আল-মায়িদা · 12/120
অনুবাদ উচ্চারণ — সূরা আল-মায়িদা
۞ وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيبًا ۖ وَقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ ۖ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنتُم بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُوهُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا لَّأُكَفِّرَنَّ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَلَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۚ فَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ ۝١٢
Wa laqad akhazal laahu meesaaqa Banee Israaa`eela wa ba`sanaa minhumus ani `ashara naqeebanw wa qaalal laahu innee ma`akum la`in aqamtumus Salaata wa aataitumuz Zakaata wa aamantum bi Rusulee wa`azzartumoohum wa aqradtumul laaha qardan hasanal la ukaffiranna `ankum saiyiaatikum wa la udkhilan nakum Jannaatin tajree min tahtihal anhaar; faman kafara ba`da zaalika minkum faqad dalla sawaaa`as Sabeel
📖 বাংলা অর্থ
আল্লাহ বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য থেকে বার জন সর্দার নিযুক্ত করেছিলাম। আল্লাহ বলে দিলেনঃ আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। যদি তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর, যাকাত দিতে থাক, আমার পয়গম্বরদের প্রতি বিশ্বাস রাখ, তাঁদের সাহায্য কর এবং আল্লাহকে উত্তম পন্থায় ঋন দিতে থাক, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের গোনাহ দুর করে দিব এবং অবশ্যই তোমাদেরকে উদ্যান সমূহে প্রবিষ্ট করব, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে নিঝরিনীসমূহ প্রবাহিত হয়। অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এরপরও কাফের হয়, সে নিশ্চিতই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।

M Mishary Rashid Alafasy ✓
M Mahmoud Khalil Al-Husary ✓
A Abdurrahman As-Sudais ✓
M Mohamed Siddiq Al-Minshawi ✓
A Abdul Basit Abdul Samad ✓
A Ali Al-Hudhaify ✓
A Ahmed ibn Ali al-Ajamy ✓
A Abu Bakr Ash-Shaatree ✓
M Muhammad Ayyoub ✓
A Abdullah Basfar ✓
A Abdullah Al-Juhani ✓
M Maher Al Muaiqly ✓
0:00
0:00
📜

অনুবাদ — Tafsir

শব্দার্থ:

  • ميثاق – দৃঢ় অঙ্গীকার, চুক্তি।
  • نقيب – দলনেতা, প্রতিনিধি, যে দলের খবরাখবর রাখে এবং তাদের দায়িত্ব বহন করে।
  • عزرتموهم – তাদের সম্মান ও সাহায্য করা, তাদের মর্যাদা দেওয়া।
  • قرضًا حسنًا – উত্তম ঋণ, অর্থাৎ আল্লাহর পথে খরচ করা।
  • سواء السبيل – সরল ও সঠিক পথ।

তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর বিধান মেনে চলবে। সেই অঙ্গীকারকে সুসংহত করার জন্য আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে নির্দেশ দেন তাদের বারোটি গোত্র বা শাখা অনুযায়ী বারোজন নেতা (নকীব) নিযুক্ত করতে, যারা তাদের সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল হবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ-নিষেধ মানার ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করবে।

এরপর আল্লাহ বনি ইসরাঈলকে বলেন: “আমি তোমাদের সাথে আছি” অর্থাৎ তোমরা যদি আমার নির্দেশ পালন কর, তবে আমি তোমাদের সাহায্য ও রক্ষা করব। শর্ত হলো—তোমরা সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, আমার সকল রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে, তাদের সম্মান ও সাহায্য করবে এবং আল্লাহর পথে উত্তমভাবে খরচ করবে (অর্থাৎ নেক কাজে অর্থ ব্যয় করবে)। যদি তোমরা এই শর্তগুলো পূরণ কর, তবে আমি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করাব যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে।

অতঃপর আল্লাহ সতর্ক করে দেন যে, এই অঙ্গীকার ও স্পষ্ট নির্দেশের পরও যদি কেউ কুফরি করে বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তবে সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পথভ্রষ্টতার মধ্যে নিপতিত হবে। কারণ তার কাছে সত্য স্পষ্টভাবে পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু সে তা অমান্য করল।

শিক্ষা ও উপদেশ:

