Wa min Aayaatihil lailu wannahaaru washshamsu walqamar; laa tasjudoo lishshamsi wa laa lilqamari wasjudoo lillaahil lazee khala qahunna in kuntum iyyaahu ta`budoon
📖 অনুবাদ (বাংলা অর্থ)
📖 বাংলা অর্থ
তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর।
🌐 Additional reference in हिन्दी
🌐 हिन्दी
और उसकी (कुदरत की) निशानियों में से रात और दिन और सूरज और चाँद हैं तो तुम लोग न सूरज को सजदा करो और न चाँद को, और अगर तुम ख़ुदा ही की इबादत करनी मंज़ूर रहे तो बस उसी को सजदा करो जिसने इन चीज़ों को पैदा किया है
তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর।
📜
অনুবাদ — Tafsir
শব্দার্থ:
آيَاتِهِ – তাঁর নিদর্শনসমূহ (প্রমাণ ও চিহ্ন)।
خَلَقَهُنَّ – যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন (এখানে ‘হুন্না’ সর্বনাম দ্বারা রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্রের প্রতি ইঙ্গিত)।
تَعْبُدُونَ – তোমরা ইবাদত করো (দাসত্ব ও উপাসনা)।
তাফসীর:
আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ ও পরিপূর্ণ ক্ষমতার অসংখ্য প্রমাণের মধ্যে একটি হলো রাত ও দিনের পরিবর্তন এবং সূর্য ও চন্দ্রের আবির্ভাব ও অস্ত যাওয়া। এগুলো তাঁরই আদেশে পরিচালিত, তাঁরই নিয়ন্ত্রণে আবর্তিত। রাত আসে অন্ধকার নিয়ে, দিন আসে আলো নিয়ে; সূর্য উদিত হয় পূর্ব দিকে, অস্ত যায় পশ্চিমে; চন্দ্র কখনো পূর্ণ হয়, কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়—এই সবই আল্লাহর ইচ্ছা ও হুকুমের অধীনে। এগুলো কোনো স্বাধীন শক্তি নয়, বরং সৃষ্ট বস্তু, তাঁরই অনুগত।
অতএব, হে মানুষ! তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চন্দ্রকেও সিজদা করো না। কারণ তারা তোমাদের মতোই সৃষ্ট, তাদের কোনো ইবাদতের যোগ্যতা নেই। বরং সিজদা করো সেই আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যিনি এগুলোর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। যদি তোমরা সত্যিই তাঁরই ইবাদতকারী হয়ে থাকো, তবে তাঁরই সামনে নত হও, তাঁরই জন্য সিজদা করো। সিজদা হলো ইবাদতের সর্বোচ্চ প্রকাশ, তাই তা কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত।
শিক্ষা ও উপকারিতা:
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্ববাদের জীবন্ত প্রমাণ। তাই প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে আমরা আল্লাহর অস্তিত্ব ও মহিমা উপলব্ধি করতে পারি।
সৃষ্টি জগতের কোনো কিছু—যত বড় বা উজ্জ্বলই হোক না কেন—ইবাদতের যোগ্য নয়। ইবাদত কেবলমাত্র স্রষ্টার প্রাপ্য।
সিজদা হলো বান্দার আল্লাহর নিকটতম অবস্থান এবং আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত প্রকাশ। এটি কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই সংরক্ষিত।
এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত মুমিনের চরিত্র হলো আল্লাহর আদেশের সামনে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা, কোনো সৃষ্টিকে আল্লাহর সাথে শরিক না করা।
আল্লাহর সৃষ্টির নিয়ম-নীতির প্রতি লক্ষ্য করলে আমাদের ঈমান মজবুত হয় এবং আমরা তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে উঠি।
তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তাঁরই এবাদত কর।
তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তুমি ভূমিকে দেখবে অনুর্বর পড়ে আছে। অতঃপর আমি যখন তার উপর বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন সে শস্যশ্যামল ও স্ফীত হয়। নিশ্চয় যিনি একে জীবিত করেন, তিনি জীবিত করবেন মৃতদেরকেও। নিশ্চয় তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।
সূরাকুরআন ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর সেবা, আল্লাহর দিকে দাওয়াত এবং কুরআন-সুন্নাহর মানহাজে দ্বীনি ইলম সহজলভ্য করার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা হিসেবে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কাজ কবুল করেন এবং তা একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ করেন।