আন-নিসা · 75/176
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আন-নিসা
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا ۝٧٥
Wa maa lakum laa tuqaatiloona fee sabeelil laahi walmustad`afeena minar rijaali wannisaaa`i walwildaanil lazeena yaqooloona Rabbanaaa akhrijnaa min haazihil qaryatiz zaalimi ahluhaa waj`al lanaa mil ladunka waliyanw waj`al lanaa mil ladunka naseeraa
📖 বাংলা অর্থ
আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • وَمَا لَكُمْ — তোমাদের কী হয়েছে? / তোমাদেরকে কী阻止 করছে?
  • لَا تُقَاتِلُونَ — কেন তোমরা যুদ্ধ করছ না?
  • فِي سَبِيلِ اللهِ — আল্লাহর পথে।
  • وَالْمُسْتَضْعَفِينَ — এবং দুর্বল-নির্যাতিতদের (মুক্তির) জন্য।
  • الْوِلْدَانِ — শিশুদের।
  • الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا — সেই জনপদ যার অধিবাসীরা অত্যাচারী।
  • وَلِيًّا — অভিভাবক/রক্ষক।
  • نَصِيرًا — সাহায্যকারী/সমর্থক।

তাফসীর:

হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে কী阻止 করছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে না? অথচ এমন অনেক দুর্বল-নির্যাতিত মানুষ আছে—পুরুষ, নারী ও শিশু—যাদের পক্ষে তোমাদের সাহায্য করা জরুরি। তারা মক্কায় আটকা পড়ে আছে, মুশরিকরা তাদের ওপর অত্যাচার করছে, হিজরত করতে দিচ্ছে না, ধর্ম পালনে বাধা দিচ্ছে। তাদের কোনো উপায় নেই, কোনো সাহায্যকারীও নেই। তারা শুধু আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানিয়ে বলে: "হে আমাদের রব! আমাদেরকে এই অত্যাচারী জনপদ থেকে বের করে নাও। এখানকার অধিবাসীরা আমাদের প্রতি চরম জুলুম করছে। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এমন একজন অভিভাবক নিযুক্ত করো, যে আমাদের দেখাশোনা করবে এবং আমাদের জন্য এমন একজন সাহায্যকারী পাঠাও, যে আমাদের ওপর অত্যাচারকারীদের বিরুদ্ধে রক্ষা করবে।"

আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে এই দুর্বল-নির্যাতিতদের উদ্ধারের জন্য যুদ্ধ করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তাদের এই দোয়ার কথা উল্লেখ করে মুমিনদের অন্তরকে উদ্বুদ্ধ করছেন। এই আয়াত নাযিলের পর আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে এই দোয়ার উত্তর দেন এবং তাদের জন্য অভিভাবক ও সাহায্যকারী নিযুক্ত করেন।


শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. ইসলাম শুধু নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য সংগ্রাম শেখায় না, বরং অন্যায়ের শিকার দুর্বল-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোও ঈমানের দাবি। যে সমাজে নির্যাতিতদের কণ্ঠস্বর নেই, সেখানে সত্যিকারের মুমিনের কর্তব্য হলো তাদের পক্ষে রুখে দাঁড়ানো।
  2. দুর্বল ও অসহায় মানুষের দোয়া আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। তাদের ফরিয়াদ আল্লাহ কখনো ফিরিয়ে দেন না। তাই আমাদের উচিত নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কষ্ট অনুভব করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা।
  3. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। যখন মানুষ সব উপায় হারিয়ে ফেলে, তখন আল্লাহই একমাত্র ভরসাস্থল। তিনি তার বান্দাদের জন্য অভিভাবক ও সাহায্যকারী নিযুক্ত করেন, যেমনটি মক্কার মুস্তাজাফিনদের ক্ষেত্রে করেছেন।
  4. এই আয়াত থেকে আমরা শিখি যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য নয়। যেখানে ইসলাম ও মুসলমানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে, সেখানে প্রাণ ও সম্পদ দিয়ে হলেও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো জরুরি।
  5. সমাজের দুর্বল শ্রেণি—নারী, শিশু, বৃদ্ধ—যাদের কেউ সাহায্য করে না, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।


📜 আয়াত 73-77 — সূরা আন-নিসা

73وَلَئِنْ أَصَابَكُمْ فَضْلٌ مِّنَ اللَّهِ لَيَقُولَنَّ كَأَن لَّمْ تَكُن بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ مَوَدَّةٌ يَا لَيْتَنِي كُنتُ مَعَهُمْ فَأَفُوزَ فَوْزًا عَظِيمًا
পক্ষান্তরে তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহ আসলে তারা এমন ভাবে বলতে শুরু করবে যেন তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্যে কোন মিত্রতাই ছিল না। (বলবে) হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তাহলে আমি ও যে সফলতা লাভ করতাম।
74۞ فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
কাজেই আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জেহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর রাহে লড়াই করে এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপুণ্য দান করব।
75وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا
আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।
76الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ ۖ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
যারা ঈমানদার তারা যে, জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।
77أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةً ۚ وَقَالُوا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا الْقِتَالَ لَوْلَا أَخَّرْتَنَا إِلَىٰ أَجَلٍ قَرِيبٍ ۗ قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِّمَنِ اتَّقَىٰ وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلًا
তুমি কি সেসব লোককে দেখনি, যাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা নিজেদের হাতকে সংযত রাখ, নামায কায়েম কর এবং যাকাত দিতে থাক? অতঃপর যখন তাদের প্রতি জেহাদের নির্দেশ দেয়া হল, তৎক্ষণাৎ তাদের মধ্যে একদল লোক মানুষকে ভয় করতে আরম্ভ করল, যেমন করে ভয় করা হয় আল্লাহকে। এমন কি তার চেয়েও অধিক ভয়। আর বলতে লাগল, হায় পালনকর্তা, কেন আমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করলে! আমাদেরকে কেন আরও কিছুকাল অবকাশ দান করলে না। ( হে রসূল) তাদেরকে বলে দিন, পার্থিব ফায়দা সীমিত। আর আখেরাত পরহেযগারদের জন্য উত্তম। আর তোমাদের অধিকার একটি সূতা পরিমান ও খর্ব করা হবে না।
আন-নিসাকুরআন সূচী
176আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
75আয়াত

অনুবাদ — আন-নিসা 75

সূরা আন-নিসা আয়াত 75 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ…

সূরা আয়াত 75/176 — সূরা আন-নিসা النساء (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আন-নিসা শুনুন, সূরা আন-নিসা অনুবাদ, সূরা আন-নিসা mp3, সূরা আন-নিসা pdf. আয়াত 73–77. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না