যারা ঈমানদার তারা যে, জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
(पस देखो) ईमानवाले तो ख़ुदा की राह में लड़ते हैं और कुफ्फ़ार शैतान की राह में लड़ते मरते हैं पस (मुसलमानों) तुम शैतान के हवा ख़ाहों से लड़ो और (कुछ परवाह न करो) क्योंकि शैतान का दाओ तो बहुत ही बोदा है
যারা ঈমানদার তারা যে, জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।
📜
অনুবাদ — Tafsir
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ:
সাবিলিল্লাহ: আল্লাহর পথে, অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনের বিজয়ের জন্য।
তাগুত: শয়তান, মূর্তি, অত্যাচারী শাসক এবং আল্লাহর বিধানের বিপরীতে সব কিছু, যাকে মানুষ উপাস্য বা অনুসরণীয় বানিয়ে নেয়।
আউলিয়াউশ শাইতান: শয়তানের বন্ধু ও অনুসারীগণ, অর্থাৎ কাফির ও মুশরিকরা।
কাইদ: চক্রান্ত, কৌশল, ষড়যন্ত্র।
তাফসীর:
যারা প্রকৃত অর্থে ঈমান এনেছে—মনে বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আমল দ্বারা তা প্রমাণ করেছে—তারা কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই যুদ্ধ করে। তাদের লক্ষ্য হয় সত্যের বিজয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর কালিমা (বাণী)কে সমুন্নত করা। অপরদিকে, যারা কুফরি করে, তারা যুদ্ধ করে তাগুতের পথে—অর্থাৎ শয়তানের নির্দেশে, মূর্তি ও মিথ্যা উপাস্যের সন্তুষ্টির জন্য, কিংবা জমিনে ফাসাদ ও বাতিল শাসন কায়েমের উদ্দেশ্যে। তাদের যুদ্ধের পেছনে থাকে অহংকার, লোভ, জুলুম এবং অন্যায়।
তাই আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে স্পষ্ট নির্দেশ দিচ্ছেন: হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের বন্ধু ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তাদের শক্তি বা সংখ্যা দেখে ভয় পেয়ো না। কারণ, শয়তানের চক্রান্ত ও কৌশল যতই ভয়ংকর মনে হোক না কেন, তা আসলে অত্যন্ত দুর্বল। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তার দ্বীনের জন্য লড়াই করে, শয়তানের সব ষড়যন্ত্র তার সামনে ব্যর্থ হয়ে যায়। শয়তানের শক্তি ক্ষণস্থায়ী, আর আল্লাহর সাহায্য চিরস্থায়ী।
শিক্ষা ও ফায়দা:
মুমিনের জীবনযুদ্ধের লক্ষ্য একটাই—আল্লাহর সন্তুষ্টি। ব্যবসা-বাণিজ্য, পড়াশোনা, চাকরি বা যেকোনো কাজে নিয়ত যদি খাঁটি হয়, তাহলে সেটিও সাবিলিল্লাহ হয়ে যায়। আর যুদ্ধের মতো কঠিন কাজও যদি আল্লাহর জন্য হয়, তবে তা ইবাদতে পরিণত হয়।
কাফির ও বাতিল শক্তিরা যত বড় ও শক্তিশালী মনে হোক না কেন, তাদের ভিত্তি দুর্বল। কারণ তারা শয়তানের ওপর নির্ভর করে, আর শয়তানের কৌশল আল্লাহর মুমিন বান্দাদের ক্ষতি করতে পারে না। তাই মুমিনের কখনো হতাশ হওয়া উচিত নয়।
এই আয়াত মুমিনদের মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এটি শেখায় যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা অস্ত্রের প্রাচুর্য নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা ও সত্যের পথে অবিচল থাকাই চূড়ান্ত বিজয়ের চাবিকাঠি।
শয়তান যত চক্রান্তই করুক, আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসবেই। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে নিজের দায়িত্ব পালন করা।
কাজেই আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জেহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর রাহে লড়াই করে এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপুণ্য দান করব।
আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।
যারা ঈমানদার তারা যে, জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।
তুমি কি সেসব লোককে দেখনি, যাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা নিজেদের হাতকে সংযত রাখ, নামায কায়েম কর এবং যাকাত দিতে থাক? অতঃপর যখন তাদের প্রতি জেহাদের নির্দেশ দেয়া হল, তৎক্ষণাৎ তাদের মধ্যে একদল লোক মানুষকে ভয় করতে আরম্ভ করল, যেমন করে ভয় করা হয় আল্লাহকে। এমন কি তার চেয়েও অধিক ভয়। আর বলতে লাগল, হায় পালনকর্তা, কেন আমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করলে! আমাদেরকে কেন আরও কিছুকাল অবকাশ দান করলে না। ( হে রসূল) তাদেরকে বলে দিন, পার্থিব ফায়দা সীমিত। আর আখেরাত পরহেযগারদের জন্য উত্তম। আর তোমাদের অধিকার একটি সূতা পরিমান ও খর্ব করা হবে না।
তোমরা যেখানেই থাক না কেন; মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও। বস্তুতঃ তাদের কোন কল্যাণ সাধিত হলে তারা বলে যে, এটা সাধিত হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয়, তবে বলে, এটা হয়েছে তোমার পক্ষ থেকে, বলে দাও, এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। পক্ষান্তরে তাদের পরিণতি কি হবে, যারা কখনও কোন কথা বুঝতে চেষ্টা করে না।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।