ফুসসিলাত · 37/54
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা ফুসসিলাত
وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ۚ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ ۝٣٧
Wa min Aayaatihil lailu wannahaaru washshamsu walqamar; laa tasjudoo lishshamsi wa laa lilqamari wasjudoo lillaahil lazee khala qahunna in kuntum iyyaahu ta`budoon
📖 বাংলা অর্থ
তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • آيَاتِهِ – তাঁর নিদর্শনসমূহ (প্রমাণ ও চিহ্ন)।
  • خَلَقَهُنَّ – যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন (এখানে ‘হুন্না’ সর্বনাম দ্বারা রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্রের প্রতি ইঙ্গিত)।
  • تَعْبُدُونَ – তোমরা ইবাদত করো (দাসত্ব ও উপাসনা)।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ ও পরিপূর্ণ ক্ষমতার অসংখ্য প্রমাণের মধ্যে একটি হলো রাত ও দিনের পরিবর্তন এবং সূর্য ও চন্দ্রের আবির্ভাব ও অস্ত যাওয়া। এগুলো তাঁরই আদেশে পরিচালিত, তাঁরই নিয়ন্ত্রণে আবর্তিত। রাত আসে অন্ধকার নিয়ে, দিন আসে আলো নিয়ে; সূর্য উদিত হয় পূর্ব দিকে, অস্ত যায় পশ্চিমে; চন্দ্র কখনো পূর্ণ হয়, কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়—এই সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও হুকুমের অধীনে। এগুলো কোনো স্বাধীন শক্তি নয়, বরং সৃষ্ট বস্তু, তাঁরই অনুগত।

অতএব, হে মানুষ! তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চন্দ্রকেও সিজদা করো না। কারণ তারা তোমাদের মতোই সৃষ্ট, তাদের কোনো ইবাদতের যোগ্যতা নেই। বরং সিজদা করো সেই আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যিনি এগুলোর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। যদি তোমরা সত্যিই তাঁরই ইবাদতকারী হয়ে থাকো, তবে তাঁরই সামনে নত হও, তাঁরই জন্য সিজদা করো। সিজদা হলো ইবাদতের সর্বোচ্চ প্রকাশ, তাই তা কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত।

শিক্ষা ও উপকারিতা:

  1. মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্ববাদের জীবন্ত প্রমাণ। তাই প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে আমরা আল্লাহর অস্তিত্ব ও মহিমা উপলব্ধি করতে পারি।
  2. সৃষ্টি জগতের কোনো কিছু—যত বড় বা উজ্জ্বলই হোক না কেন—ইবাদতের যোগ্য নয়। ইবাদত কেবলমাত্র স্রষ্টার প্রাপ্য।
  3. সিজদা হলো বান্দার আল্লাহর নিকটতম অবস্থান এবং আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত প্রকাশ। এটি কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই সংরক্ষিত।
  4. এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত মুমিনের চরিত্র হলো আল্লাহর আদেশের সামনে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা, কোনো সৃষ্টিকে আল্লাহর সাথে শরিক না করা।
  5. আল্লাহর সৃষ্টির নিয়ম-নীতির প্রতি লক্ষ্য করলে আমাদের ঈমান মজবুত হয় এবং আমরা তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে উঠি।


📜 আয়াত 35-39 — সূরা ফুসসিলাত

35وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ
এ চরিত্র তারাই লাভ করে, যারা সবর করে এবং এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা অত্যন্ত ভাগ্যবান।
36وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
যদি শয়তানের পক্ষ থেকে আপনি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব করেন, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হোন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
37وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ۚ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর।
38فَإِنِ اسْتَكْبَرُوا فَالَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْأَمُونَ ۩
অতঃপর তারা যদি অহংকার করে, তবে যারা আপনার পালনকর্তার কাছে আছে, তারা দিবারাত্রি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না।
39وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ ۚ إِنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَمُحْيِي الْمَوْتَىٰ ۚ إِنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখবে অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন তার উপর বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন সে শস্যশ্যামল ও স্ফীত হয়। নিশ্চয় যিনি একে জীবিত করেন, তিনি জীবিত করবেন মৃতদেরকেও। নিশ্চয় তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।
ফুসসিলাতকুরআন সূচী
54আয়াত
মাক্কীঅবতরণস্থান
37আয়াত

অনুবাদ — ফুসসিলাত 37

সূরা ফুসসিলাত আয়াত 37 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা…

সূরা আয়াত 37/54 — সূরা ফুসসিলাত فصلت (মাক্কী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা ফুসসিলাত শুনুন, সূরা ফুসসিলাত অনুবাদ, সূরা ফুসসিলাত mp3, সূরা ফুসসিলাত pdf. আয়াত 35–39. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Monday, September 28, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না