীমার মধ্যে। এর বাইরে গিয়ে নয়। আর আল্লাহ তো সবকিছু দেখছেন—তোমাদের বাহ্যিক আচরণও দেখছেন, আর অন্তরের নিয়তও দেখছেন। তিনি জানেন, কে কোন উদ্দেশ্যে কার সামনে আসছে।

এই আয়াত থেকে আমরা শিখি—ইসলাম কখনো কঠোরতার নাম নয়, বরং এটি ফিতরাতের (মানব স্বভাবের) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। একদিকে যেমন পর্দার বিধান দিয়ে সমাজের শালীনতা রক্ষা করা হয়েছে, অন্যদিকে মাহরাম আত্মীয়দের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগও রাখা হয়েছে। এটি ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রমাণ।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—আল্লাহর দৃষ্টি সবসময় আমাদের ওপর রয়েছে। আমরা যেন মনে করি, আমরা একা বা গোপনে কিছু করছি, কিন্তু আল্লাহ সব দেখছেন। এই চেতনা যদি আমাদের অন্তরে জাগ্রত থাকে, তাহলে আমরা কখনো অন্যায় করতে পারবো না। তাই আসুন, আমরা এই আয়াত থেকে শিক্ষা নিই—আল্লাহর দেওয়া সীমার মধ্যে থেকে জীবনযাপন করি, তাঁর নির্দেশ মেনে চলি, এবং সর্বদা স্মরণ রাখি যে, আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কাজের সাক্ষী।



📜 আয়াত 53-57 — সূরা আল-আহযাব

53يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنكُمْ ۖ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ ۚ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ۚ ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ ۚ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَن تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَن تَنكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِن بَعْدِهِ أَبَدًا ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمًا
হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ।
54إِن تُبْدُوا شَيْئًا أَوْ تُخْفُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
তোমরা খোলাখুলি কিছু বল অথবা গোপন রাখ, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
55لَّا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِي آبَائِهِنَّ وَلَا أَبْنَائِهِنَّ وَلَا إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ أَخَوَاتِهِنَّ وَلَا نِسَائِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ ۗ وَاتَّقِينَ اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا
নবী-পত্নীগণের জন্যে তাঁদের পিতা পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, সহধর্মিনী নারী এবং অধিকার ভুক্ত দাসদাসীগণের সামনে যাওয়ার ব্যাপারে গোনাহ নেই। নবী-পত্নীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয় প্রত্যক্ষ করেন।
56إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর।
57إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا
যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।
আল-আহযাবকুরআন সূচী
73আয়াত
মাদানীRevelation
55আয়াত

অনুবাদ — আল-আহযাব 55

সূরা আল-আহযাব আয়াত 55 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : নবী-পত্নীগণের জন্যে তাঁদের পিতা পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, সহধর্মিনী…

সূরা আয়াত 55/73 — সূরা আল-আহযাব الأحزاب (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-আহযাব শুনুন, সূরা আল-আহযাব অনুবাদ, সূরা আল-আহযাব mp3, সূরা আল-আহযাব pdf. আয়াত 53–57. বাংলা অর্থ: हिन्दी.




পবিত্র কুরআন


Monday, September 7, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না