  1. আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুমিনের উচিত আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করা এবং তা ভঙ্গ করা থেকে বিরত থাকা।
  2. সালাত ও যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এ দুটি আদায় করলে আল্লাহর সাহায্য ও রহমত লাভ হয়।
  3. আল্লাহর রাসূলগণকে সম্মান করা, তাদের প্রতি ঈমান আনা এবং তাদের সাহায্য করা মুমিনের কর্তব্য। কোনো রাসূলের মধ্যে পার্থক্য করা জায়েয নয়।
  4. আল্লাহর পথে খরচ করা একটি উত্তম ঋণ, যা আল্লাহ নিজে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি কখনো নষ্ট হয় না, বরং আল্লাহ এর বিনিময়ে বহুগুণ পুরস্কার দেন।
  5. আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অটল—যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাত দেওয়া হবে। এটি মুমিনের জন্য অত্যন্ত সুসংবাদ।
  6. সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তা অমান্য করা এবং পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই আমাদের উচিত সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকা।


📜 আয়াত 10-14 — সূরা আল-মায়িদা

10وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার দোযখী।
11يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ هَمَّ قَوْمٌ أَن يَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ فَكَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنكُمْ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
হে মুমিনগণ, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন এক সম্প্রদায় তোমাদের দিকে স্বীয় হস্ত প্রসারিত করতে সচেষ্ট হয়েছিল, তখন তিনি তাদের হস্ত তোমাদের থেকে প্রতিহত করে দিলেন। আল্লাহকে ভয় কর এবং মুমিনদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
12۞ وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيبًا ۖ وَقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ ۖ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنتُم بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُوهُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا لَّأُكَفِّرَنَّ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَلَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۚ فَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ
আল্লাহ বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য থেকে বার জন সর্দার নিযুক্ত করেছিলাম। আল্লাহ বলে দিলেনঃ আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। যদি তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর, যাকাত দিতে থাক, আমার পয়গম্বরদের প্রতি বিশ্বাস রাখ, তাঁদের সাহায্য কর এবং আল্লাহকে উত্তম পন্থায় ঋন দিতে থাক, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের গোনাহ দুর করে দিব এবং অবশ্যই তোমাদেরকে উদ্যান সমূহে প্রবিষ্ট করব, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে নিঝরিনীসমূহ প্রবাহিত হয়। অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এরপরও কাফের হয়, সে নিশ্চিতই সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।
13فَبِمَا نَقْضِهِم مِّيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً ۖ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ ۙ وَنَسُوا حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ ۚ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَىٰ خَائِنَةٍ مِّنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ۖ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
অতএব, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন আমি তাদের উপর অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা কালামকে তার স্থান থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা তা থেকে উপকার লাভ করার বিষয়টি বিস্মৃত হয়েছে। আপনি সর্বদা তাদের কোন না কোন প্রতারণা সম্পর্কে অবগত হতে থাকেন, তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া। অতএব, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।
14وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَىٰ أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ۚ وَسَوْفَ يُنَبِّئُهُمُ اللَّهُ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ
যারা বলেঃ আমরা নাছারা, আমি তাদের কাছ থেকেও তাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। অতঃপর তারাও যে উপদেশ প্রাপ্ত হয়েছিল, তা থেকে উপকার লাভ করা ভুলে গেল। অতঃপর আমি কেয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি। অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।
আল-মায়িদাকুরআন সূচী
120আয়াত
মাদানীঅবতরণস্থান
12আয়াত

অনুবাদ — আল-মায়িদা 12

সূরা আল-মায়িদা আয়াত 12 - পড়ুন, শুনুন, অনুবাদ, বাংলা : আল্লাহ বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য…

সূরা আয়াত 12/120 — সূরা আল-মায়িদা المائدة (মাদানী). পড়ুন শুনুন অনুবাদ (বাংলা). শুনুন: সূরা আল-মায়িদা শুনুন, সূরা আল-মায়িদা অনুবাদ, সূরা আল-মায়িদা mp3, সূরা আল-মায়িদা pdf. আয়াত 10–14. বাংলা অর্থ: हिन्दी.





পবিত্র কুরআন


Tuesday, September 29, 2026

আপনার নেক দোয়ায় আমাদের ভুলে যাবেন না